সকাল নারায়ণগঞ্জঃ
নিজস্ব প্রতিবেদক:
চট্টগ্রামে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, অবৈধ অস্ত্রধারী চক্র ও সংঘবদ্ধ অপরাধ দমনে পরিচালিত ধারাবাহিক বিশেষ অভিযানে বড় ধরনের সাফল্য পেয়েছে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। অভিযানে আলোচিত এক শীর্ষ সন্ত্রাসীর দুই ঘনিষ্ঠ সহযোগীকে গ্রেপ্তারের পাশাপাশি একটি বিদেশি পিস্তল, একটি ম্যাগাজিন এবং দুই রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়েছে।
চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ জানায়, জেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিতে আধুনিক প্রযুক্তি, গোয়েন্দা তথ্য, সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ ও পেশাদার কৌশলের সমন্বয়ে নিয়মিত বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।
পুলিশের তথ্যমতে, গত ১৩ জুন ২০২৬ চট্টগ্রাম মহানগরের পাহাড়তলী এলাকায় সংঘটিত বহুল আলোচিত মাকসুদুল হক চৌধুরী হত্যা মামলার তদন্তে নেমে ঘটনাস্থল ও আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ, প্রযুক্তিগত তথ্য এবং গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষণের মাধ্যমে হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের পরিচয় শনাক্ত করা হয়।
এর ধারাবাহিকতায় ২ আগস্ট সন্ধ্যা ৭টার দিকে সীতাকুণ্ড থানার শীতলপুর এলাকায় শাহ আমিন উল্লাহ ফিলিং স্টেশনের সামনে স্থাপিত একটি বিশেষ চেকপোস্টে অভিযান চালিয়ে হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি এবং আলোচিত শীর্ষ সন্ত্রাসী রায়হানের ঘনিষ্ঠ সহযোগী মো. দিদার আলম (৩০) ও মো. আফসার মিয়া (৩০)-কে গ্রেপ্তার করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশ জানতে পারে, গ্রেপ্তারকৃতরা দীর্ঘদিন ধরে রাউজান, রাঙ্গুনিয়া ও আশপাশের এলাকায় সংঘবদ্ধ সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড, চাঁদাবাজি, আধিপত্য বিস্তারসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ছিলেন।
পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তারকৃত দিদার আলমের বিরুদ্ধে হত্যা, অস্ত্র, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডসহ বিভিন্ন অভিযোগে ১০টি মামলা এবং আফসার মিয়ার বিরুদ্ধে একই ধরনের অভিযোগে ৬টি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। এছাড়া চট্টগ্রাম মহানগর ও জেলার বিভিন্ন আলোচিত অপরাধেও তাদের সম্পৃক্ততার তথ্য তদন্তে উঠে এসেছে বলে জানানো হয়েছে।
গ্রেপ্তারকৃতদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ৩ আগস্ট রাত ২টা ৪০ মিনিটে রাউজান উপজেলার পূর্ব রাউজান (জুরুলকুল) এলাকায় অভিযান চালানো হয়। সেখানে একটি বসতঘরের পেছনে সেফটি ট্যাংকের পাশে মাটির নিচে পুঁতে রাখা একটি সাদা প্লাস্টিকের বস্তা থেকে পলিথিনে মোড়ানো অবস্থায় একটি বিদেশি পিস্তল, একটি ম্যাগাজিন এবং ৭ দশমিক ৬৫ ক্যালিবারের দুই রাউন্ড গুলি উদ্ধার করে পুলিশ।
চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ জানিয়েছে, সন্ত্রাস, অবৈধ অস্ত্র, চাঁদাবাজি ও সংঘবদ্ধ অপরাধের বিরুদ্ধে অভিযান ভবিষ্যতেও আরও জোরদার করা হবে। জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গোয়েন্দা তথ্যভিত্তিক অভিযান এবং প্রযুক্তিনির্ভর অনুসন্ধান অব্যাহত থাকবে বলেও জানিয়েছে পুলিশ।
গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।