আন্তর্জাতিক ডেস্ক, সকাল নারায়ণগঞ্জ:
কোরিয়ার যুদ্ধ ও বিভাজনের ইতিহাস বহনকারী স্মৃতিচিহ্নগুলোকে কেন্দ্র করে বিশ্বজুড়ে শান্তির সংস্কৃতি ছড়িয়ে দিতে সিউলে একত্রিত হয়েছিলেন বিশ্বের ৪৩টি দেশের যুব প্রতিনিধিরা। জাতিসংঘের অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদ (ECOSOC)-এর বিশেষ পরামর্শক মর্যাদাপ্রাপ্ত আন্তর্জাতিক শান্তি সংস্থা ‘হেভেনলি কালচার, ওয়ার্ল্ড পিস, রিস্টোরেশন অব লাইট’ (HWPL)-এর উদ্যোগে সম্প্রতি (১৭-১৯ সেপ্টেম্বর) তিন দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত হলো “HWPL International Youth Peace Program”।
“We, the Living Legacy of Peace” (আমরা শান্তির জীবন্ত উত্তরাধিকার) শীর্ষক এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে পুরো কর্মসূচিটি তিনটি প্রধান ধাপে পরিচালনা করা হয়— ‘আবিষ্কার’ (Discover), ‘শেখা’ (Learn) এবং ‘কর্মে পরিণত করা’ (Act)।
প্রথম দিন: যুদ্ধের ক্ষত ও সংস্কৃতির মধ্য দিয়ে শান্তির অন্বেষণ (Discover)
কর্মসূচির প্রথম দিন ১৭ সেপ্টেম্বর তরুণ প্রতিনিধিরা ‘ওয়ার অরিজিনাল অব কোরিয়া’ (War Memorial of Korea) পরিদর্শন করেন। সেখানে কোরিয়ান যুদ্ধ কক্ষ, জাতিসংঘ স্তম্ভ ও সহোদরদের ভাস্কর্য পরিদর্শনের মাধ্যমে যুদ্ধের ভয়াবহতা এবং তরুণ প্রজন্মের ওপর এর দীর্ঘমেয়াদী ক্ষত অনুধাবন করেন তারা।
ফিজির ন্যাশনাল ইউথ কাউন্সিলের চেয়ারওম্যান লাইসানি সেপো বলেন, “যুদ্ধের ইতিহাস আমাদের শেখায় কীভাবে কঠিন পরিস্থিতিতেও শান্তির পক্ষে শক্ত অবস্থান নিতে হয়।”
পরবর্তীতে প্রতিনিধিরা ঐতিহ্যবাহী ইনসাদং, গওয়াংহামুন ও ঐতিহাসিক গিয়ংবকগুং প্রাসাদ পরিদর্শন করেন। সেখানে রাজত্বকালের জ্ঞান, রাজা সেজং দ্য গ্রেটের হানগুল বর্ণমালা সৃষ্টি এবং ঐতিহ্যবাহী সংস্কৃতির মেলবন্ধন থেকে পাঁচটি মূল মূল্যবোধ— উত্তরাধিকার, সম্মান, দায়িত্ব, পরিবর্তন ও সম্প্রীতির অর্থ খুঁজে নেন তরুণরা। ইরাকের পাবলিক এইড অর্গানাইজেশনের প্রোগ্রাম ডিরেক্টর আলওয়ান্দ তালাত জানান, বিভিন্ন ধর্ম ও দেশের তরুণদের জন্য অন্তর্ভুক্তিমূলক পরিবেশে অভিজ্ঞতা বিনিময়ের এমন আয়োজন বিশ্বশান্তিতে বড় ভূমিকা রাখবে।
দ্বিতীয় দিন: ধর্মীয় সম্প্রীতি ও সংঘাত নিরসনের শিক্ষা (Learn)
১৮ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত ‘লার্ন’ পর্বে “শান্তির সংস্কৃতি ছড়িয়ে দিতে যুবসমাজের ভূমিকা” শীর্ষক রাউন্ডটেবিল বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে ‘ডিক্লারেশন অব পিস অ্যান্ড সেশন অব ওয়ার’ (DPCW)-এর ৮, ৯ ও ১০ নম্বর অনুচ্ছেদের ভিত্তিতে আলোচনা করা হয়, যেখানে ধর্মীয় বা জাতিগত পরিচয়কে কেন্দ্র করে সহিংসতা প্রতিরোধ ও শান্তির নীতিমালা তুলে ধরা হয়। এছাড়া ‘ইন্টারন্যাশনাল রিলিজিয়াস পিস একাডেমি’র অধীনে বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান, ইসলাম, হিন্দু ও কনফুসীয় ধর্মের মূল বাণী নিয়ে আলোচনা করেন প্রতিনিধিরা।
তৃতীয় দিন: পরিকল্পনা থেকে বাস্তবায়ন (Act)
শেষ দিন ১৯ সেপ্টেম্বর ইউথ এনগেজমেন্ট অ্যান্ড পিসবিল্ডিং ওয়ার্কিং গ্রুপ (YEPW)-এর মাধ্যমে যুব নেতারা ২০২৭ সালের কর্মপরিকল্পনা ও নিজ নিজ দেশে শান্তি প্রতিষ্ঠার কৌশল নির্ধারণ করেন।
অনুষ্ঠানে HWPL-এর মহাসচিব কিম তাই-হো বলেন, “শান্তি শুধু গ্রহণের বিষয় নয়, এটি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের হাতে তুলে দেওয়ার দায়িত্ব। যুব নেতারাই এই পরিবর্তনের মূল কারিগর।” অন্যদিকে বেলজিয়ামের মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সারাহ ভারমাউট অনুভূতি ব্যক্ত করে বলেন, “আমরা তরুণরা যদি ভাবি ‘আমাদের কথা কে শুনবে’, তবে পরিবর্তন আসবে না। নিজেদেরই এগিয়ে আসতে হবে।”
তিন দিনের এই আন্তর্জাতিক সম্মেলন থেকে বার্তা দেওয়া হয় যে—শান্তি শুধু একটি তত্ত্বীয় ধারণা নয়; বরং জ্ঞান, পারস্পরিক সম্মান ও বাস্তবভিত্তিক কর্মপরিকল্পনার মাধ্যমেই কেবল বিশ্বে টেকসই শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব।