নারায়ণগঞ্জ রাইস সাইলো এবং প্রিমিক্স কার্নেল ফ্যাক্টরি নির্মাণ কাজ এর ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন

সকাল নারায়ণগঞ্জঃ

নারায়ণগঞ্জ রাইস সাইলো এবং প্রিমিক্স কার্নেল ফ্যাক্টরি নির্মাণ কাজ এর ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন উদ্বোধন করেছেন খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার এমপি। 


রোববার (১৪ নভেম্বর) দুপুর বন্দরের নবীগঞ্জের সিএসডি ক্যাম্পাসে নারায়ণগঞ্জ রাইস সাইলো এবং প্রিমিক্স কার্নেল ফ্যাক্টরি নির্মাণ কাজ এর ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করা হয়।


খাদ্য অধিদপ্তরের মালিকানাধীন স্টিলের কাঠামোর এই গুদামটি নির্মাণ করবে কনফিডেন্স গ্রুপের অঙ্গ প্রতিষ্ঠান কনফিডেন্স ইনফ্রাস্ট্রাকচার লিমিটেড।

বর্তমানে দেশে স্টিলের কাঠামোর এ ধরণের তিনটি খাদ্যগুদাম নির্মাণাধীন রয়েছে। এর মধ্যে নারায়ণগঞ্জেরটি হবে চতুর্থ খাদ্যগুদাম। গুদামটির ধারণ ক্ষমতা প্রায় ৪৮ হাজার মেট্রিক টন চাউল।


এর প্রকল্প ব্যয়ধরা হয়েছে ৩ কোটি ২২ লাখ ৭৬ হাজার ১০২ মার্কিন ডলার এবং বাস্তবায়নের সময়কাল ধরা হয়েছে দুই বছর (১৪ সেপ্টেম্বর ২০২১ থেকে ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৩)।


এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার। বিশেষ অতিথি  ছিলেন, পাট ও বস্ত্র মন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী ও নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের এমপি শামীম ওসমান।


এসময় ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার এমপি বলেন, নারায়ণগঞ্জের সাইলোর ব্যয় হবে ৩২০ কোটি ২৩ লাখ ৪৯ হাজার ৪০ টাকা। ১৭ একর জায়গায় নির্মাণাধীন স্টীল রাইস সাইলোতে স্বয়ংক্রিয়ভাবে আর্দ্রতা ও তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে দুই থেকে ৩ বছর পর্যন্ত ৪৮ হাজার মেট্রিক টন চাউল সহ খাদ্যশষ্য সংরক্ষণ করা যাবে। এটি প্রধানমন্ত্রীর উল্লেখযোগ্য প্রকল্প। এটি একটি নয় ৮টি। একটি ময়মনসিংহে, মধুপুরে, একটি আশুগঞ্জে। এগুলোর কাজ প্রায় ৭৫ শতাংশ শেষ হয়েছে। আমরা খুব শিঘ্রই এগুলো চালু করবো। আর নারায়ণগঞ্জ, বরিশাল, খুলনা, নওগা এবং চট্টগ্রাম। বরিশালে কাজ শুরু হয়েছে, নারায়ণগঞ্জে আজকে শুরু করেছি। বাকিগুলো শুরু হবে।’


তিনি আরও বলেন, ‘খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির কার্ডগুলো আমরা ডিজিটাল করার চেষ্টা করছি। যার মাধ্যমে যার কার্ড সে নিয়ে যেন চাল তুলতে পারে, অন্য কেউ যেন তুলতে না পারে সেই ব্যবস্থা করছি। সকল গোডাউনগুলো ডিজিটাল করছি। যাতে ঘরে বসে আমরা সব তথ্য পেতে পারি।’


মন্ত্রী বলেন, ‘যে যেখানে আছেন, যেই চাকরি করেন, আমরা রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, শিক্ষকরা, নির্বাচিত প্রতিনিধিরা, সরকারি চাকরিজীবীরা নিজের জায়গা থেকে সবাই মিলে সততা ও নিষ্ঠার সাথে বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ও শেখ হাসিনার নির্দেশনা মেনে আমরা যদি কাজ করি তবে সুখি সমৃদ্ধশালী দেশ হতে ২০৪১ সাল নয় ২০৩১ সালের মধ্যেই এটা সম্ভব বলে আমি মনে করি। সেই লক্ষ্য নিয়েই আমরা কাজ করে যাচ্ছি।’


বিশেষ অতিথির বক্তব্যে এমপি শামীম ওসমান বলেন, ষড়যন্ত্র চলছে, সামনে হয়তো অনেক বড় পরীক্ষা আমাদেরকে দিতে হবে। সবাই শুধু বলি আপা আছে ,আপা আছে। আমি একটা কথা বলতে চাই সামনে কঠিন সময়। সরকারী প্রশাসনের লোকদের বলতে চাই চেয়ার কিছু আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের জন্য রাইখেন। কারণ রক্ত তারাই দেবে অন্য কেউ দেবে না। লড়াই তারাই করবে, আঘাত যখন আসবে প্রতিঘাত তারাই করবে , অন্য কেউ করবে না। এটাই স্বাভাবিক। একাত্তরের মুক্তিযোদ্ধা গাজী ভাই আপনি এখানে আছেন, মুক্তিযোদ্ধা বীর প্রতীক আপনি। একাত্তরের মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মান দেওয়া হয়েছে।

মুক্তিযোদ্ধাদের যে তালিকা তা এখনো পরিপূর্ণ করা হয়নি। অনেক ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা, নারায়ণগঞ্জেও আছে, আপনার (গাজী) এলাকায়ও আছে। পচাত্তর পরবর্তীতে নূর হোসেনসহ যারা এদেশের গণতন্ত্র রক্ষার জন্য জীবন দিয়েছেন তাদের অনুদান না দেওয়া হলেও তাদের নামের তালিকা করে প্রকাশ করা হোক। তা না হলে দূর একদিন তাদের নাম সন্ত্রাসীদের তালিকা চলে যাবে।


শামীম ওসমান আরও বলেন, নারায়ণগঞ্জের মাটিতে ৪৯ জন ছেলের লাশ আমরা মাটিতে দাফন করেছি। আমার ছোট্ট ভাই মনির ২১ দিন আগে তার বিয়ে হয়েছিলো। তার বুকের মধ্যে গুলি করা হয়েছিলো। শুধু শ্লোগান দিয়েছিলো জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু। লাশটা পর্যন্ত দাফন করতে পারি নাই। চাষাঢ়া রাস্তার মোড়ে পাপ্পুকে হত্যা করা হয়েছিলো। গাজী ভাই আপনার এলাকাতেও অবশ্যই ওই অবস্থা হয়েছিলো, আপনি তখন এসেছিলেন।


জেলা প্রশাসক মোস্তাইন বিল্লাহর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন খাদ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (গ্রেড-১) শেখ মুজিবর রহমান। আরো উপস্থিত ছিলেন খাদ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. মোছাম্মাৎ নাজমানারা খানুম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) মোস্তাফিজুর রহমান প্রমুখ।