সকাল নারায়ণগঞ্জঃ
পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের ১২ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর ও মহানগর বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক শওকত হাসেম শকুর উদ্যোগে শ্রমজীবী, অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের মাঝে উন্নতমানের খাবার বিতরণ করা হয়েছে।
মানবিক ও ধর্মীয় চেতনায় আয়োজিত এ কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান।
এ ছাড়া অনুষ্ঠানে বিশেষভাবে উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের ১৩ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হীরা সরদার। কর্মসূচিতে এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) মুসলিম উম্মাহর জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও মর্যাদাপূর্ণ একটি দিন। মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জন্ম ও জীবনাদর্শকে স্মরণ করে দিনটি পালিত হয়। তাঁর শিক্ষা ছিল মানবতা, সাম্য, ভ্রাতৃত্ব ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর শিক্ষা। সেই মানবিক মূল্যবোধকে সামনে রেখে শওকত হাসেম শকুর উদ্যোগে শ্রমজীবী ও অসহায় মানুষের মাঝে খাবার বিতরণের এই আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত প্রধান অতিথি অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান এ ধরনের মানবিক ও সামাজিক উদ্যোগের প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, সমাজের অসহায়, দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়ানো আমাদের সকলের নৈতিক দায়িত্ব। ধর্মীয় ও সামাজিক বিভিন্ন আয়োজনকে কেন্দ্র করে মানবসেবামূলক কার্যক্রম আরও বিস্তৃত হওয়া প্রয়োজন।
খাবার বিতরণ কর্মসূচিতে উপস্থিত নেতাকর্মী ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ বলেন, মানুষের পাশে দাঁড়ানোই প্রকৃত মানবতা। সমাজের বিত্তবান ও সামর্থ্যবান মানুষরা যদি নিজ নিজ অবস্থান থেকে অসহায় মানুষের সহযোগিতায় এগিয়ে আসেন, তাহলে সমাজে বৈষম্য কমে আসবে এবং পারস্পরিক সহমর্মিতার পরিবেশ আরও শক্তিশালী হবে।
উদ্যোক্তা শওকত হাসেম শকু বলেন, পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে মহানবীর আদর্শ ও মানবতার শিক্ষাকে ধারণ করেই এই আয়োজন করা হয়েছে। শ্রমজীবী ও অসহায় মানুষের মুখে সামান্য হাসি ফোটানো এবং তাদের পাশে দাঁড়ানোর লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, সমাজের অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জন্য কাজ করার চেষ্টা সবসময়ই অব্যাহত থাকবে। ধর্মীয় উৎসব ও বিশেষ দিনগুলোতে মানুষের মধ্যে ভালোবাসা, সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধন আরও সুদৃঢ় করার পাশাপাশি মানবসেবামূলক কর্মকাণ্ডে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।
খাবার বিতরণ শেষে অসহায় ও শ্রমজীবী মানুষের হাতে উন্নতমানের খাবার তুলে দেন প্রধান অতিথিসহ উপস্থিত অতিথিবৃন্দ ও আয়োজকরা। এ সময় সুবিধাবঞ্চিত মানুষের মাঝে আনন্দ ও উৎসবের আমেজ লক্ষ্য করা যায়।
স্থানীয়দের মতে, শওকত হাসেম শকুর এই মানবিক উদ্যোগ ঈদে মিলাদুন্নবীর তাৎপর্যকে আরও অর্থবহ করে তুলেছে। শুধু আনুষ্ঠানিকতা নয়, মানুষের পাশে দাঁড়ানোর মাধ্যমে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর মানবতার শিক্ষাকে বাস্তব জীবনে ধারণ করার একটি সুন্দর দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে এই আয়োজন।