সকাল নারায়ণগঞ্জঃ
নিজস্ব প্রতিবেদক: নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের নেজারত শাখার নাজির মোহাম্মদ কামরুজ্জামান ওরফে কামরুল ইসলামের বিরুদ্ধে একটি কুচক্রী মহল মিথ্যা, বানোয়াট ও ভিত্তিহীন অপপ্রচার চালাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগকারীদের দাবি, কতিপয় ব্যক্তি নিজেদের স্বার্থ হাসিল করতে ব্যর্থ হয়ে এবং বিভিন্ন অনৈতিক সুবিধা আদায়ের পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় জেলা নাজিরকে সামাজিক ও ব্যক্তিগতভাবে হেয়প্রতিপন্ন করার উদ্দেশ্যে নানা ধরনের বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে দিচ্ছে।
এ ঘটনায় জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারী, স্থানীয় সেবাপ্রার্থীসহ বিভিন্ন মহলে ক্ষোভ ও নিন্দার সৃষ্টি হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, একজন সরকারি কর্মচারীর দীর্ঘদিনের কর্মজীবন ও ব্যক্তিগত সুনাম ক্ষুণ্ন করার উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে এ ধরনের অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।
জানা যায়, নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের নেজারত শাখায় দীর্ঘদিন ধরে দায়িত্ব পালন করে আসছেন মোহাম্মদ কামরুজ্জামান। দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে সততা, নিষ্ঠা ও কর্মদক্ষতার পরিচয় দিয়ে তিনি জেলা প্রশাসনের বিভিন্ন কর্মকর্তা-কর্মচারীর আস্থা অর্জন করেছেন বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। পাশাপাশি জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে সেবা নিতে আসা মানুষের সঙ্গেও দায়িত্বশীল ও সহযোগিতামূলক আচরণের কারণে তিনি পরিচিতি লাভ করেছেন বলে স্থানীয়দের দাবি।
অভিযোগ রয়েছে, তার এই কর্মদক্ষতা ও দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে কঠোর অবস্থান একটি স্বার্থান্বেষী মহলের মধ্যে অসন্তোষ সৃষ্টি করেছে। বিশেষ করে দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে কেউ ব্যক্তিগত বা অনৈতিক সুবিধা নিতে চাইলে তা প্রত্যাখ্যান করার কারণেই একটি পক্ষ তার বিরুদ্ধে বিরূপ অবস্থান নিয়েছে বলে মনে করছেন অনেকে।
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মাধ্যমে জেলা নাজির কামরুল ইসলামের বিরুদ্ধে নানা ধরনের বিভ্রান্তিকর ও মানহানিকর তথ্য ছড়ানো হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। তার সমর্থকদের দাবি, এসব তথ্যের পক্ষে কোনো সুস্পষ্ট ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি। বরং উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে কিছু অভিযোগ ও বক্তব্য প্রচার করে একজন সরকারি কর্মচারীর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা চলছে।
স্থানীয় কয়েকজনের ভাষ্য, কামরুল ইসলাম একজন পরিশ্রমী ও দায়িত্বশীল ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত। সকাল থেকে শুরু করে অনেক সময় গভীর রাত পর্যন্ত জেলা প্রশাসনের বিভিন্ন কার্যক্রম ও দায়িত্ব পালনে তাকে ব্যস্ত থাকতে দেখা যায়। সরকারি দাপ্তরিক দায়িত্বের পাশাপাশি সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করার চেষ্টা করেন বলেও তারা জানান।
তাদের দাবি, কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে তা প্রচলিত আইন ও যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে উপস্থাপন করা উচিত। কিন্তু কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে যাচাই-বাছাই ছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম কিংবা বিভিন্ন মাধ্যমে অপপ্রচার চালানো কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। এতে শুধু একজন ব্যক্তির সম্মানহানি হয় না, বরং একটি সরকারি প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তিও প্রশ্নের মুখে পড়ে।
এ বিষয়ে জেলা নাজির মোহাম্মদ কামরুজ্জামান ওরফে কামরুল ইসলাম বলেন,
“মিথ্যা চিরদিনই মিথ্যা থাকে, সেটি কখনো সত্যে পরিণত হয় না। আমি দীর্ঘ বছর ধরে সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে আমার ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছি। দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে কখনো অবহেলা করিনি এবং ব্যক্তিগত সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করিনি।”
তিনি আরও বলেন, “আমার দায়িত্ব পালনের সময় কেউ যদি অসৎ উপায়ে কোনো সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করে থাকে, আমি তা প্রত্যাখ্যান করেছি। এতে হয়তো কেউ কেউ আমার প্রতি বিরূপ মনোভাব পোষণ করতে পারেন। কিন্তু মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে আমাকে হেয় করার চেষ্টা কোনোভাবেই সত্যকে পরিবর্তন করতে পারবে না।”
কামরুল ইসলাম বলেন, “আমি যারা আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছেন, তাদের বলতে চাই—সত্য ও বাস্তবতার ভিত্তিতে সমালোচনা করুন। কারও বিরুদ্ধে যদি কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকে, তাহলে তা যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে উপস্থাপন করুন। কিন্তু মিথ্যা ও বানোয়াট তথ্য দিয়ে একজন মানুষের দীর্ঘদিনের সুনাম নষ্ট করার চেষ্টা করবেন না।”
তিনি আরও বলেন, “আমি গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের একজন কর্মচারী। দল-মত ও ব্যক্তিগত পরিচয়ের ঊর্ধ্বে থেকে জনগণের সেবক হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে চাই। নারায়ণগঞ্জবাসীর সেবা করাই আমার দায়িত্ব ও লক্ষ্য। আমি বিশ্বাস করি, সত্য একদিন অবশ্যই প্রতিষ্ঠিত হবে এবং যারা মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছেন, তারাও একসময় সত্য উপলব্ধি করবেন।”
তিনি সকলের উদ্দেশ্যে বলেন, “হিংসা, বিদ্বেষ ও ব্যক্তিগত স্বার্থের রাজনীতি পরিহার করে আমাদের সবাইকে নারায়ণগঞ্জের উন্নয়ন ও মানুষের কল্যাণে কাজ করতে হবে। আমি সবসময় জনগণের পাশে থেকে আমার দায়িত্ব পালন করতে চাই। এ জন্য আমি সকলের দোয়া ও সহযোগিতা কামনা করছি।”
এদিকে, বিভিন্ন মহলের দাবি, কোনো সরকারি কর্মকর্তা বা কর্মচারীর বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে তা যাচাই-বাছাই ও আইনানুগ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নিষ্পত্তি হওয়া উচিত। ব্যক্তিগত বিরোধ বা স্বার্থের কারণে সামাজিকভাবে কাউকে হেয়প্রতিপন্ন করার উদ্দেশ্যে অপপ্রচার চালানো হলে তা বন্ধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।
সংশ্লিষ্টরা আরও বলেন, দীর্ঘদিনের কর্মজীবনে একজন ব্যক্তির সততা ও কর্মদক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তোলার আগে অভিযোগের সত্যতা যাচাই করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে যারা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে কারও সুনাম ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ রয়েছে, বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানিয়েছেন তারা।
নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের প্রত্যাশা, ব্যক্তিগত আক্রোশ ও স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে সত্য ও তথ্যভিত্তিক সমালোচনার পরিবেশ তৈরি হবে। একই সঙ্গে সরকারি সেবা কার্যক্রমে নিয়োজিত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ থাকলে তা যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে তদন্ত ও নিষ্পত্তি করা হবে—এমনটিই প্রত্যাশা সবার।