সকাল নারায়ণগঞ্জঃ
নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি:
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থানাধীন মধ্য নরসিংপুর এলাকার ব্যবসায়ী মোহাম্মদ রুবেল হোসেনের কাছ থেকে ৭ লাখ টাকা চাঁদা দাবি, হামলা, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ভাঙচুর এবং প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় তিনি ফতুল্লা মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগের পর তদন্ত শুরু হলেও এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো আইনগত অগ্রগতি না হওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগী।
অভিযোগে বলা হয়েছে, কিশোর গ্যাং লিডার মাহবুব, সোহাগ ওরফে ফটকা সোহাগ এবং কাদির ওরফে ক্যাশ কাদিরসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে ব্যবসায়ী রুবেল হোসেনের কাছে ৭ লাখ টাকা চাঁদা দাবি, হামলা ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে। তবে অভিযোগগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি এবং পুলিশের পক্ষ থেকেও এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য প্রকাশ করা হয়নি। অভিযোগের সত্যতা তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারিত হবে।
অভিযোগে রুবেল হোসেন উল্লেখ করেন, তিনি দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় বৈধভাবে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছেন। সম্প্রতি কিছু ব্যক্তি তার কাছে মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করে। অভিযোগ অনুযায়ী, প্রথমে ১০ লাখ টাকা দাবি করা হলেও পরে তা কমিয়ে ৭ লাখ টাকা করা হয়। তিনি চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয় এবং ভবিষ্যতে ব্যবসা পরিচালনা করতে দেওয়া হবে না বলে হুমকি দেওয়া হয়। এছাড়া বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানালে প্রাণনাশের আশঙ্কা রয়েছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
ভুক্তভোগীর দাবি, চাঁদা দাবির ভয়েস রেকর্ড, সিসিটিভি ফুটেজসহ একাধিক তথ্য-প্রমাণ তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দিয়েছেন। তার ভাষ্য, তদন্তকারী কর্মকর্তাদের কাছেও এসব তথ্য রয়েছে। তারপরও অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি বলে তিনি অভিযোগ করেন।
রুবেল হোসেন বলেন, “আমার কাছে ভয়েস রেকর্ড আছে, সিসিটিভি ফুটেজ আছে, লিখিত অভিযোগও করেছি। তারপরও যদি কোনো দৃশ্যমান ব্যবস্থা না হয়, তাহলে একজন সাধারণ ব্যবসায়ী হিসেবে আমরা কোথায় ন্যায়বিচার পাব?”
তিনি আরও বলেন, ব্যবসায়ীদের নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে এবং অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা জরুরি। এতে এলাকায় ব্যবসায়ীদের মধ্যে আস্থা ফিরবে এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তাবোধও বৃদ্ধি পাবে।
এলাকার কয়েকজন বাসিন্দাও নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে অভিযোগগুলোর দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। তাদের মতে, প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিলে জনমনে আস্থা আরও বাড়বে।
তবে উল্লেখ্য, এ প্রতিবেদনে উল্লিখিত অভিযোগগুলো অভিযোগকারীর বক্তব্যের ভিত্তিতে উপস্থাপিত হয়েছে। এ বিষয়ে যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে, তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। পাশাপাশি পুলিশের পক্ষ থেকেও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য প্রকাশ করা হয়নি। অভিযোগগুলোর সত্যতা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারিত হবে।