শ্রমিক নেতা কমরেড রফিক খানের স্মরণসভায় বক্তারা জাতীয় ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণ, শ্রম আইন ও শ্রম বিধিমালার শ্রমিক স্বার্থবিরোধী ধারাসমূহ বাতিল এবং শ্রমিকদের গণতান্ত্রিক অধিকার নিশ্চিতের দাবিতে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন।
বুধবার (১৫ জুলাই) বিকেল ৫টায় নারায়ণগঞ্জের ২নং রেলগেট এলাকায় সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্টের কার্যালয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলা শ্রমিক-কর্মচারী সংগ্রাম পরিষদের উদ্যোগে এ স্মরণসভার আয়োজন করা হয়।
সভায় সভাপতিত্ব করেন সংগ্রাম পরিষদের সমন্বয়ক ও সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্ট, নারায়ণগঞ্জ জেলা শাখার সভাপতি আবু নাঈম খান বিপ্লব।
স্মরণসভায় বক্তব্য রাখেন ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্র, নারায়ণগঞ্জ জেলার সভাপতি হাফিজুল ইসলাম, জাতীয় শ্রমিক ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি হিমাংশু সাহা, জাতীয় শ্রমিক ফেডারেশনের জেলা সভাপতি হাফিজুর রহমান, জেলা সহ-সভাপতি গোলাম মোস্তফা, বিপ্লবী শ্রমিক সংহতির কেন্দ্রীয় সদস্যসচিব আবু হাসান টিপু, জেলার সভাপতি শহীদুল ইসলাম নান্নু, গার্মেন্টস শ্রমিক ফ্রন্টের জেলা সভাপতি সেলিম মাহমুদ, ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের নেতা আব্দুল হাই শরীফ, বিমল কান্তি দাস এবং নিহত শ্রমিক নেতা রফিক খানের কন্যা নাদিরা।
বক্তারা বলেন, দেশে বর্তমানে নির্বাচিত সরকার ক্ষমতায় থাকলেও সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধির কারণে শ্রমজীবী মানুষের জীবন আরও কঠিন হয়ে উঠেছে। তাদের অভিযোগ, সাম্প্রতিক বাজেটে ধনীদের জন্য করের সুবিধা বাড়ানো হলেও পরোক্ষ কর বৃদ্ধির মাধ্যমে সাধারণ মানুষের ওপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপ সৃষ্টি করা হয়েছে।
তারা আরও বলেন, শ্রমজীবী মানুষের আয় বৃদ্ধি কিংবা জাতীয় ন্যূনতম মজুরি আইনগতভাবে নির্ধারণের বিষয়ে সরকার এখনো কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেয়নি। একই সঙ্গে শ্রম আইন সংশোধন ও বিধিমালা প্রণয়নের প্রক্রিয়া চললেও শ্রমিক স্বার্থবিরোধী ধারাগুলো বহাল রয়েছে এবং ট্রেড ইউনিয়ন করার সাংবিধানিক ও গণতান্ত্রিক অধিকার বাস্তবায়নে কার্যকর পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না।
বক্তারা অভিযোগ করেন, শ্রমিক নেতা কমরেড রফিক খান ২৫ বছর আগে দুর্বৃত্তদের হাতে নিহত হলেও আজও তার হত্যাকাণ্ডের বিচার সম্পন্ন হয়নি। তারা বলেন, রফিক খান নারায়ণগঞ্জের শ্রমিক আন্দোলন এবং বাম রাজনৈতিক ধারার একজন অন্যতম সংগঠক ছিলেন। তার আদর্শ, সংগ্রাম ও আত্মত্যাগ থেকে শিক্ষা নিয়ে বর্তমান সময়ে শ্রমিকদের অধিকার আদায়ের আন্দোলনকে আরও শক্তিশালী করতে হবে।
স্মরণসভা থেকে বক্তারা জাতীয় ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণ, শ্রমিক স্বার্থবিরোধী শ্রম আইন ও বিধিমালার ধারা বাতিল, সর্বক্ষেত্রে ট্রেড ইউনিয়ন অধিকার নিশ্চিত করা এবং শ্রমিক নেতা রফিক খান হত্যার বিচার দ্রুত সম্পন্ন করার দাবি জানান।
বার্তা প্রেরক: রুহুল আমিন সোহাগ।