সকাল নারায়ণগঞ্জঃ
নারায়ণগঞ্জ, ২৯ জুন ২০২৬:
শেষ বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গেই যুক্তরাষ্ট্রের হিউস্টন স্টেডিয়ামজুড়ে শুরু হয় হলুদ-সবুজের উৎসব। সেই আনন্দের ঢেউ ছড়িয়ে পড়ে হাজার মাইল দূরের বাংলাদেশেও। ব্রাজিলের রোমাঞ্চকর জয়ের খবরে উল্লাসে ফেটে পড়েন নারায়ণগঞ্জের ফুটবলপ্রেমীরা। বিশেষ করে শহরের প্রাণকেন্দ্র চাষাঢ়ায় শত শত ব্রাজিল সমর্থকের উপস্থিতিতে বিজয় র্যালি, মোটরসাইকেল শোভাযাত্রা ও আনন্দ-উল্লাসে মুখর হয়ে ওঠে পুরো এলাকা।
বিশ্বকাপের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে জাপানকে ২-১ গোলে হারিয়ে শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছে কার্লো আনচেলত্তির ব্রাজিল। নির্ধারিত সময়ের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত ম্যাচ ছিল সমতায়। তবে যোগ করা সময়ের ৯০+৬ মিনিটে গ্যাব্রিয়েল মার্তিনেল্লির দুর্দান্ত জয়সূচক গোলে জয়ের আনন্দে ভাসে সেলেসাও শিবির।
হিউস্টনের স্টেডিয়ামে তখন যেন এক টুকরো ব্রাজিল। ম্যাচ শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই খেলোয়াড়রা আনন্দে মাঠজুড়ে ছুটে বেড়ান। দুই হাত উঁচিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন কোচ কার্লো আনচেলত্তি, আর জয়সূচক গোলের নায়ক গ্যাব্রিয়েল মার্তিনেল্লি সতীর্থদের অভিনন্দনে সিক্ত হন।
তবে ম্যাচের শুরুটা মোটেও ভালো ছিল না ব্রাজিলের। বলের দখল নিজেদের কাছে রেখেও আক্রমণে ধার দেখাতে পারেনি পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। জাপানের সুশৃঙ্খল রক্ষণভাগের সামনে বারবার থমকে যায় ব্রাজিলের আক্রমণ।
২৯তম মিনিটে মাঝমাঠে বল হারানোর সুযোগ কাজে লাগিয়ে জাপানকে এগিয়ে দেন কাইশু সানো। দূরপাল্লার জোরালো শটে আলিসন বেকারকে পরাস্ত করে দলকে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে নেন তিনি। এই গোলের পর জাপানের সমর্থকদের উল্লাসে মুখর হয়ে ওঠে পুরো স্টেডিয়াম।
দ্বিতীয়ার্ধে কৌশল বদলান কোচ আনচেলত্তি। পাকেতার পরিবর্তে মাঠে নামানো হয় তরুণ ফরোয়ার্ড এনদ্রিককে। এরপরই বদলে যায় ব্রাজিলের খেলার গতি। একের পর এক আক্রমণে চাপে পড়ে জাপান।
৫৬তম মিনিটে গ্যাব্রিয়েল মার্তিনেল্লির ভাসানো ক্রস থেকে অসাধারণ হেডে গোল করে সমতা ফেরান অধিনায়ক কাসেমিরো। ৩৪ বছর ১২৬ দিন বয়সে বিশ্বকাপে গোল করে তিনি ব্রাজিলের ইতিহাসেও নতুন একটি রেকর্ড গড়েন। পুরো ম্যাচে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের জন্য ম্যান অব দ্য ম্যাচ নির্বাচিত হন কাসেমিরো।
সমতা ফেরানোর পর একাধিকবার গোলের সুযোগ তৈরি করেও এগিয়ে যেতে পারেনি ব্রাজিল। ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের দারুণ এক শট অসাধারণ দক্ষতায় রুখে দেন জাপানের গোলরক্ষক জিওন সুজুকি।
এরপর ম্যাচ গড়ায় যোগ করা সময়ে। যখন মনে হচ্ছিল ম্যাচটি অতিরিক্ত সময়ে যাবে, ঠিক তখনই আসে সেই মাহেন্দ্রক্ষণ। ব্রুনো গিমারাইসের পাস থেকে বল পেয়ে কোনো ভুল করেননি গ্যাব্রিয়েল মার্তিনেল্লি। ডান পায়ের নিখুঁত শটে জাপানের জালে বল পাঠিয়ে ব্রাজিলকে এনে দেন অবিশ্বাস্য এক জয়। শেষ বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গেই হিউস্টন স্টেডিয়ামে শুরু হয় হলুদ-সবুজের উৎসব।
এদিকে ব্রাজিলের এই নাটকীয় জয়ের খবর ছড়িয়ে পড়তেই নারায়ণগঞ্জের প্রাণকেন্দ্র চাষাঢ়ায় জড়ো হন শত শত ব্রাজিল সমর্থক। সবুজ-হলুদ পতাকা হাতে বিজয় র্যালি বের করেন তারা। মোটরসাইকেল শোভাযাত্রা, গাড়ির হর্ন, আতশবাজি এবং “ব্রাজিল… ব্রাজিল…” স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে পুরো এলাকা।
চাষাঢ়ার পাশাপাশি দুই নম্বর রেলগেট, খানপুর, দেওভোগ, মাসদাইর, ফতুল্লা ও আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকেও সমর্থকরা বিজয় উদযাপনে অংশ নেন। তরুণদের পাশাপাশি বিভিন্ন বয়সী ফুটবলপ্রেমীদের উপস্থিতিতে গভীর রাত পর্যন্ত উৎসবের আমেজ বিরাজ করে শহরজুড়ে।
ব্রাজিল সমর্থকরা জানান, এই জয় শুধু একটি ম্যাচের জয় নয়, বরং নতুন করে শিরোপা জয়ের স্বপ্ন দেখার অনুপ্রেরণা। নেইমারকে ছাড়াই দল যেভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছে, তাতে আগামী ম্যাচগুলো নিয়েও আশাবাদী তারা।
রোমাঞ্চ, নাটকীয়তা এবং শেষ মুহূর্তের অবিশ্বাস্য জয়ে শেষ ষোলো নিশ্চিত করে ব্রাজিল আবারও জানিয়ে দিল—বিশ্বকাপের মঞ্চে তারা এখনো অন্যতম শক্তিশালী দাবিদার। আর সেই জয়ের আনন্দে গভীর রাত পর্যন্ত উৎসবে মেতে ছিল নারায়ণগঞ্জের ব্রাজিলপ্রেমী ফুটবল সমর্থকরা।