সকাল নারায়ণগঞ্জঃ
বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদস্যদের আত্মকর্মসংস্থান ও উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে ‘সঞ্জীবন’ প্রকল্পের কার্যক্রম জোরদার করা হচ্ছে। এ লক্ষ্যে সোমবার (৮ জুন ২০২৬) গাজীপুরের সফিপুরস্থ আনসার ও ভিডিপি একাডেমিতে দিনব্যাপী এক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদ। তিনি বলেন, “সঞ্জীবন প্রকল্প সদস্যদের আর্থিক স্বাবলম্বিতা অর্জনের পাশাপাশি দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। চাকরিনির্ভর মানসিকতা থেকে বের হয়ে উদ্যোক্তা হওয়ার মাধ্যমে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে।”
তিনি আরও বলেন, বর্তমান সময়ে টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির অন্যতম কার্যকর উপায় হলো উদ্যোক্তা উন্নয়ন। সঞ্জীবন প্রকল্পের মাধ্যমে আনসার ও ভিডিপির সদস্যরা নিজ নিজ এলাকায় সম্ভাবনাময় উদ্যোগ গ্রহণ করে নিজেদের কর্মসংস্থানের পাশাপাশি অন্যদের জন্যও কর্মসংস্থানের ক্ষেত্র তৈরি করতে পারবেন।
কর্মশালায় উপমহাপরিচালক (প্রশিক্ষণ) মোঃ রফিকুল ইসলাম প্রকল্প বাস্তবায়নের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। তিনি সদস্য অন্তর্ভুক্তি, সম্ভাবনাময় উদ্যোগ নির্বাচন, ঋণ গ্রহণ ও পরিশোধ, লভ্যাংশ বণ্টন এবং প্রকল্প পরিচালনার বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।
আনসার ও ভিডিপি ওয়েলফেয়ার ট্রাস্টের পরিচালক এনামুল খাঁন সঞ্জীবন প্রকল্পের সদস্যপদ, প্রকল্প ব্যবস্থাপনা, ঋণ কার্যক্রম এবং আনসার-ভিডিপি উন্নয়ন ব্যাংকের সঙ্গে সমন্বিত কার্যক্রম নিয়ে উপস্থাপনা করেন।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত টিএমএসএস-এর পরিচালক মোঃ রেজাউল করিম প্রান্তিক পর্যায়ে উদ্যোক্তা তৈরির বিভিন্ন সফল উদাহরণ তুলে ধরেন এবং ভবিষ্যতে আনসার বাহিনীর সঙ্গে আরও সমন্বিতভাবে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেন।
এছাড়া আনসার-ভিডিপি উন্নয়ন ব্যাংকের প্রতিনিধিরা প্রকল্পের আর্থিক ব্যবস্থাপনা, ঋণ বিতরণ ও কিস্তি আদায় সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন।
কর্মশালার সমাপনী পর্বে অংশগ্রহণকারীদের সঙ্গে উন্মুক্ত আলোচনা ও প্রশ্নোত্তর অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রকল্প বাস্তবায়ন আরও কার্যকর ও বাস্তবমুখী করার জন্য বিভিন্ন মতামত ও পরামর্শ গ্রহণ করা হয়।
অংশগ্রহণকারীরা বলেন, ‘সঞ্জীবন’ প্রকল্প সদস্যদের আর্থিক সক্ষমতা বৃদ্ধি, উদ্যোক্তা বিকাশ এবং টেকসই আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টির একটি যুগোপযোগী উদ্যোগ। প্রকল্পটি সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে বাহিনীর সদস্যদের জীবনমান উন্নয়নের পাশাপাশি স্থানীয় অর্থনীতির গতিশীলতা বৃদ্ধি, নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।