সকাল নারায়ণগঞ্জঃ
গণঅভ্যুত্থানের আন্দোলনে ছাত্রসমাজের সাহসী ভূমিকার কথা স্মরণ করে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আব্দুল্লাহ আল আমিন বলেছেন, ছাত্রদের আত্মত্যাগ ও সংগ্রামের মাধ্যমেই স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন শক্তিশালী হয়েছে এবং জনগণ ফ্যাসিবাদী শক্তির হাত থেকে মুক্তির পথ পেয়েছে।
শনিবার (১৪ মার্চ) সন্ধ্যায় নারায়ণগঞ্জ নগরীর কালীবাজার এলাকায় জেলা শিল্পকলা একাডেমির মিলনায়তনে ছাত্র সংগঠন ‘ছাত্রশক্তি’র আয়োজনে অনুষ্ঠিত ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
এমপি আব্দুল্লাহ আল আমিন বলেন, গণঅভ্যুত্থানের সময় দেশের বিভিন্ন স্থানে ছাত্রসমাজ সাহসিকতার সাথে রাজপথে নেমে স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে। শহীদ আবু সাঈদ, ওয়াসিম, মীর মুগ্ধসহ নারায়ণগঞ্জের ছাত্র শহীদ আদিল ও রাব্বির আত্মত্যাগ জাতিকে নতুন করে সাহস জুগিয়েছে। তাদের এই আত্মত্যাগের মাধ্যমেই নারায়ণগঞ্জবাসী স্বৈরাচার-ফ্যাসিস্ট ওসমান গোষ্ঠীর হাত থেকে মুক্তির পথ খুঁজে পেয়েছে।
তিনি বলেন, দেশের ইতিহাসে প্রতিটি গণআন্দোলনে ছাত্রসমাজ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। ছাত্রদের নেতৃত্বেই বহু আন্দোলন সফলতার মুখ দেখেছে এবং জাতি সঠিক পথের দিশা পেয়েছে। সাহস নিয়ে প্রথম রাজপথে দাঁড়িয়ে স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার কৃতিত্বও ছাত্রসমাজের।
তিনি আরও বলেন, স্বৈরাচারবিরোধী সংগ্রামের একটি বড় অধ্যায় শেষ হলেও দেশকে এগিয়ে নেওয়ার সংগ্রাম এখনো চলমান। বর্তমানে যে রাজনৈতিক দলগুলো রাজনীতি করছে, তাদের অধিকাংশই গণঅভ্যুত্থানের শক্তির প্রতিনিধিত্ব করছে। সংসদে নির্বাচিত ৩০০ জন সংসদ সদস্যই গণঅভ্যুত্থানের পক্ষে থাকা বিভিন্ন রাজনৈতিক দল থেকে নির্বাচিত হয়েছেন।
এমপি বলেন, দেশের জনগণ একবার রাজপথে নেমে ফ্যাসিবাদী শক্তিকে বিতাড়িত করেছে এবং দ্বিতীয়বার গণতান্ত্রিকভাবে ভোটের মাধ্যমে তাদের প্রত্যাখ্যান করেছে। এখন আমাদের সংগ্রাম হচ্ছে দেশকে উন্নয়ন ও অগ্রগতির পথে এগিয়ে নেওয়ার সংগ্রাম।
তিনি বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছরের স্বৈরাচারী শাসনের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর সাহস দেখিয়েছে ছাত্রসমাজ। ইতিহাস সাক্ষী— যে আন্দোলনে ছাত্ররা যুক্ত হয়নি, সেই আন্দোলনের সাফল্য খুবই সীমিত ছিল।
এসময় তিনি বলেন, ছাত্র সংগঠন কোনো রাজনৈতিক দলের পেশিশক্তি হবে না এবং ছাত্রশক্তি কোনো দলের প্রটোকল দেওয়ার সংগঠন হিসেবেও কাজ করবে না। ছাত্রদের মূল লক্ষ্য হবে দেশের গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার ও অগ্রগতির জন্য কাজ করা।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মাশুকুল ইসলাম রাজীব, মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব আবু আল ইউসূফ খান টিপু, এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলের কেন্দ্রীয় সংগঠক শওকত আলী, জেলা সমন্বয়কারী সদস্য জোবায়ের হোসেন তামজিদ, জাবেদ আলম, ডায়েস্পোরা কেন্দ্রীয় মুখ্য সংগঠক যুবাইর সরদার, যুবশক্তি কেন্দ্রীয় সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক তুহিন মাহমুদ, কেন্দ্রীয় সংগঠক নিরব রায়হান, জাতীয় ছাত্রশক্তির কেন্দ্রীয় সভাপতি মো. জাহিদ আহসানসহ বিভিন্ন ছাত্র ও রাজনৈতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
রমজানের পবিত্রতা ও সম্প্রীতির বার্তা ছড়িয়ে দিতে আয়োজিত এই ইফতার মাহফিলে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও ছাত্র সংগঠনের নেতাকর্মীদের উপস্থিতিতে মিলনমেলার পরিবেশ সৃষ্টি হয়।