সকাল নারায়ণগঞ্জঃ
পবিত্র মাহে রমজানকে সামনে রেখে সাধারণ রোজাদার ও খেটে খাওয়া মানুষের যাতায়াত নির্বিঘ্ন করতে এক অনন্য মানবিক উদ্যোগ নিয়েছেন নারায়ণগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ও মহানগর বিএনপি নেতা জাকির খান। ইফতারের আগে যাত্রীদের পারাপারের সুবিধার্থে নারায়ণগঞ্জ সেন্ট্রাল খেয়াঘাটে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে ট্রলার সার্ভিস চালু করেছেন তিনি।
বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) বিকেল থেকে দুটি বড় ট্রলারের মাধ্যমে এই ‘ফ্রি সার্ভিস’ কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়। প্রথম দিনেই এই উদ্যোগে ব্যাপক সাড়া পড়ে যায় ঘাট এলাকায়। ইফতারের আগে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকার কষ্ট থেকে মুক্তি পেয়ে স্বস্তির নিশ্বাস ফেলেন শত শত যাত্রী।
শীতলক্ষ্যা নদীর ওপর অবস্থিত নারায়ণগঞ্জ সেন্ট্রাল খেয়াঘাট দিয়ে প্রতিদিন বন্দর থেকে নারায়ণগঞ্জ শহরে লক্ষাধিক মানুষ জীবিকার তাগিদে যাতায়াত করেন। এসব যাত্রীর বড় একটি অংশ পোশাক কারখানার শ্রমিক, যাদের মধ্যে অধিকাংশই নারী।
রমজান মাসে কারখানা ছুটি শেষে ইফতারের আগে বাড়ি ফেরার তাড়ায় খেয়াঘাটে নেমে আসে উপচেপড়া ভিড়। সীমিত ট্রলার ও অতিরিক্ত যাত্রীর কারণে প্রায়ই ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়। রোজা অবস্থায় এই দীর্ঘ অপেক্ষা অনেকের জন্যই চরম ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, অনেক সময় অতিরিক্ত ভিড়ের সুযোগ নিয়ে ভাড়া বাড়িয়ে দেওয়ার ঘটনাও ঘটে। ফলে নিম্নআয়ের শ্রমজীবী মানুষদের জন্য পরিস্থিতি আরও কষ্টকর হয়ে ওঠে।
জানা গেছে, সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ইফতারের আগ মুহূর্তে সেন্ট্রাল খেয়াঘাটে যাত্রীদের দীর্ঘ অপেক্ষা ও দুর্ভোগের একটি ভিডিও নজরে আসে জাকির খানের। বিষয়টি দেখে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে ঘনিষ্ঠজনদের সঙ্গে পরামর্শ করেন এবং রোজাদার মানুষের কষ্ট লাঘবে বিনামূল্যে ট্রলার সার্ভিস চালুর সিদ্ধান্ত নেন।
তার নির্দেশনায় দ্রুত দুটি বড় ট্রলার প্রস্তুত করা হয় এবং বুধবার বিকেল থেকেই কার্যক্রম শুরু হয়।
ফ্রি ট্রলার সার্ভিস চালু হওয়ার পর ঘাট এলাকায় অপেক্ষমাণ যাত্রীদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে আসে। কোনো রকম টিকিট কাটা বা ভাড়ার ঝামেলা ছাড়াই দ্রুত নদী পার হতে পেরে খুশি সাধারণ মানুষ।
বন্দরগামী এক নারী পোশাক শ্রমিক বলেন,
“ইফতারের আগে ঘাটে এসে অনেক সময় দাঁড়িয়ে থাকতে হতো। রোজা রেখে খুব কষ্ট হতো। আজ বিনামূল্যে দ্রুত পার হতে পেরেছি। আল্লাহ তাকে উত্তম প্রতিদান দিন।”
একজন দিনমজুর বলেন,
“আমরা সারাদিন কাজ করি। রোজা রেখে ঘাটে ভিড়ের মধ্যে দাঁড়িয়ে থাকা খুব কঠিন। আজকের এই ব্যবস্থা আমাদের অনেক বড় স্বস্তি দিয়েছে।”
আরেকজন কলেজ শিক্ষার্থী জানান,
“এটা শুধু রাজনৈতিক উদ্যোগ না, এটা মানবিক উদ্যোগ। এমন উদ্যোগ নিয়মিত হলে মানুষের কষ্ট অনেক কমবে।”
জাকির খানের এই উদ্যোগকে অনেকেই রাজনৈতিক নেতাদের জনকল্যাণমূলক কাজের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখছেন। রমজানের মতো পবিত্র মাসে সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়ানোকে ইতিবাচক ও সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত বলে মনে করছেন স্থানীয় সচেতন মহল।
সংশ্লিষ্টরা জানান, রমজানজুড়ে প্রতিদিন ইফতারের আগ মুহূর্ত পর্যন্ত এই ফ্রি ট্রলার সার্ভিস চালু রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রয়োজনে ট্রলারের সংখ্যা বাড়ানোর কথাও ভাবা হচ্ছে।
নদীপাড়ের শ্রমজীবী মানুষদের কষ্ট লাঘবে নেওয়া এই উদ্যোগ নারায়ণগঞ্জে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অনেকেই বলছেন, উন্নয়ন ও রাজনীতির পাশাপাশি এ ধরনের সরাসরি জনসেবামূলক কাজই মানুষের হৃদয়ে জায়গা করে নেয়।
রমজানের এই বিশেষ সময়ে খেটে খাওয়া মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে জাকির খানের এই উদ্যোগ নারায়ণগঞ্জবাসীর কাছে এক ইতিবাচক বার্তা হয়ে উঠেছে—মানবিক রাজনীতি এখনো সম্ভব।