সকাল নারায়ণগঞ্জঃ
বাংলাদেশ পুলিশের সর্বোচ্চ পদে দায়িত্ব গ্রহণ করলেন নবনিযুক্ত ইন্সপেক্টর জেনারেল অব পুলিশ (আইজিপি) মোঃ আলী হোসেন ফকির। বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) সকালে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে আইজিপি হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেন। এর আগে তিনি আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন)-এর অতিরিক্ত আইজি হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তিনি বিদায়ী আইজিপি বাহারুল আলম বিপিএম-এর স্থলাভিষিক্ত হলেন।
দায়িত্ব গ্রহণের দিন সকালে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সে পৌঁছালে একটি সুসজ্জিত পুলিশ দল নবনিযুক্ত আইজিপিকে গার্ড অব অনার প্রদান করে। এ সময় ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তারা তাকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান। দায়িত্ব গ্রহণ শেষে তিনি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন এবং বাহিনীর চলমান কার্যক্রম সম্পর্কে অবহিত হন।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, অভিজ্ঞ ও মাঠপর্যায়ের কাজের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা সম্পন্ন একজন কর্মকর্তা হিসেবে তার নেতৃত্বে বাংলাদেশ পুলিশ আরও গতিশীল ও জনমুখী হয়ে উঠবে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে মোঃ আলী হোসেন ফকির-কে আইজিপি পদে নিয়োগ দেয়। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, জননিরাপত্তা জোরদার, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর পুলিশিং কার্যক্রমকে আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে তাকে এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব অর্পণ করা হয়েছে।
মোঃ আলী হোসেন ফকির ১৯৯৫ সালের ১৫ নভেম্বর ১৫তম বিসিএস (পুলিশ) ব্যাচে সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) হিসেবে বাংলাদেশ পুলিশে যোগদান করেন। কর্মজীবনে তিনি সততা, দক্ষতা ও পেশাদারিত্বের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।
তিনি নেত্রকোনা, ফেনী ও মাগুরা জেলার পুলিশ সুপার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া আরআরএফ সিলেটের কমান্ড্যান্ট এবং ৩ এপিবিএন খুলনা, ৫ এপিবিএন ঢাকা ও ৭ এপিবিএন সিলেটের অধিনায়ক হিসেবে সাফল্যের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন। ডিআইজি হিসেবে তিনি পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স এবং এসপিবিএন-এ গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে ছিলেন।
তার নেতৃত্বে বিভিন্ন জেলায় অপরাধ দমন, মাদকবিরোধী অভিযান ও জনবান্ধব পুলিশিং কার্যক্রম উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
নবনিযুক্ত আইজিপি কসোভো ও আইভরি কোস্টে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশ পুলিশের প্রতিনিধিত্ব করেন এবং সেখানে দক্ষতা ও সুনামের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেন। শান্তিরক্ষা মিশনে তার অবদান আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশ পুলিশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করেছে।
এছাড়া সরকারি দায়িত্ব ও প্রশিক্ষণ উপলক্ষে তিনি যুক্তরাষ্ট্র, চীনসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ সফর করেছেন। এসব অভিজ্ঞতা ভবিষ্যতে আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর পুলিশিং ব্যবস্থায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
১৯৬৮ সালের ৫ এপ্রিল বাগেরহাট জেলার সদর থানাধীন এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন মোঃ আলী হোসেন ফকির। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ম্যানেজমেন্ট বিষয়ে বিকম (অনার্স), এমকম এবং এমবিএ ডিগ্রি অর্জন করেন।
বর্তমানে তিনি বাংলাদেশ পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি। এছাড়া ১৫তম বিসিএস ফোরামের সাধারণ সম্পাদক, ১৫তম বিসিএস (পুলিশ) ব্যাচের আহ্বায়ক এবং অফিসার্স ক্লাব ঢাকা ও খুলনা ক্লাবের সদস্যসহ বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন।
ব্যক্তিগত জীবনে তিনি বিবাহিত এবং এক পুত্র ও এক কন্যা সন্তানের জনক।
দেশের সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নয়ন, সাইবার অপরাধ দমন, নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধ এবং মাদকবিরোধী কার্যক্রম জোরদারে তার নেতৃত্বে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে বলে আশা প্রকাশ করছেন পুলিশ কর্মকর্তারা।
জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা, জনগণের আস্থা বৃদ্ধি এবং “স্মার্ট পুলিশিং” বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ পুলিশকে আরও আধুনিক ও কার্যকর বাহিনীতে রূপান্তরের প্রত্যাশা এখন সবার।
নতুন আইজিপির হাত ধরে বাংলাদেশ পুলিশের সামনে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হলো—এমনটাই মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।