সকাল নারায়ণগঞ্জঃ
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে শেষ দিনের প্রচারণায় নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে জমে উঠেছে নির্বাচনী মাঠ। বিএনপি মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী অ্যাডভোকেট আবুল কালামের নেতৃত্বে সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে শহরে অনুষ্ঠিত হয় ব্যাপক গণমিছিল ও নির্বাচনী শোডাউন। খানপুর হাসপাতাল এলাকা থেকে শুরু হয়ে শীতলক্ষ্যা বাপ্পী সড়ক পর্যন্ত বিস্তৃত এই মিছিল নগরীর প্রধান সড়কগুলোতে নির্বাচনী উত্তাপ ছড়িয়ে দেয় এবং সমর্থকদের উপস্থিতিতে জনসমুদ্রে পরিণত হয় পুরো এলাকা।
গণমিছিলে অংশ নেয় মহানগর, থানা ও উপজেলা পর্যায়ের বিএনপি এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী। মিছিলের শুরু থেকেই ধানের শীষ প্রতীকের পক্ষে স্লোগান, ব্যানার, ফেস্টুন ও পতাকায় মুখরিত হয়ে ওঠে আশপাশের এলাকা। নেতাকর্মীরা সারিবদ্ধভাবে এগিয়ে যেতে থাকলে রাস্তার দুই পাশে দাঁড়িয়ে সাধারণ মানুষ মিছিল প্রত্যক্ষ করেন। অনেকেই হাত নেড়ে শুভেচ্ছা জানান এবং নির্বাচনী পরিবেশে উৎসবের আমেজ সৃষ্টি হয়।
শেষ মুহূর্তের এই প্রচারণাকে কেন্দ্র করে দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যায়। মিছিল চলাকালে নেতারা ভোটারদের কেন্দ্রমুখী করতে এবং নির্বাচনের দিন সক্রিয়ভাবে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান। তারা বলেন, এই নির্বাচন দেশের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। গণতন্ত্র, ভোটাধিকার ও জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার প্রশ্নে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
নেতারা দলের দীর্ঘ রাজনৈতিক ইতিহাস, আন্দোলন-সংগ্রাম এবং নেতৃত্বের ত্যাগ-তিতিক্ষার বিষয় তুলে ধরেন। তারা বলেন, বহু প্রতিকূলতা অতিক্রম করে দল আজকের অবস্থানে পৌঁছেছে এবং এই যাত্রায় নেতাকর্মীদের অবদান সবচেয়ে বড় শক্তি। নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের প্রত্যাশা পূরণ এবং একটি স্থিতিশীল রাজনৈতিক পরিবেশ গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়।
গণমিছিলকে ঘিরে শহরের বিভিন্ন পয়েন্টে বাড়তি জনসমাগম দেখা যায়। ব্যবসায়ী, পথচারী, শ্রমজীবী মানুষসহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ মিছিলের সময় থেমে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন। শেষ দিনের প্রচারণা হওয়ায় এটিকে নির্বাচনের আগে বড় ধরনের শক্তি প্রদর্শন হিসেবে দেখছেন স্থানীয় রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান, সদস্য সচিব আবু আল ইউসুফ খান টিপু, সাবেক সাধারণ সম্পাদক এটিএম কামাল, যুগ্ম আহ্বায়ক ফতেহ আলী রেজা রিপন, আবুল কাউসার আশা, মনির হোসেন খান, আনোয়ার হোসেন আনু, মহানগর নেতা আবু জাফর আহম্মেদ বাবুল, আহ্বায়ক কমিটির সদস্য আমিনুর ইসলাম মিঠু, আওলাদ হোসেন, মাসুদ রানা, আনোয়ার প্রধান, মহানগর মহিলা দলের সভানেত্রী দিলারা মাসুদ ময়না, মহানগর যুবদলের আহ্বায়ক মনিরুল আলম সজল, সদস্য সচিব শাহেদ আহম্মেদসহ মহানগর, সদর থানা, বন্দর থানা, বন্দর উপজেলা এবং অঙ্গসংগঠনের অসংখ্য নেতাকর্মী।
নির্বাচনের তারিখ ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা আরও তীব্র হয়ে উঠেছে। প্রার্থীরা শেষ মুহূর্তে ভোটারদের কাছে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। তবে বিএনপি নেতাকর্মীরা দাবি করছেন, মাঠ পর্যায়ে তাদের গণসংযোগে ব্যাপক সাড়া মিলছে এবং শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণ হলে তারা কাঙ্ক্ষিত ফলাফল অর্জনে আশাবাদী।
শেষ দিনের এই গণমিছিলের মাধ্যমে নির্বাচনী প্রচারণা কার্যত সমাপ্ত হলেও নেতাকর্মীদের মধ্যে ভোটের দিন পর্যন্ত সাংগঠনিক প্রস্তুতি অব্যাহত থাকবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। স্থানীয়দের মতে, শেষ মুহূর্তের এই শক্তি প্রদর্শন নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের নির্বাচনী সমীকরণে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।