সকাল নারায়ণগঞ্জঃ
ভিআইপি সংস্কৃতি বন্ধ করে জনগণের সমান অধিকার প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার নিয়ে সিদ্ধিরগঞ্জে বিশাল নির্বাচনী গণমিছিল করেছেন গণসংহতি আন্দোলন মনোনীত নারায়ণগঞ্জ-০৩ আসনের মাথাল মার্কার প্রার্থী অঞ্জন দাস। মিছিলকে কেন্দ্র করে এলাকায় নির্বাচনী উত্তাপ ছড়িয়ে পড়ে এবং শ্রমিকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে কর্মসূচি জনসমুদ্রে পরিণত হয়।
শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) গণসংহতি আন্দোলন নারায়ণগঞ্জ জেলার নির্বাহী সমন্বয়কারী ও গার্মেন্ট শ্রমিক সংহতির কেন্দ্রীয় সহ-সভাপ্রধান অঞ্জন দাসের নেতৃত্বে সিদ্ধিরগঞ্জ জিরো পয়েন্ট থেকে শিমরাইল পর্যন্ত এ গণমিছিল অনুষ্ঠিত হয়। মিছিলে শ্রমিক, গার্মেন্ট শ্রমিক, খেটে খাওয়া মানুষ, তরুণ ভোটার এবং সাধারণ জনগণের ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়।
মিছিল চলাকালে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, বেকারত্ব, শ্রমিক নিপীড়ন, ভোটাধিকার হরণ এবং ক্ষমতাসীনদের ভিআইপি সংস্কৃতির বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্লোগানে সড়ক মুখরিত হয়ে ওঠে। অংশগ্রহণকারীরা দাবি জানান— সাধারণ মানুষের অধিকার নিশ্চিত না করে কোনো উন্নয়ন টেকসই হতে পারে না।
গণমিছিল শেষে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বক্তব্য দিতে গিয়ে অঞ্জন দাস বলেন,
“এই নির্বাচন কোনো ব্যক্তি বা দলের ক্ষমতায় যাওয়ার লড়াই নয়, এটি সাধারণ মানুষের মর্যাদা ও অধিকার প্রতিষ্ঠার লড়াই। আমি নির্বাচিত হলে নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনে ভিআইপি গিরি বন্ধ করা হবে। জনপ্রতিনিধি মানে জনগণের চাকর, জনগণের ওপর বসে থাকা কোনো প্রভু নয়।”
তিনি আরও বলেন,
“আজ প্রশাসন, রাজনীতি ও রাষ্ট্রে ভিআইপি সংস্কৃতি চালু আছে বলেই সাধারণ মানুষ অবহেলিত, শ্রমিক নির্যাতিত এবং ভোটাধিকার ভূলুণ্ঠিত। আমি সংসদে গেলে প্রথম কাজ হবে এই ভিআইপি সংস্কৃতির বিরুদ্ধে দাঁড়ানো এবং জনগণের সমান অধিকার নিশ্চিত করা।”
নিজেকে শ্রমিক-মেহনতি মানুষের প্রতিনিধি দাবি করে অঞ্জন দাস বলেন,
“আমি কোনো লুটেরা গোষ্ঠীর প্রতিনিধি নই। যারা রাস্তায় দাঁড়িয়ে ঘাম ঝরায়, কারখানায় কাজ করে, বাজারে ন্যায্য দামে পণ্য কিনতে পারে না— আমি তাদের কণ্ঠস্বর। একটি সৎ, সাহসী ও আপসহীন বিকল্প চাইলে মাথাল মার্কায় ভোট দিন।”
গণসংহতি আন্দোলনের নেতৃবৃন্দ বলেন, আগামীতেও নারায়ণগঞ্জ-০৩ আসনের প্রতিটি এলাকায় গণমিছিল, গণসংযোগ ও জনসভা অব্যাহত থাকবে। ভিআইপি সংস্কৃতি ও শোষণমুক্ত সমাজ গঠনের বার্তা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে ধারাবাহিক কর্মসূচি নেওয়া হবে বলেও তারা জানান।