সকাল নারায়ণগঞ্জঃ
নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের বাসদ মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী আবু নাঈম খান বিপ্লব আজ বুধবার (৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) বিকাল ৫টায় নারায়ণগঞ্জ শহরের ১৫ নং ওয়ার্ডে ব্যাপক গণসংযোগ কর্মসূচি পালন করেছেন। এ সময় তিনি নয়ামাটি, টানবাজার, মিনাবাজার, নিমতলা, সিটিকলোনি থানাপুকুরপাড় ও চেম্বাররোডসহ বিভিন্ন এলাকায় সাধারণ মানুষের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন এবং আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মই মার্কায় ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান।
গণসংযোগকালে পথসভা ও ঘরোয়া মতবিনিময়ে স্থানীয় বাসিন্দারা এলাকার বিভিন্ন সমস্যা তুলে ধরেন। আবু নাঈম খান বিপ্লব মনোযোগ দিয়ে সেসব কথা শোনেন এবং জনগণের অধিকার আদায়ে ধারাবাহিক আন্দোলন ও রাজনৈতিক সংগ্রামের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন। কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন বাসদ জেলা বর্ধিত ফোরামের সদস্য ও ৫ আসনের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্যসচিব প্রদীপ সরকার, জেলা বর্ধিত ফোরামের সদস্য ও সমাজতান্ত্রিক মহিলা ফোরামের সাধারণ সম্পাদক সুলতানা আক্তার, বাসদ নেতা সেলিম আলদ্বীন, ছাত্র ফ্রন্ট জেলা আহ্বায়ক সাইফুল ইসলামসহ স্থানীয় নেতাকর্মীরা।
গণসংযোগ শেষে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে আবু নাঈম খান বিপ্লব বলেন, একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের দাবিতে দেশের জনগণ দীর্ঘদিন ধরে লড়াই করে আসছে এবং সেই লড়াইয়ে তিনি নিজেকে জনগণের একজন সহযোদ্ধা হিসেবে দেখতে চান। তিনি বলেন, নির্বাচন গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার অপরিহার্য অংশ, কিন্তু কালো টাকা, পেশিশক্তি, প্রশাসনিক প্রভাব এবং সাম্প্রদায়িকতার ব্যবহার নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। এসব প্রভাবমুক্ত একটি সুষ্ঠু নির্বাচনই পারে গণতান্ত্রিক সমাজ প্রতিষ্ঠার পথ সুগম করতে।
তিনি আরও বলেন, সমাজের সব স্তরে জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠা করা এখন সময়ের দাবি। নারায়ণগঞ্জ একটি শিল্পসমৃদ্ধ ও অর্থনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ জেলা হওয়া সত্ত্বেও এখানকার মানুষ শিক্ষা ও চিকিৎসার মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত। বড় বড় শিল্পকারখানা গড়ে উঠলেও মানসম্মত বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা আধুনিক চিকিৎসা ব্যবস্থার যথাযথ উন্নয়ন হয়নি। ফলে শিক্ষা ও চিকিৎসা আজ টাকার কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছে এবং মানুষের মৌলিক অধিকার পণ্যে পরিণত হয়েছে।
আবু নাঈম খান বিপ্লব বলেন, “আমরা নির্বাচনে হারি বা জিতি—জনগণের ন্যায্য দাবি আদায়ের সংগ্রাম থেকে পিছু হটবো না। জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের কণ্ঠস্বরকে শক্তিশালী করতে চাই। আমি নারায়ণগঞ্জবাসীর কাছে প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি, আপনাদের অধিকার প্রতিষ্ঠার লড়াই অব্যাহত থাকবে।” তিনি সবাইকে মই মার্কার প্রতি আস্থা রেখে গণতান্ত্রিক পরিবর্তনের পক্ষে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।
গণসংযোগে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়, যা পুরো এলাকায় নির্বাচনী আমেজ তৈরি করে। স্থানীয়দের মতে, প্রার্থীর সরাসরি মানুষের কাছে যাওয়ার উদ্যোগ সাধারণ ভোটারদের মধ্যে ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে।