সকাল নারায়ণগঞ্জঃ
সোনারগাঁও উপজেলায় নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন এবং প্রশাসনের নিরপেক্ষতা প্রশ্নবিদ্ধ হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। গণসংহতি আন্দোলন মনোনীত নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের প্রার্থী অঞ্জন দাস দাবি করেছেন, উপজেলা প্রশাসনিক কর্মকর্তার কক্ষে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী আজহারুল ইসলাম মান্নানের উপস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা নিজের চেয়ার ছেড়ে দেওয়ার ঘটনা প্রশাসনিক শিষ্টাচার ও নির্বাচনী বিধিমালার সুস্পষ্ট পরিপন্থী।
এ ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন অঞ্জন দাস। তিনি বলেন, নির্বাচনকালীন সময়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত কোনো প্রশাসনিক কর্মকর্তার এমন আচরণ কেবল অনভিপ্রেত নয়, এটি সরাসরি পক্ষপাতমূলক মনোভাবের বহিঃপ্রকাশ, যা অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের পরিবেশকে ক্ষতিগ্রস্ত করে।
এক বিবৃতিতে অঞ্জন দাস বলেন, নির্বাচন কমিশন ও প্রশাসনের সাংবিধানিক দায়িত্ব হলো সকল প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর প্রতি সমান আচরণ নিশ্চিত করা। কিন্তু সোনারগাঁওয়ের এ ঘটনা প্রমাণ করে প্রশাসনের একটি অংশ নিরপেক্ষতার নীতিমালা থেকে বিচ্যুত হয়ে রাজনৈতিক পক্ষাবলম্বনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। তার ভাষায়, এমন প্রতীকী আচরণও মাঠপর্যায়ে বড় ধরনের বার্তা দেয় এবং নির্বাচনী পরিবেশে অসম প্রতিযোগিতার আশঙ্কা তৈরি করে।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, সংশ্লিষ্ট উপজেলা প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. রাশেদুল ইসলামের বিরুদ্ধে অতীতেও অনিয়ম ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে, যা জনপরিসরে আলোচিত। সে অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত না হওয়ায় প্রশাসনের জবাবদিহিতা দুর্বল হয়েছে এবং একই ধরনের বিতর্ক পুনরাবৃত্তির ঝুঁকি তৈরি হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
অঞ্জন দাসের মতে, নির্বাচনকালীন সংবেদনশীল দায়িত্বে বিতর্কিত কর্মকর্তাদের বহাল রাখা পুরো নির্বাচন ব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতার জন্য হুমকিস্বরূপ। তিনি অবিলম্বে ঘটনার স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও সময়সীমাবদ্ধ তদন্ত, দায়ীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং সারাদেশে প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করতে নির্বাচন কমিশনের কার্যকর হস্তক্ষেপ দাবি করেন।
তিনি সতর্ক করে বলেন, এ ধরনের ঘটনায় জনগণের আস্থা ক্ষুণ্ন হলে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলো দুর্বল হয়ে পড়ে। তাই ভোটাধিকার রক্ষা ও গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি টিকিয়ে রাখতে প্রশাসনের যেকোনো পক্ষপাতমূলক আচরণের বিরুদ্ধে নাগরিক সমাজকে সজাগ ও ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান তিনি।