সকাল নারায়ণগঞ্জঃ
মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মাননা ও সংবর্ধনা প্রদান উপলক্ষে এক অনাড়ম্বর কিন্তু মর্যাদাপূর্ণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৬ ডিসেম্বর) সকালে মহান বিজয় দিবসের কর্মসূচির অংশ হিসেবে আয়োজিত এ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে নারায়ণগঞ্জ জেলার বিভিন্ন উপজেলা ও এলাকা থেকে আগত বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং তাঁদের পরিবারের সদস্যরা অংশগ্রহণ করেন। অনুষ্ঠানস্থল মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় সজ্জিত হয়ে ওঠে, যেখানে বিজয়ের আনন্দের পাশাপাশি বীর সন্তানদের প্রতি শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক মো. রায়হান কবির। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান মুন্সী, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. আলমগীর হুসাইন এবং নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য ও জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ আলী।
অনুষ্ঠানে বক্তারা তাঁদের বক্তব্যে বলেন, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত এই স্বাধীনতা কোনো সাধারণ ঘটনা নয়; এটি লাখো শহীদের আত্মত্যাগ ও অসংখ্য বীর মুক্তিযোদ্ধার রক্তের বিনিময়ে অর্জিত। মুক্তিযোদ্ধারা জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান, তাঁদের ত্যাগ ও সাহসিকতা ইতিহাসের পাতায় চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। রাষ্ট্র ও সমাজের সকল স্তর থেকে তাঁদের যথাযথ সম্মান ও মর্যাদা নিশ্চিত করা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব বলেও বক্তারা উল্লেখ করেন।
জেলা প্রশাসক মো. রায়হান কবির বলেন, মুক্তিযোদ্ধাদের অবদান নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরা এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনা সমুন্নত রাখা বর্তমান প্রজন্মের অন্যতম দায়িত্ব। জেলা প্রশাসন সবসময় বীর মুক্তিযোদ্ধাদের পাশে আছে এবং তাঁদের কল্যাণে প্রয়োজনীয় সকল উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে।
অনুষ্ঠানে জেলার বিভিন্ন বীর মুক্তিযোদ্ধা তাঁদের স্মৃতিচারণ করেন এবং মুক্তিযুদ্ধকালীন অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন। এতে উপস্থিত মুক্তিযোদ্ধা পরিবারবর্গ আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের হাতে সম্মাননা স্মারক ও উপহার সামগ্রী তুলে দেওয়া হয়। পরে তাঁদের সুস্বাস্থ্য, দীর্ঘায়ু ও দেশের অব্যাহত শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করা হয়।
মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এই সংবর্ধনা অনুষ্ঠানটি বীর মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি জাতির গভীর শ্রদ্ধা, ভালোবাসা ও কৃতজ্ঞতার প্রতীক হিসেবে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।