সকাল নারায়ণগঞ্জঃ
নারায়ণগঞ্জের নাগরিক জীবন, উন্নয়নধারা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় মানুষের বাস্তব প্রত্যাশাকে সামনে রেখে পরিচালিত চার দিনব্যাপী বিশেষ কার্যক্রম “মাসুদুজ্জামানের প্রত্যাশার ক্যানভাস”–এর সমাপনী অনুষ্ঠান আজ সকালে শহরের কেন্দ্রীয় চাষাড়া শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ–৫ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী, বিশিষ্ট সমাজসেবী ও ক্রীড়ানুরাগী মাসুদুজ্জামান।
গত চার দিন ধরে নারায়ণগঞ্জ সদর ও বন্দরের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলো—কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার, সরকারি তোলারাম কলেজ, নারায়ণগঞ্জ সরকারি মহিলা কলেজ, হাজী ইব্রাহীম আলমচান স্কুল অ্যান্ড কলেজ, মদনপুর নাজিম উদ্দিন ভূইয়া কলেজসহ বিভিন্ন এলাকায় দিনব্যাপী জনমত সংগ্রহ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। শিক্ষার্থী, অভিভাবক, ব্যবসায়ী, শ্রমজীবী থেকে শুরু করে নানা শ্রেণি–পেশার প্রায় ২,০০০ নাগরিক স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নিয়ে লিখিতভাবে জানান তাঁদের মতামত, দাবি ও উন্নয়ন প্রত্যাশা।
মাদক, যানজট, ছিনতাই, সন্ত্রাসসহ শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, পরিবহন, নিরাপত্তা, যুব উন্নয়ন, কর্মসংস্থান ও স্থানীয় সেবা–ব্যবস্থাকে কেন্দ্র করে অসংখ্য মানুষ তাঁদের ভাবনা ও বাস্তব অভিজ্ঞতা ক্যানভাসে তুলে ধরেন।
সমাপনী অনুষ্ঠানে মাসুদুজ্জামান বলেন,
“নারায়ণগঞ্জের মানুষের বাস্তব চাহিদা জানা ছাড়া কোনো পরিকল্পনাই টেকসই হতে পারে না। মানুষ যে পরিবর্তন চায়, তা তাদের কাছ থেকেই সরাসরি জেনে নেওয়া আমাদের দায়িত্ব।”
তিনি জানান, চারদিনের কর্মসূচিতে সংগৃহীত সব মতামত শ্রেণিবদ্ধ করে নথিভুক্ত রাখা হয়েছে, যা ভবিষ্যৎ গবেষণা, পরিকল্পনা তৈরি ও নীতি–প্রস্তাবনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন,
“নগর উন্নয়নে অনেক সময় জনগণের প্রকৃত প্রয়োজন পরিকল্পনায় প্রতিফলিত হয় না। এর ফলে ভুল নকশা, অকার্যকর অবকাঠামো ও দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতির ঝুঁকি তৈরি হয়। দেশের অন্যান্য অঞ্চলের মতো নারায়ণগঞ্জেও এমন উদাহরণ রয়েছে, যা আমরা দূর করতে চাই।”
সমাপনী অনুষ্ঠানে সাধারণ মানুষ—সদর ও বন্দর অঞ্চলের বিভিন্ন শ্রেণি–পেশার নাগরিক—উপস্থিত হয়ে নিজেদের প্রত্যাশা তুলে ধরার সুযোগ পাওয়াকে ইতিবাচক উদ্যোগ হিসেবে স্বাগত জানান।
“জনতার প্রত্যাশার ক্যানভাস” নারায়ণগঞ্জবাসীর জন্য একটি অংশগ্রহণমূলক, উন্মুক্ত ও গণতান্ত্রিক প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করেছে। নাগরিকদের লিখিত মতামতই নারায়ণগঞ্জের ভবিষ্যৎ উন্নয়ন অগ্রাধিকার নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা হয়ে উঠবে—এমন বিশ্বাসও ব্যক্ত করেছেন সাধারণ মানুষ।