বিশেষ প্রতিনিধি, সকাল নারায়ণগঞ্জ:
নারায়ণগঞ্জ শহরের প্রাণকেন্দ্র ২ নং রেলগেট সংলগ্ন অত্যাধুনিক আলমাস পয়েন্ট এবং সিটি কর্পোরেশনের বিনোদন সুপার মার্কেটের সামনের ফুটপাত দখল ও ভাসমান হকার বসানোর অভিযোগ উঠেছে বিএনপি নেতা জিয়াউর রহমান জিয়ার বিরুদ্ধে।
মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক জিয়াউর রহমান জিয়া ও তাঁর অনুসারীরা ব্যস্ততম এই মার্কেটগুলোর সামনের ফুটপাত দখল করে অবৈধ দোকান ভাড়ার চক্রান্ত করছেন বলে অভিযোগ করেছেন ক্ষুব্ধ স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীরা। এতে করে মার্কেটের কেনাকাটার পরিবেশ বিঘ্নিত হওয়ার পাশাপাশি চুরি, ছিনতাইসহ নানা অপকর্ম বৃদ্ধির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
স্থানীয়দের সূত্রে জানা যায়, ২ নং রেলগেট সংলগ্ন আলমাস পয়েন্ট, বিনোদন সুপার মার্কেট এবং ঐতিহ্যবাহী সুধীজন পাঠাগার ও চুনকা স্মৃতি মিলনায়তন সংলগ্ন এলাকাটি সবসময় পরিচ্ছন্ন ছিল। কিন্তু সম্প্রতি বিনোদন সুপার মার্কেট (যেটি পূর্বে নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির কার্যালয় ছিল)—তার সামনের ফুটপাতে একাধিক ভাসমান খাবারের দোকান বসানোর চেষ্টা চালান জিয়া।
অভিযোগ রয়েছে, রাতের অন্ধকারে জিয়া ও তাঁর লোকজনের মাধ্যমে এসব দোকান বসানোর জন্য মালামাল নিয়ে আসা হয়। স্থানীয় বাসিন্দারা বাধা দিতে গেলে জিয়ার লোকজন হুমকি-ধামকি প্রদর্শন করে। এ সময় স্থানীয়রা ঘটনা ভিডিও করতে গেলে তাদের মোবাইল ফোন ভেঙে ফেলারও হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।
পরিচয় গোপন রাখার শর্তে বেশ কয়েকজন ব্যবসায়ী জানান, জিয়া ও তাঁর ক্যাডার বাহিনী চলে যাওয়ার পর স্থানীয়রা সেই ভাসমান খাবারের দোকানগুলো ২ নং রেলগেট থান কাপড়ের মার্কেটের পেছনে ফেলে দিয়ে আসেন। কিন্তু পরবর্তীতে জিয়া আবারো বল প্রয়োগ করে দোকানগুলো মার্কেটের সামনে নিয়ে আসেন।
ব্যবসায়ীরা আরও গুরুতর অভিযোগ তুলে বলেন, ২ নং রেলগেট থেকে ডিআইটি হয়ে মন্ডলপাড়া ব্রিজ পর্যন্ত সড়কের দুই পাশের ফুটপাতের সকল হকারের কাছ থেকে দৈনিক ভিত্তিতে চাঁদা আদায় করে জিয়া ও তাঁর বাহিনী। নতুন প্রতিটি দোকান বসানোর ক্ষেত্রে ২০ থেকে ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত এককালীন অগ্রিম আদায় করা হয়। চাঁদা বা এককালীন টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয় বলে তারা জানান। জিয়া বাহিনীর অপতৎপরতায় ডিআইটি ও রেলগেট এলাকার সাধারণ ব্যবসায়ীরা জিম্মি হয়ে পড়েছেন।
এ অবস্থায় ফুটপাত দখলমুক্ত রাখা এবং চাঁদাবাজদের হাত থেকে শহরবাসীকে রক্ষা করতে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন ও জেলা পুলিশ প্রশাসনের আশু জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী ও স্থানীয় বাসিন্দারা।
অভিযোগের বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে অভিযুক্ত জিয়াউর রহমান জিয়ার মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।