রাজনৈতিক প্রতিবেদক, সকাল নারায়ণগঞ্জ:
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ফেনী সফরকে কেন্দ্র করে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে সর্বস্তরের বিএনপি নেতাকর্মীদের গণজোয়ার সৃষ্টি হলেও, অনুপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির শীর্ষ দুই কাণ্ডারি—আহ্বায়ক ও সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান এবং সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট আবু আল ইউসুফ খান টিপু।
মহানগর বিএনপির কমিটি গঠনের পর এবারই প্রথম কোনো বড় ধরণের রাজপথের কর্মসূচিতে শীর্ষ দুই নেতার অনুপস্থিতির ঘটনা ঘটল। এ নিয়ে স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মী এবং রাজনৈতিক মহলে নানা প্রশ্ন ও আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
তবে দলীয় সূত্রে জানা গেছে, মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট আবু আল ইউসুফ খান টিপু মারাত্মকভাবে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন থাকায় স্বশরীরে উপস্থিত হতে পারেননি। তৃণমুলের নেতাকর্মীদের দাবি, টিপু সুস্থ থাকলে প্রধানমন্ত্রীর এই ঐতিহাসিক আগমনকে কেন্দ্র করে হাজার হাজার নেতাকর্মী নিয়ে মহাসড়ক অচল করে দিতেন। মহানগর বিএনপির সাংগঠনিক ভিত মজবুত রাখার পেছনে টিপুর কারিশমাটিক নেতৃত্বের ভূমিকা স্মরণ করে এক নেতাকর্মী আফসোস প্রকাশ করে বলেন, “অসুস্থতার কারণে আজ আমরা প্রিয় নেত্রীবৃন্দসহ প্রধানমন্ত্রীকে বড় পরিসরে অভ্যর্থনা জানানো থেকে বঞ্চিত হলাম। তিনি ভালো থাকলে সবাই আগাম দিকনির্দেশনা পেতাম।”
এদিকে, সাবেক সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আবুল কালামের রাজনৈতিক সচিব ও মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আবুল কাউছার আশার নেতৃত্বে একটি বিশাল বহর লিংক রোড হয়ে ফুল দিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে মহাসড়কে অভ্যর্থনা জানালেও, প্রবেশদ্বার সাইনবোর্ডসহ মহানগরের মূল অংশগুলোতে সংগঠনটির উল্লেখযোগ্য জমায়েত চোখে পড়েনি।
নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের আওতাধীন এলাকার সীমানা সংলগ্ন পথ দিয়ে প্রধানমন্ত্রীর এই প্রথম সফরকালে, সিটির প্রশাসক থাকা সত্ত্বেও অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খানের অনুপস্থিতি এবং ঝিমিয়ে পড়া সাংগঠনিক অবস্থান নিয়ে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন দলের অনেক ত্যাগী কর্মী।
উল্লেখ্য, সফরকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ফেনীর পরশুরাম ও ফুলগাজীতে মুহুরী-কহুয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ প্রকল্প ও একাধিক উন্নয়নমূলক কাজের উদ্বোধনসহ ফ্যামিলি ও কৃষক কার্ড বিতরণ কর্মসূচিতে অংশ নেন। পুরো ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সাইনবোর্ড থেকে মেঘনা টোল প্লাজা পর্যন্ত জেলা বিএনপি ও যুবদলের বাঁধভাঙা ভিড় থাকলেও, মহানগর বিএনপির এমন ঝিমিয়ে পড়া ভূমিকা তৃনমূলের নেতাকর্মীদের মনঃক্ষুণ্ণ করেছে।