নিজস্ব প্রতিবেদক, সকাল নারায়ণগঞ্জ:
বন্দরের মুছাপুরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ ও ব্যবসাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় সংসদ সদস্য আবুল কালামের ছেলে এবং নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আবুল কাউছার আশা ও তাঁর অনুসারীদের বিরুদ্ধে একটি ব্যবসায়ী কার্যালয়ে ভাঙচুর, লুটপাট, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মারধর এবং তালা ঝুলিয়ে দেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) সকালে লাঙ্গলবন্দ সংলগ্ন নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সাবেক স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য প্রার্থী মাকসুদ হোসেনের ছেলে মাহমুদুল হাসান শুভর অফিসে এ তাণ্ডবের ঘটনা ঘটে।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ও শুভর মা নারগিস মাকসুদ অভিযোগ করে জানান, এমপি-পুত্র আবুল কাউছার আশা রাজনৈতিক প্রভাব ও ক্ষমতার অপব্যবহার করে দীর্ঘদিন ধরে তাঁদের পরিবার এবং ছেলের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ওপর অন্যায় চাপ সৃষ্টি করে আসছেন। তাঁদের জায়গায় নির্মিত একটি আধুনিক জিমনেসিয়াম (জিম) সরিয়ে নিতে বাধ্য করা হয়েছে। এমনকি জিম না সরালে ১০ কোটি টাকার মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর হুমকি দেওয়া হয়। পরবর্তীতে আইনি জটিলতা এড়াতে তারা জিমের সমস্ত সরঞ্জাম সরিয়ে নেন।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, জিম সরিয়ে নেওয়ার পরও এমপি-পুত্র আশা নিজে উপস্থিত থেকে দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে বল প্রয়োগপূর্বক শুভর অফিসে প্রবেশ করেন। এ সময় অফিসে ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাট চালানো হয় এবং সেখানে দায়িত্বপ্রাপ্ত ম্যানেজারদের মারধর করে অফিসে তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয়। কাগজ কলের জমি সংক্রান্ত ঘটনার সঙ্গে এই কার্যালয়ের কোনো সম্পর্ক না থাকা সত্ত্বেও বেআইনি হস্তক্ষেপের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, নারায়ণগঞ্জের পুলিশ সুপার (এসপি) ও জেলা প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ ও নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেছেন।
তবে সকল অভিযোগ অস্বীকার করে এমপি-পুত্র আবুল কাউছার আশা মুঠোফোনে জানান, “আমরা দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে স্বাগত জানাতে শোভাযাত্রায় গিয়েছিলাম। পরবর্তীতে জানতে পারি, পেছন থেকে আমাদের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে।”
এ বিষয়ে বন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জামাল উদ্দিন জানান, “সংবাদ পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং লোকজনকে সরিয়ে দেয়। ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে বিস্তারিত অবগত নই। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”