সকাল নারায়ণগঞ্জঃ
বন্দর প্রতিনিধি:
নারায়ণগঞ্জের বন্দর থানা এলাকায় অপরাধ দমনে দৃশ্যমান পরিবর্তন এনেছেন বন্দর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ জামাল উদ্দিন। নবাগত অফিসারদের নিয়ে সাহসিকতা, বিচক্ষণতা ও নানামুখী কৌশলী অভিযানে মাত্র আড়াই মাসেই বন্দরের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ব্যাপক উন্নতি ঘটিয়েছেন তিনি। ইতোমধ্যে তার নেতৃত্বে বিভিন্ন অপরাধে জড়িত প্রায় ৩০০ জন আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে, যা স্থানীয় সচেতন মহলে ব্যাপক প্রশংসিত হচ্ছে।
অস্থিতিশীল পরিস্থিতি থেকে স্বস্তির পথে বন্দর
উল্লেখ্য, একটি সময় বন্দর থানা এলাকায় প্রতিদিনই চুরি, ছিনতাই, ডাকাতি ও হত্যাকাণ্ডের মতো ঘটনাই স্বাভাবিক চিত্রে পরিণত হয়েছিল, যার ফলে পুলিশের ওপর থেকে সাধারণ মানুষের আস্থা অনেকটাই কমে যায়। সেই প্রতিকূল পরিস্থিতিতে সোনারগাঁও থানা থেকে বদলি হয়ে বন্দর থানার ওসির দায়িত্ব গ্রহণ করেন মোঃ জামাল উদ্দিন। সকল অফিসার নতুন হওয়া সত্ত্বেও তিনি দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই নতুন উদ্দীপনায় আভিযানিক কার্যক্রম জোরদার করেন।
ত্রাস সৃষ্টকারী ‘সিফাত-জুম্মান’ বাহিনীসহ শত শত অপরাধী গ্রেফতার
৫ আগস্ট পরবর্তী পরিস্থিতিতে পুরো দেশ যখন পুনর্গঠনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছিল, তখন বন্দরে সিফাত ও জুম্মান বাহিনী নতুন করে তাণ্ডব শুরু করে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি যখন নাজুক, ঠিক সেই মুহূর্তে ওসি জামাল উদ্দিন মাত্র ৫ ঘণ্টার আল্টিমেটামে কুখ্যাত সিফাত ও জুম্মানসহ বাহিনীর ১১ জন সক্রিয় সদস্যকে গ্রেফতার করে কঠোর বার্তা দেন। এর পর থেকে একটানা অভিযানে আড়াই মাসে প্রায় ৩০০ অপরাধীকে আইনের আওতায় এনে আলোচনায় আসেন এই পুলিশ কর্মকর্তা।
‘অপরাধীর জন্য সুপারিশ করলে তার বিরুদ্ধেও তালিকা হবে’
আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখার বিষয়ে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বন্দর থানার ওসি মোঃ জামাল উদ্দিন বলেন, “জেলা পুলিশ সুপার মহোদয়ের নির্দেশনায় আমরা নতুন টিম নিয়ে মাঠে কাজ করছি। অপরাধ দমনে জীবন ঝুঁকি নিয়ে পুলিশ কাজ করবে, আর কোনো অপরাধীর পক্ষে কেউ এসে তদবির করবে—তা আমি এই চেয়ারে থাকা অবস্থায় মেনে নেওয়া হবে না। কোনো অপরাধীর জন্য কেউ সুপারিশ করতে আসলে তার বিরুদ্ধেও আলাদা তালিকা তৈরি করা হবে।”
তিনি আরও জানান, বন্দর থানা, ৩টি পুলিশ ফাঁড়ি, ১টি নৌ ফাঁড়ি, ১টি তদন্ত কেন্দ্র ও ১টি ক্যাম্পের মাধ্যমে ১২ লক্ষাধিক জনসংখ্যার নিরাপত্তা দিতে হচ্ছে। সীমিত জনবল ও যানবাহনের সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য এ্যাডভোকেট আবুল কালামের রাজনৈতিক সচিব ও আবুল কাউসার আশার দেওয়া ২টি গাড়ির সহায়তায় পুলিশের আভিযানিক গতি বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।
জনগণের আস্থা ফিরিয়েছেন ওসি জামাল
বন্দরের সচেতন মহলের মতে, ওসি জামাল উদ্দিনের নেতৃত্বে পুলিশের নতুন টিম যেভাবে দিনরাত কাজ করে যাচ্ছে তা অত্যন্ত প্রশংসনীয়। তার প্রতিটি পদক্ষেপই যেন এক একটি সাফল্যগাঁথা। অস্থিতিশীল পরিস্থিতি থেকে বন্দরবাসীকে স্বস্তি এনে দেওয়া এই কর্মকর্তার ধারাবাহিক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলেই আশাবাদ ব্যক্ত করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।