সকাল নারায়ণগঞ্জঃ
বিশেষ প্রতিবেদক, নারায়ণগঞ্জ:
নারায়ণগঞ্জ শহরের প্রাণকেন্দ্র চাষাড়ায় ফুটপাত ও সড়ক দখল করে ব্যবসা পরিচালনাকারী অসহায় হকারদের জিম্মি করে নিয়মিত লাখ লাখ টাকার চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠেছে হোসেন নামের এক চাঁদাবাজের বিরুদ্ধে। জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও পুলিশ সুপারের (এসপি) নাম ভাঙিয়ে প্রতিদিন এই অবৈধ অর্থ আদায় করা হচ্ছে।
হকার ও স্থানীয়দের অভিযোগ— রাজনৈতিক প্রভাবশালী নেতৃবৃন্দ, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একাংশের অসাধু সদস্য এবং সিটি কর্পোরেশনের অসাধু কর্মচারীদের শেল্টারে ও যোগসাজশেই এই বিশাল চাঁদাবাজি সিন্ডিকেট দীর্ঘদিন ধরে টিকে রয়েছে।
চাঁদাবাজির রেট ও ‘পজিশন ফি’র নামে পকেট কাটা
অনুসন্ধানে জানা যায়, চাষাড়া এলাকায় দোকানের আকার ও অবস্থানের ওপর নির্ভর করে প্রতিটি হকারকে দৈনিক ১০০ টাকা থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত চাঁদা দিতে হয়। এমনকি ফুটপাতের সাধারণ ভ্যানগাড়ি কিংবা ছোট পান-সিগারেটের দোকানদারদেরও প্রতিদিন সর্বনিম্ন ১০০ টাকা চাঁদা দেওয়া বাধ্যতামূলক।
শুধু দৈনিক চাঁদা নয়, চাষাড়া এলাকায় নতুন কোনো দোকান বসাতে চাইলে চাঁদাবাজ হোসেনকে প্রথমে ২০ হাজার থেকে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত মোটা অঙ্কের এককালীন “পজিশন ফি” বা অগ্রিম দিতে হয়। এর পাশাপাশি প্রতিটি বাতির জন্য দৈনিক ১০০ টাকা বিদ্যুৎ বিল এবং ঈদসহ বিভিন্ন উৎসবে চাঁদার পরিমাণ দ্বিগুণ বা তিনগুণ পর্যন্ত বাড়িয়ে আদায় করা হয়।
বাংলাদেশ হকার্স ফেডারেশনের তথ্যমতে, দেশজুড়ে হকারদের কাছ থেকে বছরে প্রায় ২ থেকে ৩ হাজার কোটি টাকার বেশি চাঁদা তোলা হয়, যার বড় একটি অংশ আদায় হয় নারায়ণগঞ্জসহ গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক এলাকাগুলো থেকে।
না দিলে নির্যাতন, নেপথ্যে কারা?
সাধারণ হকারদের চরম আকুতি— চাঁদা না দিলে ফুটপাতে বসতে দেওয়া হয় না, ব্যবসা বন্ধ করে দেওয়া হয়, এমনকি শারীরিক নির্যাতনের শিকারও হতে হয়। হকাররা প্রশ্ন তুলেছেন, “টাকা না দিলে দোকান বসাতে দেওয়া হয় না, তাহলে এই চাঁদাবাজ হোসেনের পেছনে আসলে এত বড় শক্তিশালী হাত কার? কার আশ্রয়ে সে ডিসি-এসপির মতো সর্বোচ্চ প্রশাসনের নাম ব্যবহার করার সাহস পায়?”
যদিও প্রশাসন ও পুলিশ সর্বদা এসব অসাধু যোগসাজশের অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে, তথাপি স্থানীয় জনগণের অভিযোগ— আইনের হাত ও প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে এমন বিশাল অপকর্ম কোনো বড় রাজনৈতিক ছত্রছায়া ছাড়া অসম্ভব।
জনগণ ও নগরবিদদের আহ্বান
পথচারী ও নগর বিশেষজ্ঞদের মতে, সাময়িক উচ্ছেদ অভিযান চালিয়ে ফুটপাত স্থায়ীভাবে দখলমুক্ত করা সম্ভব নয়। প্রকৃত অপরাধী ও এর নেপথ্যে থাকা প্রভাবশালী ইন্দনদাতাদের গ্রেফতার না করলে এই চক্র বারবার মাথাচাড়া দিয়ে উঠবে।
চাষাড়ার সাধারণ হকার ও ভুক্তভোগী নগরবাসী অবিলম্বে নামধারী চাঁদাবাজ হোসেনসহ তার পেছনের প্রভাবশালী সিন্ডিকেটকে চিহ্নিত করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির জোরালো দাবি জানিয়েছেন।