বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর প্রতিষ্ঠাতা, মহান স্বাধীনতার ঘোষক ও বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবর্তক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে নারায়ণগঞ্জে আলোচনা সভা, দোয়া ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বুধবার (৩ জুন) বিকেলে শহরের বরফকল মাঠে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তার বক্তব্যে নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির নেতা ও নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অব কমার্সের সাবেক সভাপতি মাসুদুজ্জামান মাসুদ বলেন, “শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ভারতীয় উপমহাদেশের এমন একজন নেতা ছিলেন, যিনি সমতার ভিত্তিতে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি গড়ে তুলেছিলেন। তাঁর নেতৃত্বেই দেশের মানুষ বহুদলীয় গণতন্ত্রের স্বাদ পেয়েছিল। আজ যারা গণতন্ত্র ও রাজনৈতিক অধিকারের কথা বলেন, তাদের রাজনৈতিক অধিকার ফিরিয়ে দিয়েছিলেন শহীদ জিয়াউর রহমান।”
তিনি আরও বলেন, “ইতিহাসকে কখনো জোর করে পরিবর্তন করা যায় না। ইতিহাস তার নিজস্ব গতিতেই চলে। ইতিহাস বিকৃতির যেকোনো চেষ্টা জনগণ প্রত্যাখ্যান করবে। আমাদের এমন কোনো কর্মকাণ্ড করা উচিত নয়, যাতে দল বা আদর্শ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। জাতীয়তাবাদী শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ থেকে দেশের কল্যাণে কাজ করতে হবে।”
অনুষ্ঠানে উপস্থিত নেতৃবৃন্দ তাদের বক্তব্যে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবন, স্বাধীনতা যুদ্ধকালীন ভূমিকা, জাতীয়তাবাদী দর্শন, বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা এবং দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে তাঁর অবদানের কথা গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব এডভোকেট আবু আল ইউসুফ খান টিপু, যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুস সবুর খান সেন্টু, আতাউর রহমান মুকুল ও আনোয়ার হোসেন আনু, জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মাসুকুল ইসলাম রাজীব, মহানগর যুবদলের আহ্বায়ক মনিরুল ইসলাম সজল, সদস্য সচিব শাহেদ আহমেদ, যুবদলের সাবেক সভাপতি মাকসুদুল আলম খন্দকার খোরশেদ, মহিলা দলের নেত্রী মিতা, শরিফুল ইসলাম শিপলু, মনোয়ার হোসেন শোখনসহ জেলা ও মহানগর বিএনপি এবং অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।
আলোচনা সভা শেষে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের রুহের মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ মিলাদ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় দেশের শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনার পাশাপাশি বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও তাঁর পরিবারের সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়।
এছাড়াও গণতান্ত্রিক আন্দোলন-সংগ্রামে নিহত নেতাকর্মীদের আত্মার মাগফিরাত কামনা এবং দেশের গণতন্ত্র, উন্নয়ন ও জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য দোয়া করা হয়।
অনুষ্ঠানে জেলা ও মহানগর বিএনপি, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, ছাত্রদলসহ অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মীর উপস্থিতিতে বরফকল মাঠ এক মিলনমেলায় পরিণত হয়। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন এবং তাঁর আদর্শ বাস্তবায়নের প্রত্যয়ে অনুষ্ঠানটি সম্পন্ন হয়।