সকাল নারায়ণগঞ্জঃ
আন্তর্জাতিক প্লাস্টিকমুক্ত দিবস ২০২৬ উপলক্ষে নারায়ণগঞ্জের খানপুর এলাকায় ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে সচেতনতামূলক র্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (১৮ মে) আয়োজিত এ কর্মসূচিতে বিভিন্ন সামাজিক, পরিবেশবাদী ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের নেতাকর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার অসংখ্য মানুষ অংশগ্রহণ করেন।
“উৎস পর্যায়ে বর্জ্য পৃথকীকরণ কার্যক্রম” শীর্ষক এ আয়োজনের মূল লক্ষ্য ছিল প্লাস্টিক দূষণের ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং পরিবেশ রক্ষায় সবাইকে সম্পৃক্ত করা। সকাল থেকেই খানপুর এলাকায় নানা বয়সী মানুষের উপস্থিতিতে প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে পুরো কর্মসূচি। হাতে ব্যানার, ফেস্টুন ও বিভিন্ন সচেতনতামূলক স্লোগান সম্বলিত প্ল্যাকার্ড নিয়ে অংশগ্রহণকারীরা র্যালিতে অংশ নেন।
র্যালিটি খানপুরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে। এসময় অংশগ্রহণকারীরা “প্লাস্টিক দূষণ বন্ধ করুন”, “পরিচ্ছন্ন পরিবেশ গড়ি”, “বর্জ্য আলাদা করি, পরিবেশ রক্ষা করি”সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন। সাধারণ মানুষের মধ্যেও এ কর্মসূচি ব্যাপক আগ্রহের সৃষ্টি করে।
র্যালি শেষে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, বর্তমানে প্লাস্টিক দূষণ পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। নদী-খাল, ড্রেন ও জলাশয়ে প্লাস্টিক বর্জ্য জমে পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে। তাই এখন থেকেই সবাইকে সচেতন হতে হবে এবং প্লাস্টিকের ব্যবহার কমাতে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে।
বক্তারা আরও বলেন, শুধুমাত্র সরকার বা কোনো একটি প্রতিষ্ঠানের পক্ষে পরিবেশ রক্ষা সম্ভব নয়। এজন্য সমাজের প্রতিটি মানুষকে দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে। ঘর থেকেই বর্জ্য পৃথকীকরণের অভ্যাস গড়ে তুললে পরিবেশ দূষণ অনেকাংশে কমানো সম্ভব বলে মত দেন তারা।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিরা পরিবেশবান্ধব জীবনযাপন, পুনর্ব্যবহারযোগ্য পণ্যের ব্যবহার বৃদ্ধি এবং একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক বর্জনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তারা তরুণ প্রজন্মকে পরিবেশ রক্ষার আন্দোলনে আরও সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানান।
আয়োজকরা জানান, “Integrated Approaches Towards Sustainable Plastics Use and Marine Litter Prevention in Bangladesh” কার্যক্রমের অংশ হিসেবে এই সচেতনতামূলক কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। ভবিষ্যতেও পরিবেশ সংরক্ষণ ও প্লাস্টিক দূষণ রোধে এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলেও তারা জানান।
সভা শেষে পরিবেশ রক্ষায় সম্মিলিতভাবে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন অংশগ্রহণকারীরা।