সকাল নারায়ণগঞ্জঃ
নারায়ণগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান মর্গ্যান গার্লস স্কুল এন্ড কলেজ-এর পরিচালনা পর্ষদে এলো বড় পরিবর্তন। প্রতিষ্ঠানটির এডহক কমিটির সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন সুপ্রীম কোর্টের বিশিষ্ট আইনজীবী এডভোকেট সামছুন নূর বাঁধন।
সোমবার (৪ মে) ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড-এর জারি করা এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এই নতুন এডহক কমিটির অনুমোদন দেওয়া হয়। নবগঠিত এই কমিটি আগামী ছয় মাসের জন্য দায়িত্ব পালন করবে বলে জানানো হয়েছে।
নবনিযুক্ত সভাপতি সামছুন নূর বাঁধন নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের চারবারের সাবেক সংসদ সদস্য আবুল কালাম-এর কন্যা। তিনি বর্তমানে নারায়ণগঞ্জ জেলা জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম-এর যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন এবং পেশাগত জীবনে একজন দক্ষ ও অভিজ্ঞ আইনজীবী হিসেবে সুপরিচিত।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, গত ১৭ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) সরকার গঠনের পর এই প্রতিষ্ঠানটিতে এটিই প্রথম এডহক কমিটি। ফলে এই নিয়োগকে ঘিরে স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে।
নবনিযুক্ত সভাপতিকে শুভেচ্ছা জানিয়ে নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপি-এর পক্ষ থেকে অভিনন্দন বার্তা দেওয়া হয়েছে। সংগঠনটির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য আমিনুল ইসলাম মিঠু বলেন,
“আমাদের প্রিয় নেতা আবুল কালাম সাহেবের সুযোগ্য কন্যা এডভোকেট সামছুন নূর বাঁধন এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পাওয়ায় আমরা আনন্দিত। তাঁর যোগ্য নেতৃত্বে প্রতিষ্ঠানটি শিক্ষা, শৃঙ্খলা ও উন্নয়নের নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে বলে আমরা বিশ্বাস করি।”
এর আগে টানা প্রায় ১৪ বছর ধরে, অর্থাৎ সাতবার, প্রতিষ্ঠানটির গভর্নিং বডির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন আনোয়ার হোসেন, যিনি নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামী লীগ-এর সভাপতি। তৎকালীন সংসদ সদস্য নাসিম ওসমান ও সেলিম ওসমান-এর সময়কালে তিনি এই দায়িত্ব পালন করেন। দীর্ঘ সময় পর এই পরিবর্তন স্থানীয় অভিভাবক, শিক্ষক ও সচেতন মহলের মধ্যে নতুন প্রত্যাশার জন্ম দিয়েছে।
নবনিযুক্ত সভাপতি সামছুন নূর বাঁধন তার প্রতিক্রিয়ায় বলেন,
“মর্গ্যান গার্লস স্কুল এন্ড কলেজের গৌরবোজ্জ্বল ঐতিহ্য রক্ষা এবং শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়নে আমি সর্বোচ্চ নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করব। এ লক্ষ্যে শিক্ষক, অভিভাবক ও সংশ্লিষ্ট সকলের আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করছি।”
দীর্ঘদিন পর নেতৃত্বে এই পরিবর্তনকে কেন্দ্র করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটিতে নতুন গতি সঞ্চারের প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, নতুন নেতৃত্বের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি শিক্ষার মানোন্নয়ন, শৃঙ্খলা রক্ষা এবং আধুনিক শিক্ষাব্যবস্থার সাথে তাল মিলিয়ে আরও এগিয়ে যাবে।