নারায়ণগঞ্জ শহরের সব সড়ক এখন প্রেস স্টিকার লাগানো ব্যাটারি চালিত অটোরিকশা ও মিশুকের দখলে

  • সকাল নারায়ণগঞ্জ

 

 

নারায়ণগঞ্জ শহরের সব সড়ক এখন ব্যাটারি চালিত অটোরিকশা ও মিশুকের দখলে। অনুমোদন ও লাইসেন্স ছাড়াই শহরের অলিগলি ছাপিয়ে প্রধান সড়কগুলোতে অবাধে চলছে এসব যানবাহন। দিনের পর দিন এসব যানবাহনের সংখ্যা বেড়েই চলেছে। এমনকি শহরের প্রধান সড়কগুলোতে নিয়মিত অটোরিকশার স্ট্যান্ডও তৈরী করা হয়েছে। এতে নিত্য যানজটের কবলে পড়তে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। এই অনুমোদনহীন ও লাইসেন্সবিহীন অটোরিকশা ও মিশুক হাইকোর্ট থেকে নিষেধাজ্ঞা থাকলেও কিছু রাজনৈতিক নেতাদের ছত্রছায়ায় থাকা নেতাকর্মী পুলিশ প্রশাসনের অসাধু কর্মকর্তা ও কথিত নামধারী সাংবাদিকদের যৌথ আতাঁতে দাবড়িয়ে দিব্ব্যি চলছে শহরে।

 

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এই সব অটো, মিশুক ও অটোরিকশাগুলোতে শহরের বেশ কিছু নামে বেনামে ও জেলার বাহিরের বিভিন্ন আন্ডারগ্রাউন্ড পত্রিকা ও অনলাইন পোর্টালের স্টিকার লাগানো। আর এই স্টিকার গুলোর জন্য প্রতিটি অটো, অটোরিকশা ও মিশুককে দিতে হচ্ছে এককালীন সাড়ে ৩ হাজার টাকা। এছাড়াও প্রতিটি গাড়ীর জন্য মাসিক দিতে হয় আরো ১৫০০-২৫০০ টাকা। এ এককালীন ও মাসিক টাকা আবার ভাগ হচ্ছে দুই ভাগে। এক ভাগ যাচ্ছে কথিত সাংবাদিকদের পকেটে অন্য ভাগ যাচ্ছে ট্রাফিক পুলিশের পকেটে।

 

এই গাড়ীগুলো আবার মাসিক চুক্তিও হচ্ছে সেই কথিত কিছু সাংবাদিকদের মাধ্যমে কিছু অসাধু পুলিশ কর্মকর্তার সাথে। এছাড়াও চাষাড়া শহরমুখী আসা গাড়ী দুই বেলা করে সকাল ৮টায় দিতে হচ্ছে ৫০টাকা ও দুপুরে জন্য ১২টায় দিতে হচ্ছে ৫০ টাকা। দিনে মোট ১০০ টাকা করে দিতে হচ্ছে। অন্যদিকে ২নং রেলগেইট ও ফলপট্টিতেও আলাদা আলাদা করে সকাল ৮টায় ও দুপুর ১২টায় ২০ টাকা করে ৪০ টাকা দিতে হয় পুলিশ সদস্যকে এবং এই অটো,মিশুক গুলোকে আবার শহরে দায়িত্বপ্রাপ্ত তিন রেকারের কর্মকর্তাকে মাসিক ২ হাজার থেকে আড়াই হাজার টাকা দিতে হচ্ছে। রেকারের কর্মকর্তারা এই টাকার কিছু অংশ ব্যয় করছে।

 

জেলায় কথিত সাংবাদিকদের এহেন কার্যক্রমে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সচেতন মহল।তারা জানায়,সাংবাদিকরা হলো জাতির চতুর্থ স্তম্ভ এবং জাতির বিবেক। তাদের কাছ থেকে এই ধরনের কার্যক্রম আমরা নারায়ণগঞ্জনাসী আশা করি না। নারায়ণগঞ্জ শহর একটি শান্তিময় স্থান কিন্তু এই শহরে দিন দিন যানজটের ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে শহরবাসীকে।আর এই যানজটের মূল হচ্ছে শহরে তিন চাক্কার অবৈধ যান ইজিবাইক,ব্যাটারিচালিত রিকশা ও অটো। এক তো জেলায় এমনেই অপসাংবাদিকদের দিয়ে ভরপুর অন্যদিকে এদের নামে বেনামে ছেড়ে স্টিকারে শহরে সহজেই প্রবেশ করছে এই অবৈধ যানগুলো। ট্রাফিক পুলিশের নেই তাতে কোন নজরদারি।কিছু হলেই তখন পুলিশ থেকে বলে ট্রাফিক পুলিশে তাদের লোকবল কম কিন্তু তারা যদি কঠোর অবস্থানে থেকে কয়েকদিন দায়িত্ব পালন করে এই অবৈধ যানের বিরুদ্ধে অবশ্যই শহর থেকে অবৈধ যান ও যানজট নিরসন করা সম্ভব।

 

এইসকল কথিত সাংবাদিকের একেক জনের ৩০/৪০ টা করে গাড়ি রয়েছে যা দিয়ে তারা রাতারাতি লাখ লাখ টাকা ইনকাম করছে।

 

ট্রাফিক পুলিশ রঞ্জু তালুকদার  শহিদুল তার লোক ক্যাশিয়ার বিটুল,জহিরুল,সেলিম,ট্রাফিক পুলিশ আবুল বাশার ও তার ক্যাশিয়ার বাবুল,ট্রাফিক পুলিশ হাসান ও তার ক্যাশিয়ার হুমায়ুন এবং ট্রাফিক পুলিশ শফিক ও তার ক্যাশিয়ার নজরুলের সাথে কথিত সাংবাদিকদের যোগসাজশের ফলে প্রতিনিয়ত শহরে প্রেস স্টিকার লাগানো  গাড়ি ছেড়ে দেয়া হচ্ছে।

 

গনমাধ্যম কর্মীরা প্রতিদিন কতটা সাংবাদিকের গাড়ি ছাড়া হচ্ছে এবং প্রতিদিন কতটা গাড়ি আটক করা হলো এইবিষয়ে ট্রাফিক পুলিশ বাশার,শহিদুল,হাসান,শফিকের নিকট জানতে চাইলে ট্রাফিক পুলিশের এডমিন (টিআই) করিম শেখের সাথে যোগাযোগ করতে বলেন।

 

মিশুক চালকদের দাবি, এইসকল ট্রাফিক পুলিশের সোর্সরা স্টিকার গাড়ি ব্যতিত গাড়ি দেখলেই তাদের রেকার নিয়ে আসার সময় আসতে না চাইলে তাদেরকে মারধরসহ টেনে হিচরে রেকারে নিয়ে যান।

 

ভুক্তভোগী এক মিশুক চালক জানান,ট্রাফিক পুলিশ স্টিকার লাগানো গাড়ি ছেড়ে দিলেও তাদের কে ট্রাফিক পুলিশের কিছু সোর্স মারধর সহ অতিরিক্ত রেকার বিল আদায় গ্রহন করে থাকেন৷

 

হাসান নামের এক মিশুক চালক বলেন,প্রতিদিন গাড়ি বের করলে মালিককে ৪৫০ টাকা জমা দিতে হয় এর ভিতরে ট্রাফিক পুলিশ মাসে ২/৩ বার আটক করলে ঘরে চাল কিনার টাকাটা পর্যন্ত মাস শেষে হাওলাদ করতে হয়।

 

সুশীল সমাজের দাবি, নারায়ণগঞ্জে সর্বপ্রথম স্টিকার লাগানো গাড়িগুলা আটক করার পর এইসকল কথিত সাংবাদিকদের উপর ব্যবস্থা গ্রহন করলে নারায়ণগঞ্জ অনেকটা যানজটমুক্ত নগরীতে পরিনত হবে।