চাষাড়া সোনালী ব্যাংকের সামনের ফুটপাত পথচারীদের নাকি হকারদের তা বোঝা মুশকিল

  • সকাল নারায়ণগঞ্জ

 

 

নারায়ণগঞ্জ চাষাড়া সোনালী ব্যাংকের সামনের ফুটপাত পথচারীদের নাকি হকারদের তা বোঝা মুশকিল। প্রায় সব ব্যস্ত রাস্তার ফুটপাত এখন হকারদের দখলে। ভ্রাম্যমাণ ও অস্থায়ী হকারদের কারবারে ফুটপাত ধরে হাঁটতে বেগ পেতে হয় পথচারীদের। অর্থাৎ ফুটপাতই এখন যেন পথচারীদের ভোগান্তির কারণ।

 

সোনালী ব্যাংকের সামনের হকারদের কারনে কর্মকর্তাদের অফিস করতে ব্যাঘাত ঘটছে। অপরদিকে ব্যাংকে আসা জনগন পরছে ভুগান্তিতে।

 

সোনালী ব্যাংকের সামনে পিঠার দোকান,বটের দোকান ও অবৈধ সিএনজি,মিশুক,অটোর কারনে প্রতিনিয়ত যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে অথচ পুলিশের গাড়ি অইখানে থাকার পরও কোন ব্যবস্থা গ্রহন করতে দেখা যায়না।

 

নগরবাসীর এই ভোগান্তি যেন দেখার কেউই নেই। কিন্তু সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তারা বলছেন, পথচারীদের জন্য ফুটপাত দখলমুক্ত রাখতে তাদের নিয়মিত অভিযান অব্যাহত আছে। অনেক ফুটপাতে যেন স্থায়ীভাবে গেঁড়ে বসেছেন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা।

 

কোনো কোনো জায়গায় দোকানের সঙ্গে ভ্রাম্যমাণ ভিক্ষুক ও টোকাইদের উপদ্রবও অতিষ্ঠ করে পথচারীদের। প্রায় সব এলাকায়ই দিনের সূর্য ওঠার সঙ্গে সঙ্গে ফুটপাতগুলো হকার ও ব্যবসায়ীদের দখলে চলে যায়। এলাকাভেদে রাত ১০টা বা ১১টা পর্যন্ত তাদের দখলেই থাকে ফুটপাত। পথচারীরা ফুটপাতে ফেরার আগেই আবারও হকারদের দখলেই চলে যায় ফুটপাত।

 

সোনালী ব্যাংকের কর্মকর্তা ফয়সাল বলেন, ‘দেখছেনই, কীভাবে অফিসে যেতে হচ্ছে। ফুটপাতে আমাদের জন্য চলাচল করা খুবই কঠিন। যেখানে সড়কে দুর্ঘটনার শিকার হতে হয়, সেখানে ফুটপাতেরও যদি এ অবস্থা হয়, তাহলে সেটা কোনোভাবেই মানা যায় না। চলার পথে হকার-ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে ক্রেতাদের যে ভিড়, এর মাঝে চলাচল করা সত্যিই কঠিন। একজন পথচারী হিসেবে চাই, অবশ্যই ফুটপাত দখলমুক্ত করা হোক।’

 

কথা হয় চাষাড়ায় পথচারী পলাশের সঙ্গে। একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের এই কর্মকর্তা বলেন, ‘অফিস থেকে ফেরার পথে ফুটপাত ধরে বাসায় ফিরি। কিন্তু ঢাকা শহরের বেশিরভাগ এলাকার ফুটপাত ব্যবসায়ীদের দখলে। হকার ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা ফুটপাতেই ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন। এতে করে বেশি ভোগান্তির শিকার হন পথচারীরা। বছরের পর বছর এই ভোগান্তি চললেও সিটি করপোরেশনের স্থায়ী কোনো উদ্যোগ আমরা দেখি না।’

 

তিনি আরও বলেন, ‘হঠাৎ অভিযানে ফুটপাত দখলমুক্ত করা হলেও দু-চারদিন পর আবার ফুটপাতে চলাচল করা যায় না। দু- একটি দোকান উচ্ছেদ করে ‘উচ্ছেদ অভিযান নামক প্রচারণা চালান কর্তৃপক্ষ’। কিন্তু সেই প্রচারণাও হয় জনগণের জন্য আরেক ভোগান্তি। এখন তো আবার ফুটপাতের জায়গা দখল করে রাস্তা বড় করার প্রবণতা দেখা যায়। কিন্তু শুধু রাস্তা বড় করলেই তো হবে না, পথচারীদের চলাচলের জন্যও জায়গা রাখতে হবে।

 

এব্যাপারে সদর থানার তদন্ত কর্মকর্তা সাইদুজ্জামানের সাথে কথা বললে তিনি জানান,পুলিশ সর্বদা হকার উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করে আসছেন। পুলিশ হকার উচ্ছেদ করে চলে গেলে পুনরায় তারা আবার বসে পড়েন।