নারায়ণগঞ্জের যানজটের মূল সমস্যা হচ্ছে মৌমিতা

সকাল নারায়ণগঞ্জ:
নারায়ণগঞ্জে অবৈধ পরিবহনের সংখ্যা বাড়ছে উদ্বেগজনক হারে। রুট পারমিট নেই, নেই ফিটনেস। তবুও এসব পরিবহন চলছে। প্রয়োজনীয় কাগজ পত্র বিহীন লক্করঝক্কর গাড়ি সড়কে দিব্বি চলাচল করলেও দেখার যেন কেউ নেই। তবে শীঘ্রই এসব পরিবহনের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করার কথা জানিয়েছেন জেলা প্রশাসন।
নগরীর সড়কে প্রতিনিয়ত লঙ্ঘন হচ্ছে ট্রাফিক আইন। যানবাহনের মালিকেরা ট্রাফিক আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে অদক্ষ ও ড্রাইভিং লাইসেন্স বিহীন চালকদের হাতে গাড়ি তুলে দিচ্ছেন। ফলে যাত্রীদের নিরাপত্তা উপেক্ষিত হচ্ছে প্রতিনিয়ত। যানবাহনের ত্রুটি ও লাইসেন্স সংক্রান্ত সকল বিষয় দেখার দায়িত্ব ট্রাফিক পুলিশের হলেও দায়িত্ব নিয়ে চলছে অবহেলা।
বুধবার (২৯ জুন) সরেজমিনে দেখা যায়, চাষাড়া থেকে লিংকরোড, চিটাগাংরোড ও মুন্সিগঞ্জ গামী অধিকাংশ লেগুনা চালকদের মধ্যে বেশীর ভাগই অপ্রাপ্ত বয়স্ক। যাদের নেই ড্রাইভিং লাইসেন্স। এসব পরিবহনের নেই কোনো রেজিস্ট্রেশন ও চালকদের ড্রাইভিং লাইসেন্স। লেগুনার চালকদের বেশীরভাগ অদক্ষ ও দ্রুত গতিতে চালানোর কারণে প্রায়ই ঘটছে দুর্ঘটনা। এছাড়াও এ লেগুনাগুলো যত্রতত্র পার্কিংয়ের কারণে বিপাকের পড়ছে পথচারীরা। এছাড়া চাষাড়া মোড়, দুই নম্বর রেলগেটসহ লিংক রোডের একাধিক স্থানে ও অবৈধ বাস স্ট্যান্ডে ইচ্ছেমত গাড়ি পার্কিং করে যাত্রী উঠানামা করা হয়। বেশীরভাগ সময় সড়কে জ্যাম সৃষ্টি করে যাত্রী উঠানো হয়।
অনুসন্ধানে জানা যায়, মৌমিতা, অনাবিল, হিমাচল, আল্লাহ ভরাসা, দুরুন্ত, বন্ধু পরিবহন, বাঁধন পরিবহনের ব্যানারে চলাচলরত অধিকাংশ বাসের রুট পারমিট, টেক্সটোকেন, ইনস্যুরেন্স ও ফিটনেস সাটিফিকেট নেই। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র না থাকলে প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায় গাড়িগুলো চলছে বীরদর্পে।
বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি (বিআরটিএ) নারায়ণগঞ্জ বিভাগের সহকারি পরিচালক সৈয়দ আইনুল হুদা অবৈধ ও ফিটনেস বিহীন পরিবহনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করার কথা জানিয়ে বলেন, গত ১২ জুন থেকে ফিটনেস ও রুট পারমিট ছাড়া পরিবহনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করার সিদ্ধান্ত নেয়ার কথা বলা হলেও এখন পর্যন্ত কোন ব্যবস্থা নিতে দেখা যায় নি। বৈধ পরিবহন মালিকদের সাথে বিআরটিএ ও জেলা প্রশাসনের যৌথ আয়োজনে সভা হয়েছে।
যেখানে আগামী ২৩ জুনের মধ্যে তাদের লাইসেন্সকৃত পরিবহনের তালিকা দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। তালিকার বাহিরে তাদের অন্য কোন গাড়ি চলাচল করতে দেওয়া হবে না। কেবল বাস না, এই অভিযানের আওতায় লেগুনা, সিএনজিসহ অন্যান্য পরিবহনও অর্ন্তভুক্ত রয়েছে। শীগ্রই কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
জেলা প্রশাসক মঞ্জুরুল হাফিজ বৈধ পরিবহন মালিকদের সঙ্গে আলোচনা সভায় তিনি বলেন, যেকোন ভালো কাজের জন্য ত্যাগ করতে হয়। নারায়ণগঞ্জে পরিবহনকে সুশ্ঙ্খৃল করতে সকলকে একত্রে চেষ্টা করতে হবে। লোভ একটু কম করতে হবে।