দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি ও সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাসের প্রতিবাদে নারায়ণগঞ্জে বাম জোটের সমাবেশ ও মিছিল

সকাল নারায়ণগঞ্জঃ

চাল, ডাল, তেল, পেঁয়াজ, চিনি, এলপিজিসহ নিত্যপণ্যের ত্রƒমাগত মূল্য বৃদ্ধি ও সারাদেশে সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাসের প্রতিবাদে বাম গণতান্ত্রিক জোট নারায়ণগঞ্জ জেলা শাখার উদ্যোগে আজ ১৮ অক্টোবর’২১ বিকাল ৪:৩০টায় চাষাড়াস্থ শহিদ মিনারে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশ শেষে একটি মিছিল শহর প্রদক্ষিণ করে।


জেলা বাম জোট ও বাসদের সমন্বয়ক নিখিল দাসের সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য রাখেন সিপিবি নারায়ণগঞ্জ জেলার সভাপতি হাফিজ্ুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক শিবনাথ চক্রবর্ত্তী , বাসদ নেতা আবু নাঈম খান বিপ্লব, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক আবু হাসান টিপু, গণসংহতি আন্দোলনের সমন্বয়ক তরিকুল সুজন, নির্বাহী সমন্বয়ক অঞ্জন দাস প্রমুখ।


নেতৃবৃন্দ বলেন, নিত্যপণ্যের মূল্য বৃদ্ধিতে দেশের মানুষ দিশেহারা। চাল,ডাল,তেল,পেয়াঁজ,চিনি ,ব্রয়লার মুরগি,শাকসব্জী এমন জিনিস নেই যেটার দাম বাজারে বৃদ্ধি পায়নি। যেখানে ভারত,পাকিস্থান, থাইল্যান্ডসহ সব চাল উৎপাদনকারী দেশে চালের দাম গত বছরের চেয়ে ১৫ শতাংশ কমে গিয়েছে , আর বাংলাদেশে ৩১ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে, যেটি সম্পূর্ণ অযৌক্তিক।

এদিকে কৃষিমন্ত্রী বলেন , চালের দাম বাড়লেও অস্বস্তিতে নেই মানুষ। ইতিমধ্যে পেঁয়াজ আমদানিতে শুল্কবাতিল ও চিনি আমদানিতে শুল্ক ৩০ থেকে কমিয়ে ২০শতাংশ করা হয়েছে। যদিও এর প্রভাব বাজারে তেমন পড়বে বলে মনে হয় না। শুধু তাই নয় আবার এলপিজি গ্যাস সিলিন্ডারের দাম ২২ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।

টিসিবি পরিচালিত ট্রাকসেলের লাইনে এখন নি আয়ের মানুষের সাথে মধ্যবিত্তরাও যুক্ত হয়েছে। এক দিকে করোনায়৭৬ ভাগ মানুষের আয় কমে গিয়েছে, এর সাথে নিত্যপণ্যের ঊর্ধ্বগতি ”মরার উপর খাড়ার ঘাঁ” এর সামিল। সরকার বাজার নিয়ন্ত্রন করতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে। অসাধু ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে সরকারের কোন পদক্ষেপ নেই।


নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, সাম্প্রতিক সময় দেশব্যাপী পূঁজা মন্ডপ, হিন্দু সম্প্রদায়ের ঘর-বাড়ি, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাসে হতাহতের ঘটনা দেশবাসীর সাথে আমরাও উদ্বিগ্ন। কোন ধর্মপ্রাণ মানুষ সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাসের সাথে যুক্ত থাকতে পারে না। ধর্মের নামে সন্ত্রাস সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেয়ার দায়িত্ব সরকারের।

সরকার এ দায় এড়াতে পারে না। রামু , নাসিরনগরসহ অতীত ঘটনার বিচার হলে হয়তো নতুন করে হিন্দু সম্প্রদায়ের উপর এ হামলা হতো না ।
নেতৃবৃন্দ নিত্যপণ্যের দাম কমানো এবং সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারের প্রতি দাবি জানান।