বেফাঁস মন্তব্যে বিতর্কিত আওয়ামীলীগ নেতা জাহাঙ্গীর

সকাল নারায়ণগঞ্জ:

নিজ দলকে স্বাধীনতা বিরোধী দল বলায় নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. জাহাঙ্গীর আলমকে দল থেকে অব্যাহতি দেয়ার পর ক্ষমা করলেও থেমে নেই তার বেফাঁস মন্তব্য। বিভিন্ন সময়ই সভা-সমাবেশে তার বেফাঁস মন্তব্যের কারণে রাজনৈতিক মহলে বির্তকের সৃষ্টি করছে বির্তিকিত সেই জাহাঙ্গীর। এতে করে তৃণমূল সহ অন্যতম রাজনৈতিক দল ও মহাজোটের শরিক দল জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীরাও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

স¤প্রতি বন্দর উপজেলার কুড়িপাড়া এলাকায় বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবর্ষ উদযাপন উপলক্ষে নারায়ণগঞ্জ পরিষদ ৩নং ওয়ার্ড এর উদ্যোগে শীতার্তদের মাঝে কম্বল বিতরণী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে একজন জাতীয় সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদককে উদ্দেশ্য করে আবারো বেফাঁস মন্তব্য করেছেন জাহাঙ্গীর আলম।

ওই অনুষ্ঠঅনে তিনি জাতীয় পার্টির মনোনিত এমপি সেলিম ওসমানকে উদ্দেশ্য করে বলেছেন, রাজাকারের ছেলে মাকসুদকে মুছাপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নির্বাচনে পাশ করিয়েছেন এমপি সেলিম ওসমান। যারা নৌকা মার্কাকে ডুবিয়ে দেন তাদের প্রতিষ্ঠিত যারা করছেন তাদের দিয়ে আওয়ামীলীগের মঙ্গল কখনোই সম্ভব নয়। নৌকা নিয়ে কোন কথা বলার অধিকার নেই আপনার (সেলিম ওসমানের)। কোথাকার কোন লাঙ্গল। লাঙ্গল দিয়ে এখন হালচাষ হয় না। এখন ট্রাক্টর দিয়ে হাল চাষ হয়। লাঙ্গল লাথি মেরে নদীতে ফেলে দেন।

এছাড়াও জেলা আওয়ালীগের সাধারণ সম্পাদক ভিপি বাদলকে উদ্দেশ্য করে বলেন, কোথাকার না কোথাকার বাদল মতলব এর লোক নদীতে ভেসে এসে আনোয়ার ভাইয়ের বিরুদ্ধে কথা বলে। মেয়র আইভির বিরুদ্ধে কথা বলে। তার কত বড় দু:সাহস? তিনি জনগনকে বলেন যে, নৌকায় ভোট দিবেন না, জননেত্রী শেখ হাসিনার কাছে আমরা তার বিচার চাইবো।
আওয়ামীলীগ থেকে তার অব্যহতি চাইবো।

এদিকে এ বিষয়ে কথা হলে জেলা আওয়ালীগের সাধারণ সম্পাদক আবু হাসনাত শহীদ মো. বাদল জানান, আমরা সকলেই নৌকার কর্মী। এ পর্যন্ত সকল জায়গায় আমি নৌকা আর আমার জননেত্রী মানস কন্যা শেখ হাসিনা এবং তার উন্নয়ন সহ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর কথাই বলে এসেছি। ওইসব বক্তব্য বিভিন্ন সংবাদ পত্রে সাংবাদিক বন্ধুরাই প্রকাশ করেছে। সত্যিকার অর্থে পুরো বক্তব্য না বুঝে কেউ কেউ আমাকে ভুলভাবে উপস্থাপন করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। আমি বলেছি প্রধানমন্ত্রী নৌকা দিয়েছে বলেই আমরাই তো মেয়রকে পাশ করিয়েছি। প্রধানমন্ত্রীতো আর নৌকা মার্কাটা এজন্য দেয়নি। যেন আমরা মসজিদের জায়গা দখল করি, হিন্দু স¤প্রদায়ের জমি দখল করি। এমন করলে কোন দখলদারকে আমরা ভোট দিবো না। সেটা বলেছি। আমরা বঙ্গবন্ধু’র আদর্শে শেখ হাসিনার নৌকার রাজনীতি করি। এটা কিভাবে সম্ভব যে আমি নৌকার বিরুদ্ধে বলবো। শুধু শুধু অপ্রাসঙ্গিক সমালোচনা করে কিছু কুচক্রি মহল নিজেকে জাহির করার চেষ্টা চালাচ্ছে।

এদিকে জাহাঙ্গীর আলমের এমন বক্তব্যে ফুঁসে উঠেছে স্থানীয় জাতীয় পার্টি নেতাকর্মী সহ আওয়ামীলীগের নেতাকর্মী ও জনপ্রতিনিধিগণ। ইতমধ্যে হুশিয়ারীও দিয়েছেন বন্দর উপজেলার চেয়ারম্যান দেলোয়ার প্রধান, এহসান আহম্মেদ, এমএ সালাম সহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা। আবার অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন, তাকে অব্যহতি থেকে ক্ষমা করায় এমনটা হয়েছে। তা না হলে কিভাবে যাকে ইচ্ছা তাকে নিয়ে একের পর এক বেফাঁস মন্তব্য করার সাহস পায়। যেখানে নিজের পদ নিয়ে নড়েচড়ে বসার কথা সেখানে কিভাবে স্থানীয় এমপিকে উদ্দেশ্য করে কথা বলে এবং একটি রাজনৈতিক প্রতিক লাঙ্গল র্মাকাকে লাথি মেরে ফেলে দেয়ার মত কথা বলে। এছাড়াও নিজ দলে থেকেই জেলা আওয়ামীলীগের একজন সাধারণ সম্পাদকের অব্যহতি চাওয়ার মত সাহস করে।

এ বিষয়ে মুঠোফোনে কথা হলে নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি আবদুল হাই বলেন, নিজ দলকে নিয়ে নেতিবাচক মন্তব্য করায় আমরা এরআগে তাকে ক্ষমা করেছিলাম। তবে এবারো যদি কাউকে নিয়ে কিছু বলে থাকে তেমন কিছু আমি জানিনা। তবে যদি কারো কোন অভিযোগ থাকে আমাদের লিখিত আকারে দিলে বিষয়টি দেখবো। আর কেউ অব্যহতি চাইলেই তো হবে না। জেলার সাধারণ সম্পাদকের ব্যাপারে আমাকে তো আর কিছু জানায়নি। দলে সম্মান ক্ষুন্ন হওয়ার মত কিছু করলে যে কেউ হোক আমরা সাংগঠনিকভাবেই ব্যাবস্থা নিবো।