সিনহা হত্যা ঘটনার দায়ে ওসি প্রদীপ কুমার পুলিশ হেফাজতে

সকাল নারায়ণগঞ্জঃ

স্টাফ রিপোর্টার (আশিক)

সাবেক সেনা কর্মকর্তা সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় টেকনাফ থানার প্রত্যাহারকৃত ওসি প্রদীপ কুমার দাসকে পুলিশের হেফাজতে নেয়া হয়েছে।


চট্রগ্রাম থেকে তাকে কক্সবাজারে নেয়া হচ্ছে। এর আগে বুধবার (৫ আগষ্ট) রাতে প্রদীপ কুমারসহ এ মামলার আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে আদালত। অবরসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহার বোন শারমিন শাহরিয়ারের দায়ের করা মামলায় আদালত এ পরোয়ানা জারি করে।


মামলায় বাহারছড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইন্সপেক্টর লিয়াকতকে প্রধান আসামি ও টেকনাফ থানার প্রত্যাহারকৃত ওসি প্রদীপ কুমার দাসকে দ্বিতীয় আসামি করা হয়। এছাড়া মামলার অন্য আসামিরা হলেন- বাহারছড়া তদন্ত কেন্দ্রের উপপরিদর্শক (এসআই) নন্দ দুলাল রক্ষিত, কনস্টেবল সাফানুর করিম, কামাল হোসেন, আব্দুল্লাহ আল মামুন, সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) লিটন মিয়া, সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) টুটুল ও কনস্টেবল মোহাম্মদ মোস্তফা।


এছাড়াও বরখাস্ত ও প্রত্যাহারে যাচ্ছে বলে জানা যায় পুলিশ অফিসার প্রদীপ কুমার দাসের কর্মময় জীবন।  ২০১২ সালে আদালতের অনুমতি ছাড়া বন্দরে আসা একটি বিদেশী জাহাজকে তেল সরবরাহে বাধা, বার্জ আটক এবং ১৮ দিন পর বার্জ মালিকসহ ১২ জনকে বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা দিয়ে হয়রানি ও অনৈতিক সুবিধা নেয়ার ঘটনায় ফেঁসে যান তৎকালীন পতেঙ্গা থানার ওসি প্রদীপ। এ ঘটনায় পুলিশ প্রশাসনে তোলপাড় হয়। বিষয়টি পুলিশ সদর দফতর ও তিনটি গোয়েন্দা সংস্থা পৃথকভাবে তদন্ত করে। অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার পর ওসি প্রদীপকে পতেঙ্গা থানা থেকে প্রত্যাহার করা হয়।


২০১৩ সালের ২৪ জানুয়ারি ওসি প্রদীপের একটি মামলায় রিমান্ড আবেদনের বিরোধীতা করায় এক আইনজীবীকে লালদীঘির পাড় থেকে ধরে নিয়ে থানায় আটকে রাতভর নির্যাতন চালানো হয়। নির্যাতনের শিকার ওই আইনজীবী সুস্থ হয়ে ২৯ জানুয়ারি আদালতে পাঁচলাইশ থানার ওসি প্রদীপ কুমার দাশ, ওসি তদন্ত আজিজ আহমেদ, এসআই মাসুদ পারভেজসহ ৮ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। এ ঘটনার পর চট্টগ্রাম আইনজীবী সমিতির সভায় সিদ্ধান্ত নেয়া হয় ওসি প্রদীপের পক্ষে কোনো আইনজীবী মামলা পরিচালনা করতে পারবেন না।


এছাড়া পাঁচলাইশে ওসি থাকাকালীন বাদুরতলা এলাকায় বোরকা পরা এক বয়োবৃদ্ধাকে রাজপথে পিটিয়ে রক্তাক্ত জখম করে ব্যাপক সমালোচিত হন ওসি প্রদীপ। এ ঘটনার খবর গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে পুলিশের ঊর্ধ্বতন মহলে টনক নড়ে। ওসি প্রদীপের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত করা হয়। এক পর্যায়ে ২০১৩ সালের ২১ আগস্ট তাকে পাঁচলাইশ থানা থেকে প্রত্যাহার করা হয়।


 চট্টগ্রামে সিআইপি পদমর্যাদার একজন শিল্পপতিকে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানির অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার পর তৎকালীন বায়েজিদ বোস্তামি থানার ওসি প্রদীপ কুমার দাশকে ২০১৬ সালের ১৬ নভেম্বর সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছিল।


কোতোয়ালী থানার এসআই থাকাকালীন নগরীর পাথরঘাটায় এক হিন্দু বিধবা মহিলার জমি দখলের অভিযোগ রয়েছে প্রদীপ কুমার দাশের বিরুদ্ধে। এমনকি তার বিরুদ্ধে অভিযোগ থেকে পাঁচলাইশ থানা এলাকায় নিজের বোনের জমি দখলের অভিযোগটাও বাদ যায়নি। এ নিয়ে ভুক্তভোগীদের অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা তদন্ত করলেও অজ্ঞাত কারণে পার পেয়ে যান প্রদীপ কুমার দাশ। 


২০২০ সালে আগষ্টে অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা কে হত্যার অভিযোগে আবারও কর্মস্থল টেকনাফ থানা থেকে প্রত্যাহার করা হয় এই বিতর্কিত ওসি প্রদীপ কুমার দাসকে।