শহরে ব্যাটারি চালিত অবৈধ অটো রিক্সা ও মিশুক গুলো চলছে প্রশাসনের নাকের ডগায়

  • সকাল নারায়ণগঞ্জ

 

রিক্সা এ দেশের অনেকেরই প্রিয় বাহন। খোলামেলা বলে চড়তে আরাম,খুব দূরে না হলে যে কোন গন্তব্যস্থানে যাওয়া যায়, ভাড়াও অধিকাংশ সময় নাগালে থাকে, পরিবেশ দূষণ হয় না বললেই চলে, হাওয়া খেতে খেতে যাওয়া যায়, রিক্সা ভ্রমন কারো কারো কাছে রোমাঞ্চেরও বিষয় সব মিলিয়ে রিক্সা চড়তে পছন্দ করেন না এমন লোক খুব একটা পাওয়া যাবে না। তবে রিক্সায় চড়ার উল্টো দিকও আছে। যানজটের অন্যতম কারণ ও শব্দ দূষণ। অতিরিক্ত এলইডি হেডলাইটের কারণে মানুষের দূষ্টিশক্তি হারিয়ে যেতেপারে অভিযোগ হিসেবে রিক্সাকেই চিহ্নিত করা হয়। যখন তখন দুর্ঘটনা, যত্রতত্র পার্কিং, অতিরিক্ত ভাড়া আদায় কিংবা রিক্সাওয়ালার দুর্ব্যবহারসহ আছে আরো নানা বিড়ম্বনা।

 

রিচার্জেবল ব্যাটারি চালিত অবৈধ অটো রিক্সা ও মিশুক গুলো চলছেই  প্রশাসনের নাকের ডগা দিয়ে। সাধারণ রিক্সার সাথে বাজার থেকে কেনা ইউপিএস,ব্যাটারি এবং ছোট মটর সংযোগকারী এসব রিচার্জেবল ব্যাটারি চালিত অবৈধ অটো ও রিক্সার আধিপত্য এখন নারায়ণগঞ্জ জুড়ে। এর ফলে পায়ের সাহায্যে প্যাডেল দ্বারা রিক্সা চালানো কষ্ট বিধায় রিক্সা চালকগণ ব্যবহার করতে উৎসাহিত হচ্ছে এবং দ্রুতগামী বিধায় যাত্রীগণও আরোহনে সাচ্ছন্দ মনে করছে।এর ধারাবাহিকতায় বর্তমানে এধরনের রিচার্জেবল ব্যাটারি চালিত অবৈধ অটো ও রিক্সার হার দিনদিন বৃদ্ধি পাচ্ছে।

 

রিচার্জেবল ব্যাটারি চালিত অবৈধ অটো ও রিক্সার রমরমা ব্যবসা চলছে। এগুলো রাস্তায় চলতে গিয়ে অহরহ দুর্ঘটনায় পতিত হচ্ছে। এতে সাধারণ যাত্রীদের আহতের সংখ্যা কম নয়। প্রতিদিন যাত্রীরা সহ চালকরা আহত হচ্ছেন। এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার প্রয়োজনীয় কোন পদক্ষেপ পরিলক্ষিত না হওয়ায় জনমনে ক্ষোভের সৃষ্টি হচ্ছে।

 

নারায়ণগঞ্জের চাষাঢ়া থেকে পঞ্চবটী রোডে নিয়মিত মিশুক  চালান ইউসুফ। শহরে ইজিবাইক প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা থাকলেও প্রতিদিনই তিনি চাষাঢ়া এসে যাত্রী তুলছেন। তার মতো কয়েকশ অটোরিক্সা ও মিশুক চালক চাষাঢ়া রোডে চলাচল করছেন।

 

প্রবেশে নিষেধাজ্ঞার পরেও কিভাবে শহরে ঢুকেন জানতে চাইলে ইউসুফ, সাংবাদিক পরিচয় জানতে পেয়ে বলেন সাংবাদিককে মাসে ১৫০০ টাকা দিতাম মাসোয়ারা হিসেবে। এতে করে শহরে ঢুকলে পুলিশের হাত থেকে তিনি রক্ষা করবেন বলেছিলেন কিন্তু কয়েকদিন আগে আমার মিশুক পুলিশে আটক করে নিয়ে যায়। সেই সাংবাদিককে ফোন দেওয়ার পরেও ছাড়েনি। পরে ১০০০ টাকা জরিমানা দিয়ে ছুটে আসতে হয়েছে। এই রোডের বেশীরভাগ অটোরিক্সা বা মিশুক কোনো না কোনো সাংবাদিকের অধীনেই চলাচল করে। পুলিশ আর সাংবাদিক মিলে আমাদের কষ্টের টাকাগুলি লুটেপুটে খাচ্ছে। এরকম শতশত গল্প শহরের মিশুক ও অটো রিক্সা চালকদের।

 

প্রশাসন নারায়ণগঞ্জ শহরে ইজিবাইক চলাচলে নিষেধাজ্ঞা দিলেও তাদের নাকের ডগা দিয়েই সারাদিন অবাধে চলছে এই অবৈধ যানটি।

 

চালকদের কাছ থেকে প্রতিদিন টাকা নিয়ে অবৈধ ইজিবাইককে শহরে প্রবেশাধীকার দিচ্ছেন এই অসাধু পুলিশ সদস্যরা। তাদের এই কাজে সহযোগী হিসেবে রয়েছে শহরের কয়েকজন কথিত সাংবাদিক যারা পুলিশের সাথে চালকদের মধ্যস্ততা করিয়ে দিয়ে টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন। এসব চাঁদাবাজ ট্রাফিক পুলিশ ও নামধারী সাংবাদিকের হাত থেকে নিস্তার চান ইজিবাইক চালকরা আর শহরবাসী চান একটি পরিচ্ছন্ন চলাচল উপযোগী নগরী।