আলীরটেকে আতংক সৃষ্টি করতে নিরীহ শ্রমিককে পিটিয়ে রক্তাক্ত করলো জাকির বাহিনী!

সকাল নারায়ণগঞ্জঃ

আগামী ১১ নভেম্বর নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার আলীরটেক ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচনে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী সাবেক চেয়ারম্যান জাকির হোসেনের সন্ত্রাসী বাহিনী এলাকায় আতংক সৃষ্টি করতে এক নিরীহ শ্রমিককে অহেতুক অতর্কিতভাবে হামলা চালিয়ে রক্তাক্ত জখম করেছে বলে অভিযোগ ওঠেছে।


জাকির বাহিনীর সন্ত্রাসীদের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে আহত আলামিনকে নারায়ণগঞ্জ ভিক্টোরিয়ার হাসপাতালে নেয়া হলে তার হাতে ৬টি সেলাই দিয়েছেন চিকিৎসক। এ ঘটনায় নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন আহত আলামিন।


ঘটনা সূত্রে জানাগেছে, ২২ অক্টোবর শুক্রবার বিকেলে আলীরটেক এলাকায় চেয়ারম্যান পদে নৌকার প্রার্থী জাকির হোসেনের কর্মী সভা অনুষ্ঠিত হয়। ওই সভায় আলীরটেক ইউনিয়নের গুঞ্জুকুমারীয়া এলাকা থেকে জাকির হোসেন বাহিনীর সন্ত্রাসীরা যাওয়ার পথে কুড়েরপাড় ব্রীজে যানজট থাকায় অটোরিক্সা চালক ও অটোর যাত্রীদের মারধর শুরু করে।


ওই সময় অটোযাত্রী কুড়েরপাড় এলাকার মোহাম্মদ হোসেনের ছেলে আলামিন অটোরিক্সা চাপাতে বলা মাত্রই জাকির হোসেন বাহিনীর সন্ত্রাসী আবদুর রহমান সহ ৭/৮ জন আলামিনকেও মারধর শুরু করে। এক পর্যায়ে সন্ত্রাসীদের হাতে থাকা সেভেন আপের বোতল ভেঙ্গে আলামিনের পেটে আঘাত করতে গেলে আলাামিন হাত দিয়ে ফেরানোর চেষ্টা করেন।


ওই সময় ভাঙ্গা সেভেন আপের বোতলের আঘাতে আলামিনের হাত রক্তাক্ত জখম হয়। একই সময় সন্ত্রাসীরা উপর্যুপুুরি আলামিনকে মারধর করতে থাকলে আলামিন মাটিয়ে লুটিয়ে জ্ঞান হারিয়ে ফেলে। আশপাশের লোকজন এসে সন্ত্রাসীদের হাত থেকে আলামিনকে উদ্ধার করে নারায়ণগঞ্জ ভিক্টোরিয়া জেনারেল হাসপাতালে নেয়া হলে আলামিনের হাতে ৬টি সেলাই দেয়া হয়। পরবর্তীতে আলামিন সদর মডেল থানায় গুঞ্জকুমারীয়া এলাকার আব্দুল গণির ছেলে আব্দুর রহমানের নাম উল্লেখ করে আরো ৭/৮ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেন।


এই ঘটনার বিষয়ে স্থানীয়রা জানিয়েছেন, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নৌকার প্রার্থী জাকির হোসেন এলাকায় আতংক সৃষ্টি করতেই তার সন্ত্রাসী বাহিনী দিয়ে সাধারণ নিরীহ মানুষের উপর হামলা চালানোর ঘটনা ঘটিয়েছে। মুলত প্রভাব বিস্তারের লক্ষেই জাকির হোসেনের সন্ত্রাসীরা যানজটের অজুহাতে অটোচালক ও অটোযাত্রীদের মারধরের এই ন্যাক্কারজনক ঘটনা ঘটিয়েছে। কারন জাকির হোসেন চেয়েছিলেন এই নির্বাচনে তিনি বিনা ভোটে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়ে যাবেন।

কিন্তু এখানে শক্ত প্রতিদ্বন্ধি স্বতন্ত্র প্রার্থী থাকায় নৌকার প্রার্থী জাকির হোসেন সেটা পেরে ওঠেনি। যে কারনে এলাকায় আতংক সৃষ্টি করে প্রভাববিস্তারের জন্য জাকির হোসেন নিরীহ মানুষের উপর সন্ত্রাসীদের লেলিয়ে দিয়েছেন।