কবি মুহম্মদ নূরুল হুদার ৭২ তম জন্মদিন

সকাল নারায়ণগঞ্জঃ

আজ ৩০ সেপ্টেম্বর কবি মুহম্মদ নূরুল হুদার ৭২ তম জন্মদিন ।  বৃহস্পতিবার  বিকেল ৫ টায় ঢাকার সেগুনবাগিচায় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় সঙ্গীত ও নৃত্যকলা মিলনায়তনে ‘পূর্বপশ্চিম’ এর আয়োজনে  জাতিসত্তার কবি মুহম্মদ নূরুল হুদার ৭২ তম জন্মবার্ষিকী উদযাপন করা হবে।

মুহম্মদ নূরুল হুদা সত্তর দশকের একজন বাংলাদেশী প্রথিতযশা কবি। তিনি জাতিসত্তার কবি হিসেবেও পরিচিত। একই সঙ্গে তিনি একজন ঔপন্যাসিক ও সাহিত্য-সমালোচক। তার জন্ম ১৯৪৯ খ্রিষ্টাব্দে কক্সবাজার জেলায়।

তার প্রকাশিত গ্রন্থের সংখ্যা শতাধিক। ১৯৮৮ সালে বাংলা কবিতায় উল্লেখযোগ্য অবাদনের জন্য তাকে বাংলা একাডেমী পুরস্কার এবং ২০১৫ সালে একুশে পদক প্রদান করা হয়। কবি মুহম্মদ নূরুল হুদা ঘোষিত হয়েছেন ‘গীতাঞ্জলি সম্মাননা পদক ২০১৯’ এর তালিকায়। এছাড়াও তিনি বহু পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন। ১২ জুলাই ২০২১ জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে যোগদানের দিন থেকে তিন বছরের জন্য জনাব মুহম্মদ নুরুল হুদাকে বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক নিযুক্ত করা হয়।

কবি নূরুল হুদা দরিয়ানগরের কবি। কবির জন্ম (৩০ সেপ্টেম্বর ১৯৪৯), গ্রামের নাম পূর্ব পোকখালি। ঈদগাহ হাইস্কুল থেকে কুমিল্লা বোর্ডে এস.এস.সি (ম্যাট্রিক পরীক্ষা) তিনি দ্বিতীয় স্থান অধিকার করে মেধার পরিচয় রেখেছিলেন। তিনি ঢাকা কলেজ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃতি ছাত্র (ইংরেজিতে এম.এ)। ছাত্রজীবনে ‘অধোরেখ’ সংকলনটি সম্পাদনা করে সুধীজনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। তারপর বাংলা একাডেমীর পরিচালক কবি নূরুল হুদা জার্মান, জাপান, আমেরিকা, হাওয়াই, লন্ডন, সোভিয়েত ইউনিয়ন, যুক্তরাষ্ট্র, পাকিস্থান, বেইজিং, শ্রীলংকা, তুরস্ক প্রভৃতি দেশে বিভিন্ন  সেমিনারে অংশগ্রহণ করেন এবং তুরস্ক প্রভৃতি দেশ থেকে সম্মাননাও গ্রহণ করেন।

কবি মুহম্মদ নূরুল হুদা কবিতার পাশাপাশি কথাসাহিত্য, মননশীল প্রবন্ধ, লোকসংস্কৃতি, মেধাস্বত্ব, নন্দনতত্ত্ব ও অনুবাদসহ সাহিত্যেও তিনি সদর্পে আপন প্রতিভার স্বাক্ষর রেখে চলেছেন।

এ পর্যন্ত তাঁর উল্লেখযোগ্য প্রকাশিত গ্রন্থাবলি হলো, জন্মজাতি (১৯৯৪),  মৈনপাহাড় (১৯৯৫), রবীন্দ্র প্রকৃতি ও অন্যান্য,  সাত্ ও অন্যান্য, সাত ভাই চম্পা, শুক্লা শাকুন্তলা, আমি একটি খাস প্রজাপাত্র চাই,  শোভাজাত্রা  দ্রাবিড়াভ প্রতি, আমরা তামাটে জাতি প্রভৃতি।

সাহিত্যে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি স্বরূপ মুহম্মদ নূরুল হুদা’র প্রাপ্ত সম্মাননা ও পুরস্কারের মধ্যে রয়েছে- আলাওল সাহিত্য পুরস্কার (১৯৮৩), যশোর সাহিত্য পুরস্কার (১৯৮৩), আবুল হাসান কবিতা পুরস্কার (১৯৮৩), আওয়ামী শিল্পী গোষ্ঠী সংবর্ধনা (১৯৮৬), বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার (১৯৮৮), কক্সবাজার পদক (১৯৮৮), হুমায়ুন কাদির স্মৃতি পুরস্কার (১৯৯৪), উপন্যাসের জন্য), যুক্তরাষ্ট্রের আইএসপি ঘোষিত পোয়েট অব ইন্টারন্যাশনাল মেরিট ও পোয়েট অব দ্য ইয়ার সম্মানে ভূষিত (১৯৯৫), কবি আহসান হাবিব কবিতা পুরস্কার (১৯৯৫), তুরস্কের রাষ্ট্রপতি সুলেমান ডেমিরিল কর্তৃক বিশেষ রাষ্ট্রীয় সম্মানে ভূষিত (১৯৯৭), কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজ কর্তৃক প্রদত্ত নজরুল জন্মশতবর্ষ সম্মাননা (১৯৯৯), কলকাতাস্থ ‘নজরুল ফাউন্ডেশন’ কর্তৃক সম্মাননা (২০০০), জীবনানন্দ পুরস্কার (২০০১), কক্সবাজার সাহিত্য একাডেমি পুরস্কার (২০০১), সুকান্ত পুরস্কার (২০০৪), মহাদিগন্ত পুরস্কার (কলকাতা ২০০৭), চয়ন সাহিত্য পুরস্কার (২০০৮), দেশব্যাপী ষাটবর্ষপূর্তি সম্মাননা (২০০৯), নগরচাবি কক্সবাজার (২০০৯), ঢাকাস্থ চট্টগ্রাম সমিতি পুরস্কার (২০১০), রূপসী বাংলা পুরস্কার- কলকাতা (২০১০), উতল হাওয়া পুরস্কার- কলকাতা (২০১০), একুশ-উনিশের ভাষাগৌরব সম্মাননা, ত্রিপুরা সরকার, ভারত (২০১২), নগরপ্রতীক কক্সবাজার (২০১২), সিটি-আনন্দ আলো কবিতা পুরস্কার (২০১৩), বাংলাদেশের সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় সম্মাননা একুশে পদক-২০১৫, চর গড়গড়ি সাহিত্য পুরস্কার-২০১৭।

তার পিতা মরহুম হাজী মোহাম্মদ সেকান্দর সওদাগর, মাতা আঞ্জুমান আরা বেগম। তিনি ১৯৫৯ সালে পূর্ব পোকখালী প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে পঞ্চম শ্রেণিতে মেধা-বৃত্তি লাভ করেন। ১৯৫৯ সালে ঈদগাঁও হাইস্কুলের ৬ষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তি হন। ১৯৬৫ সালে ঈদগাঁও হাইস্কুল থেকে এসএসসি (মাধ্যমিক) পরীক্ষায় (কলা বিভাগে) কুমিল্লা মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডে মেধা তালিকায় দ্বিতীয় স্থান অধিকার করেন তিনি। তিনি ১৯৬৭ সালে ঢাকা কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় প্রথম বিভাগে উত্তীর্ণ হন। ১৯৭০ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্য বিষয়ে অনার্স ও পরের বছর মাস্টার্স ডিগ্রি লাভ করেন।

এরপর তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার তালশহর কলেজের ইংরেজি বিভাগে শিক্ষকতা করেন। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে তিনি গ্রামের বাড়িতে ফিরে এসে মুক্তিযোদ্ধাদের সংগঠিত করতে থাকেন। দেশ স্বাধীন হলে তিনি রাজধানী ঢাকার শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজে ইংরেজি বিভাগে প্রভাষক হিসেবে যোগদান করেন। সোহরাওয়ার্দী কলেজে অধ্যাপনার সময়ে তার প্রথম কাব্য ‘শোণিতে সমুদ্রপাত’ (১৯৭২) প্রকাশিত হয়।

১৯৭৩ সালে মুহম্মদ নূরুল হুদা বাংলা একাডেমিতে সহকারী পরিচালক হিসেবে যোগ দেন। ১৯৭৩ সাল থেকে ১৯৯৬ সালের জুলাই মাস পর্যন্ত তিনি একাডেমিতে একটানা বিভিন্ন পদে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯৬ সালের জুলাই মাস পর্যন্ত তিনি বাংলা একাডেমিতে একটানা বিভিন্ন পদে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯৬ সালের আগস্টে নজরুল ইন্সটিটিউটের নির্বাহী পরিচালক পদে যোগদান করেন এবং ২০০২ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দায়িত্ব পালন শেষে আবার বাংলা একাডেমিতে ফিরে যান। পরে তিনি বাংলা একাডেমির পরিচালক হিসেবে অবসর গ্রহণ করেন।

বাংলা একাডেমিতে কর্মরত অবস্থায় ১৯৮৫ সালে আমেরিকার হাওয়াইস্থ ইস্ট-ওয়েস্ট সেন্টারের সংস্কৃতি ও যোগাযোগ বিষয়ক ইন্সটিটিউটে গবেষক হিসেবে যোগ দেন এবং সেখান থেকে ১৯৮৬ সালে ফিরে আসেন।
কবি মুহম্মদ নূরুল হুদা কবিতার পাশাপাশি লিখেছেন গদ্য, করেছেন অনুবাদ, লিখেছেন চিকিৎসা শাস্ত্র (হোমিওপ্যাথিক) নিয়ে। বাংলাভাষার পাশাপাশি ইংরেজিতেও লিখেছেন তিনি। তিনি বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার, ভারতের ত্রিপুরা রাজ্য সরকারের পুরস্কারসহ অসংখ্য পুরস্কার পেয়েছেন।

তিনি বাংলাদেশ রাইটার্স ক্লাব ও বাংলাদেশ রাইটার্স কপিরাইট সোসাইটির সভাপতি ছিলেন। তিনি বাংলাদেশের শীর্ষ কপিরাইট বিশেষজ্ঞ হুদা জেনেভাস্থ আন্তর্জাতিক ইন্টেলেকচুয়াল প্রপার্টি অর্গানাইজেশনের (ওয়াইপো) কনসালট্যান্ট ও বাংলাদেশ কপিরাইট বোর্ডের সদস্য।

সাংবাদিক হিসাবেও নূরুল হুদার রয়েছে চার দশকের অভিজ্ঞতা। সত্তরের দশকে ঢাকা থেকে প্রকাশিত সাপ্তাহিক বঙ্গকণ্ঠ-এ তার সাংবাদিকতার শুরু। তারপর দীর্ঘদিন তিনি ‘অধোরেখ’, ‘বিশ্বাস, ‘বহুবচন’, ‘বাংলা একাডেমি পত্রিকা’, ‘বাংলা একাডেমি জার্নাল’, ‘নজরুল ইন্সটিটিউট পত্রিকা’, ‘নজরুল ইন্সটিটিউট জার্নাল (ইংরেজি), ইত্যাদি পত্রিকা সম্পাদনা করেছেন।

তিনি বহু গ্রন্থ ও কাব্য রচয়িতা, বহু ভাষার ধ্রুপদি সাহিত্যের রূপান্তরসাধক এবং আপন ভাষা ও দেশমাতৃকার অসংকোচ সেবক। তিনি বাংলাদেশের লেখকদের প্রতিনিধিত্বশীল প্রতিষ্ঠান ‘বাংলাদেশ রাইটার্স ক্লাব’র অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি। তাঁকে দেশ-বিদেশের নানাজন নানাভাবে সম্মাননা ও শ্রদ্ধা জানিয়েছেন। নাট্যকার মমতাজউদ্দীন বলেন, মুহম্মদ নূরুল হুদা শব্দ শিকারী কোথা থেকে না কোথা থেকে শব্দকে খুঁজে আনে।

বাছবিচার করে না। ইলিয়ডে তার আনন্দ, শেক্সপীয়রে তার নেশা, বাল্মীকিতে সে অনুরাগী, হোমারে সে অভিভূত আর কোরানে সে আকণ্ঠ। আর আছে তার সাগর, আছে পাহাড়, আছে ঈদগাহ বিদ্যালয়।’
‘যতদূর বাংলা ভাষা ততদূর এই বাংলাদেশ

দরিয়ানগরে জন্ম, পৃথিবীর সর্বপ্রান্ত আমার স্বদেশ’

এত সাহস কার আছে যে বাংলার নতুন সিমানা আঁকে, এত শক্তি কার আছে যে বিশ^কে বাংলার চোখে দেখে। ‘যতদূর বাংলা ভাষা ততদূর এই বাংলাদেশ’ হ্যাঁ  বাংলা কবিতার কবিকণ্ঠ মুহম্মদ নূরুল হুদার জাতিসত্তার কবি অভিধায় খ্যাত । কবি সমুদ্রনগর কক্সবাজারের ভূমিপুত্র, সমুদ্রের সাথেই তাঁর বেড়ে ওঠা, সমুদ্রের তীরে তাঁর শৈশব-কৈশোরের স্মৃতি, সমুদ্রের তীরজুড়ে তাঁর পূর্বপুরুষের ঠিকানা; সমুদ্রের সাথে তাঁর নাড়ির টান। সমুদ্রের কাছে তাঁর বারবার তাই ফিরে আসা। দরিয়াসন্তান মুহম্মদ নূরুল হুদার কবিতায় দরিয়া (সমুদ্র) নানা ব্যঞ্জনায় আবিষ্কৃত হয়েছে। তাঁর কবিতায় সন্ধান মেলে আলোক বার্তা। মানুষ হওয়ার সংকল্প । মুহম্মদ নূরুল হুদার কবিতা সমুদ্রের বহুমাত্রিক সৃষ্টিশীলতায় নিত্য ক্রিয়াশীল কবি-কাব্যকোবিদ সৃষ্টিসত্তা নানা নিরীক্ষায় উজ্জ্বল, কাব্য-প্রকরণ আর শুদ্ধতার আশ্রয়ে থেকেও তিনি নিয়ত নবায়নপ্রবণ। সুদীর্ঘ কাব্যঅভিযাত্রায় কাব্যভাষা এবং স্বাতন্ত্যমুর্তি কাব্যমুদ্রা তাঁকে দিয়েছে সমকালীন বাংলা কবিতার অন্যতম শীর্ষ কণ্ঠস্বর হবার সম্মান; দিয়েছে বিশ্বকবিতার তাৎপর্যপূর্ণ কারুকৃতের সম্মানও।

তাঁর পঞ্চাশে সংবর্ধনাগ্রন্থ প্রকাশিত হয় সময়মানুষ নামে। সম্পাদকত্রয়ী (বিশ্বজিৎ ঘোষ ও অন্যান্য, ১৯৯৯), গ্রন্থভূমিকায় (‘প্রসঙ্গত’) কবির সাহিত্যসৃষ্টির পরিচয়কে যেভাবে উল্লেখ করেন সেটি উদ্ধৃত করে আমরাও তাঁর সব্যসাচী স্বরূপটি বিশদ করতে চাই– মুহম্মদ নূরুল হুদা কবিতার পাশাপাশি লিখেছেন উপন্যাস, ছোটগল্প, প্রবন্ধ, কাব্যনাট্য, গান ইত্যাদি। কিন্তু সর্বত্রই তাঁর কাব্যরুচি ও কাব্যিক শাসন যুক্ত হয়ে পড়ে, যার কারণে অনিবার্যভাবেই তার রচনায় তৈরি হয় স্বকীয়তা ও ভাবনার একটি নতুন প্রান্ত। মুহম্মদ নূরুল হুদার সৃষ্টিশীলতায় দ্বৈত সত্তা বিরাজমান।

প্রথম সত্তায় আমরা তাঁর কবিতায় হই আকৃষ্ট, হৃদয়াবেগ দিয়ে তা গ্রহণ করি; আর তাঁর কবিতার দ্বিতীয় সত্তায় আমরা লাভ করি বহুমাত্রিক চিন্তা-উদ্রেককর বিচিত্র অনুষঙ্গ, যা পাঠ করতে আমরা হই আচ্ছন্ন ও সম্মোহিত। সৎ এবং গুরুত্বপূর্ণ কবি’র কবিতা শুধু আকৃষ্ট করে না, আকৃষ্ট স্তর পার হয়ে তা বিশেষ আচ্ছন্নতা বিস্তার করে যেখানে তার রচনায় বহুমাত্রিক জ্যোতিবলয়ের স্বাক্ষর পাওয়া যায়। মুহম্মদ নূরুল হুদার অধিকাংশ রচনায় আমরা এই বৈশিষ্ট্য লক্ষ্য করি।’

আমরা তামাটে জাতি
-মুহম্মদ নূরুল হুদা

রোদ্দুরে নিয়েছি আর বৃষ্টিতে বেড়েছি
সহস্র শতাব্দী দিয়ে নিজেকে গড়েছি
আমরা তামাটে জাতি, আমরা এসেছি।

আগমনী স্মৃতি হয়ে লেগে আছে আঠালো জীবন
আমাদের জন্মলগ্ন জাতিস্বর পায়
যৌবন-ঘুঙুর হয়ে যায় বেজে যায়
ব্রহ্মাে -র মতো এক স্বয়ম্ভু স্বপন-
সব স্মৃতি সব ধ্বনি একাঙ্গে পুষেছি
আমরা তামাটে জাতি, আমরা এসেছি।

কেউ কেউ তূণধারী, কেউ কেউ বেহালাবাদক
কারো হাতে একতারা কারো হাতে ধারালো ফলক
অনন্ত সময় জুড়ে জমিজমা জুড়ে
আমরা তো উৎসবে মেতেছি
আমরা তামাটে জাতি, আমরা এসেছি।

সমুদ্রের তলরূপী, গুহারূপী, মাতৃগর্ভরূপী
হৃদয়ের স্বপ্নশয্যা ছেড়ে
সঙ্গিন-সদৃশ সকল লাঙল উঁচিয়ে
মার্চ পাস্ট করতে করতে আমরা এসেছি
আমরা তামাটে জাতি, আমরা এসেছি।

এই আসা এই গতিভাষা
এ পথে রচিত হলো আমাদের সব ভালোবাসা।

ভালোবাসা জোসনা রাতে অশ্রান্ত বর্ষণ
ভালোবাসা তীব্র তাপে ভুবন-কর্ষণ
ভালোবেসে জীবনকে আনগ্ন চেয়েছি
আমরা তামাটে জাতি, আমরা এসেছি।

রাজধর্ম পিছে ফেলে, পিছে ফেলে গোত্রের আরতি
লোকধর্মে লোকসঙ্ঘে সুদীক্ষা নিয়েছি
আমরা তামাটে জাতি, আমরা এসেছি।

লেখক: কাজী আনিসুল হক
কবি, সাংবাদিক ও সংগঠক।
আহবায়ক, বাংলাদেশ রাইটার্স ক্লাব নারায়ণগঞ্জ।
মেইল: kajeanisulhaque@gmail.com
মুঠোফোন:+৮৮০১৮১৯৮০৮৩০৯