ব্ল্যাকমেইলের মাধ্যমে অর্থ আত্মসাৎ ও পর্নোগ্রাফির অভিযোগে অনুপ পোদ্দারকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব-৪

স্টাফ রিপোর্টার (আশিক): রাজধানীর নিউমার্কেট থানাধীন এ্যালিফেন্ট রোড হতে ব্ল্যাকমেইলের মাধ্যমে অর্থ আত্মসাৎ ও পর্নোগ্রাফির অভিযোগে অনুপ পোদ্দার’কে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব-৪।
র‌্যাপিড এ্যাকশন  ব্যাটালিয়ন, র‌্যাব এলিট ফোর্স হিসেবে আত্মপ্রকাশের সূচনালগ্ন থেকেই বিভিন্ন ধরনের নৃশংস ও ঘৃণ্যতম অপরাধ নির্মূলের লক্ষ্যে অত্যন্ত আন্তরিকতা ও নিষ্ঠার সাথে কাজ করে আসছে। ধর্ষণ ও পর্নোগ্রাফির মতো ঘৃণ্যতম অপরাধ নির্মূলের জন্য র‌্যাবের প্রতিটি সদস্য প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হয়ে নারী ও শিশুদের জন্য একটি নিরাপদ বাসযোগ্য সমাজ তথা দেশ বিনির্মাণে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
এরই ধারাবাহিকতায়, সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে গত রবিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) র‌্যাব-৪ এর সাইবার সেলের একটি আভিযানিক দল রাজধানীর নিউমার্কেট থানাধীন এ্যালিফেন্ট রোড এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে ব্ল্যাকমেইলের মাধ্যমে অর্থ আত্মসাৎ ও পর্নোগ্রাফির অভিযোগে মনির খান @ হারুন @ অনুপ পোদ্দার (৪১), জেলা-টাঙ্গাইল’কে গ্রেফতার করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায় যে, গ্রেফতারকৃত আসামীর প্রকৃত নাম অনুপ পোদ্দার, ব্যক্তিগত জীবনে সে বিবাহিত ও বেসরকারী চাকুরীজীবি। সুস্থ স্বাভাবিক জীবনের আড়ালে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিপত্নীক হিসেবে, মুসলিম পরিচয়ে, ভুয়া ঠিকানা, অন্যের ছবি ব্যবহার করে ‘মনির খান ও হারুন’ নামে ফেইক আইডি খুলে বিভিন্ন গধঃপয গধশরহম ঝরঃব যেমন পাত্র/পাত্রী চাই, ম্যারিজ মিডিয়া থেকে টার্গেট করেন স্বামী পরিত্যাক্তা বা ডিভোর্সী মেয়েদের। এরপর ধীরে ধীরে সম্পর্কের গভীরতার এক পর্যায়ে বিয়ের প্রলোভন দিয়ে বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ  মাধ্যমে ঘনিষ্ঠতার এক পর্যায়ে তাদের ইমোশনকে ব্যবহার করে বিভিন্ন স্পর্শকাতর ছবি, ভিডিও গোপনে ধারণ করে শুরু করে ব্ল্যাকমেইল। এর প্রথম পর্যায়ে ভিকটিমকে বিভিন্ন হোটেলে দেখা করার কথা বলে, অবৈধ/অনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনের কথা বলে কিন্তু এতে রাজি না হলে গোপনে ধারন করা ছবি/ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি/ভয়ভীতি দেখিয়ে ৫-৬ লক্ষ টাকা দাবি করত। সমাজে লোক চক্ষুর ভয়ে বাধ্য হয়ে অনেকেই তার সাথে ঘনিষ্ট সম্পর্কে লিপ্ত হয়েছে এবং কেউ কেউ অল্প টাকা দিয়ে রেহাই পেয়েছে বলে জানা যায়। গোপনে ধারনকৃত ভিকটিমদের স্পর্শকাতর ভিডিও/ছবি এবং বিভিন্ন পর্ন ভিডিও তার দ্বারা পরিচালিত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গোপন গ্রুপে পোস্ট ও শেয়ার করত। এছাড়া ২০০ (দুইশত) এর  অধিক ভিকটিম নারীর ছবি, ভিডিও সম্বলিত মোবাইল ডিভাইস জব্দ করা হয়।
গ্রেফতারকৃত আসামীর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন। অদূর ভবিষ্যতে এইরুপ অপরাধীদের বিরুদ্ধে র‌্যাব-৪ এর অভিযান অব্যাহত থাকবে।