সাজাপ্রাপ্ত আসামি কথিত সাংবাদিক কাজিম উদ্দিনের বিরুদ্ধে বন্দরবাসীর মানববন্ধন

সকাল নারায়ণগঞ্জ:

স্টাফ রিপোর্টার (আশিক)

চাঁদাবাজির মামলায় দুই বছরের সাজাপ্রাপ্ত আসামি কথিত এক সাংবাদিকের অত্যাচারে ফুঁসে উঠেছে বন্দরবাসী ও ভূক্তভোগী অর্ধশত পরিবার। কথিত এই সাংবাদিকের নাম মো. কাজিম আহম্মেদ।

সম্পতি কিশোর গ্যাংয়ে দুই গ্রুপের সংঘর্ষে এক হত্যা মামালাকে পুঁজি করে সাধারণ নিরীহ মানুষকে পুলিশি হয়রানি ও ভয়ভীতি দেখিয়ে অর্থ হাতিয়ে নেয়া অভিযোগে শুক্রবার (১২ মার্চ) বেলা ১১ টার দিকে বন্দর প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন করেছে ভুক্তভোগী অর্ধশত পরিবারসহ বন্দরবাসী। কথিত সাংবাদিক কাজিম আহম্মেদের অপকর্মের বিরুদ্ধে গত রোববার বিকালে মহানগর যুবলীগ নেতা শাহ নেওয়াজ রাহাতের নেতৃত্বে নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন করেছিল অপরাধ প্রতিরোধ কল্যাণ সংস্থা ও এলাকাবাসী।

মানববন্ধনে ভূক্তভোগী পরিবার বক্তব্যে বলেন, ২০২০ সালের ১০ আগস্ট বিকেলে শীতলক্ষ্যা নদীর পূর্ব তীরে বন্দরের ইস্পাহানী ঘাট এলাকার কিশোর গ্যাং বাহিনীর হামলায় কথিত সাংবাদিক কাজিম আহম্মেদের ছেলে জিসান (১৫) ও স্থানীয় নাজিমউদ্দিন খানের ছেলে মিনহাজুল ইসলাম মিহাদ (১৮) নিখোঁজ হয়। ওই দিন রাতেই দুইজনের মৃতদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় জমি সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে কাজিম আহম্মেদ নিহত ছেলে জিসানের হত্যার অভিযোগ এনে ৬ জনকে ধরে পুলিশের সোপর্দ করে।

এ হত্যাকান্ডের সঙ্গে জড়িত না থাকায় সাধারণ নিরীহ মানুষকে বাদ দিয়ে তদন্তকারি কর্মকর্তা আদালতে চার্জসীট দাখিল করে। এ মামলা থেকে ভূক্তভোগীরা মুক্ত হলেও কাজিম আহম্মেদ অর্থ আদায়ের জন্য বিভিন্ন ভাবে পুলিশি হয়রানি করে আসছে বলে অতিষ্ট ও অপকর্মের বিরুদ্ধে প্রতিরোধে ফুঁসে উঠে বন্দরবাসী।

কথিত সাংবাদিক কাজিম আহম্মেদের অপকর্মের বিরুদ্ধে প্রশাসন ব্যবস্থা গ্রহন ও নিহত জিসান (১৫) ও মিনহাজুল ইসলাম মিহাদের (১৮) প্রকৃত হত্যাকারি ও দোষীদের শাস্তির দাবিতে ঘন্টা ব্যাপী সড়ক অবরোধ করে দুই দফা দফায় মানববন্ধন কর্মসূচী পালন করেছেন বন্দরের সর্বস্থরের জনগন ও ভূক্তভোগী অর্ধশত পরিবার।

নিহত মিহাদ চাচা যুবলীগ নেতা শাহ নেওয়াজ রাহাত বলেন, হত্যাকান্ডের সঠিক বিচার চাই এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই। তবে সাধারণ মানুষজনকে হয়রানী করতে দেয়া হবে না। মামলার বাদি কাজিম আহম্মেদ তার নিজের স্বার্থ আদায়ের জন্য সাধারণ মানুষকে হয়রানী করছে।

আমরা চাই সাধারণ নিরীহ মানুষদেরকে হয়রানী না করে প্রকৃত খুনিদের খুঁজে বের করে আইনের কাঠগড়াই দাড় করানোর দাবি জানাচ্ছি। কাজিম প্রর্কৃতপক্ষে একজন প্রতারক ও মামলাবাজ। সাংবাদিক পরিচয়ে প্রতারণা তার মূল পেশা।

নিজেকে দৈনিক কালের কথা পত্রিকার সম্পাদক পরিচয় দেয়। যোগ্যতা মোতাবেক শিক্ষাগত সার্টিফিকেট দেখাতে না পারায় ওই পত্রিকার ডিক্লারেশর বাতিল করে দিয়েছে জেলা প্রশাসক। সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণা চাঁদাবাজিসহ নানা অপকর্মে নারায়ণগঞ্জ দ্রুত বিচার আদালত কাজিম আহম্মেদ এক মামলায় দুই বছরের সাজা প্রদান করে। সেই সাথে প্রতারক কাজিমকে বন্দর প্রেসক্লাব হতে স্থায়ী ভাবে বহিস্কারের জোড় দাবী জানায় মানববন্ধন থেকে ।