1. sokalnarayanganj@gmail.com : সকাল নারায়ণগঞ্জ : সকাল নারায়ণগঞ্জ
  2. skriaz30@gmail.com : skriaz30 :
  3. : wpcron20dc4723 :
তবে দ্বন্দ নিরসন চায় না সুবিধাভোগীরা - সকাল নারায়ণগঞ্জ
বৃহস্পতিবার, ২৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ০৬:৫৯ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ আপডেট

তবে দ্বন্দ নিরসন চায় না সুবিধাভোগীরা

সকাল নারায়ণগঞ্জঃ
  • আপডেট বৃহস্পতিবার, ৯ জানুয়ারী, ২০২০
  • ৪২ Time View
তবে দ্বন্দ নিরসন চায় না সুবিধাভোগীরা
তবে দ্বন্দ নিরসন চায় না সুবিধাভোগীরা

সকাল নারায়ানগঞ্জঃ শামীম-আইভী ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করছে নারায়ণগঞ্জের উন্নয়নে, এটা দেখার সুযোগ হয়তো আর পাবে না নারায়ণগঞ্জবাসী। দুজনে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করে নারায়ণগঞ্জকে একটি সুন্দর-সুপরিকল্পিত জেলা হিসাবে গড়ে তুলবে এমন প্রত্যাশা সাধারণ জনগনের মাঝে, যদি এ দ্বন্দের অবসান হয় তাহলে পাল্টে যাবে নারায়ণগঞ্জের রাজনৈতিক, সামাজিক ও সামগ্রিক দৃশ্যপট। শুধু তাই নয়, দেশের বাকী জেলাগুলোর কাছে উন্নয়নের রোল মডেলে পরিণত হবে নারায়ণগঞ্জ এমনটাই বলছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষক মহল। তাদের মতে, একেএম শামীম ওসমান ও ডাঃ সেলিনা হায়াৎ আইভীর মাঝে যে দা-বটি’র সম্পর্ক তা নিরসন হলে সবচেয়ে বেশী সুবিধা পাবে নারায়ণগঞ্জের সাধারণ জনগন। তবে এ দ্বন্দ কোনভাবেই নিরসন সম্ভব হচ্ছে না, কেননা একটি মহল তাদের এই দ্বন্দের কারণে বিভিন্ন ধরনের সুবিধা ভোগ করে আসছে। আর এই মহলটিই চায় না নিরসন হোক শামীম-আইভী দ্বন্দের। তাই তারা উভয়পক্ষকে নানাভাবে একে অপরের বিরুদ্ধে কাজ করার জন্য বিভিন্ন ধরনের কু-পরামর্শ দিয়ে থাকেন বলে জানায় বিশ্লেষক এ মহলটি। তবে আওয়ামীলীগের তৃণমূল নেতাকর্মীদের দাবী, শামীম-আইভীর দ্বন্দ যদি নিরসন হয়, দুজন নতুন করে যদি আরো একবার ঐক্যবদ্ধ হয় তাহলে জেলার অনেক রথী-মহারথী বেকায়দায় পড়তে পারেন।

জেলায় বর্তমানে গাজী গোলাম দস্তগীরের মতো একজন মন্ত্রী আছেন যিনি পাট ও বস্ত্র মন্ত্রণালয়ের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করছেন। আছেন নারায়ণগঞ্জ আওয়ামীলীগের মুরুব্বী ও বর্ষিয়ান রাজনীতিবীদ জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি আব্দুল হাই, জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদকের মতো গুরুত্বপূর্ণ পদে আছেন খোদ সাংসদ শামীম ওসমানের বন্ধু আবু হাসনাত মোঃ শহীদ বাদল, মহানগর আওয়ামীলীগের সভাপতি পদে আছেন জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন, যিনি শামীম ওসমান ও সেলিম ওসমানের রাজনৈতিক গুরু দাবিদার এবং একই সাথে মেয়র আইভীর কাকা হিসাবে সর্বত্র পরিচিত, মহানগর আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক পদে আছেন শামীম ওসমানের আরেক বন্ধু এডঃ খোকন সাহা। এছাড়াও জেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি পদে আছেন মেয়র আইভীর ছোট বোন জামাতা আব্দুল কাদির, যিনি একসময় আইভীর বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে সাংসদ শামীম বলয়ের অন্যতম নেতা হিসাবে কাজ করেছেন।

অবশ্য বর্তমানে তিনি মেয়র আইভী বলয়েই আছেন। এছাড়াও উল্লেখযোগ্য অন্যান্য পদে আরো অনেকে দায়িত্বশীল ব্যক্তিবর্গরা এবং কিছু সুবিধাভোগী স্বঘোষিত নেতারাও আছেন। যারা অনেকেই মাঝে মাঝে এমপি, মেয়র ও মন্ত্রী হওয়ার স্বপ্ন দেখে থাকেন। এতো সকল রথী-মহারথীরা থাকতেও শামীম-আইভী দ্বন্দের অবসান কেন হচ্ছে না ? এ প্রশ্ন নারায়ণগঞ্জবাসীর মুখে মুখে। তাদের মতে, নারায়ণগঞ্জ আওয়ামীলীগের বড় বড় পদ-পদবী ধারণ করে আছেন শামীম-আইভী উভয় বলয়ের নেতারা, তারপরও কেন এ দুই প্রভাবশালী নেতার দ্বন্দের অবসান করা যাচ্ছে না, কেন তাদেরকে একত্রে এক টেবিলে বসানো যাচ্ছে না, কেন নারায়ণগঞ্জের উন্নয়নে উভয় নেতা ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে পারছে না? এর দায়ভার কিভাবে এড়াবে এসব বড় বড় পদ দখলকারী নেতৃবৃন্দরা ? প্রশ্ন সাধারণ জনগনের। সাধারণ জনগনের মতে, তাহলে কি এই সকল রথী-মহারথীরা ব্যর্থ সাংসদ ও মেয়রের মাঝে সমঝোতার মাধ্যমে ঐক্যের নতুন সেতুবন্ধন তৈরীতে। নাকি এর পেছনে রয়েছে অন্য কোন কারণ, কোন তৃতীয় শক্তির হাত?

নাকি তারা নিজেরাই চান না এই দ্বন্দের অবসান ঘটুক, প্রশ্ন তৃণমূল নেতাকর্মীদের। তৃণমূলের এই সকল নেতাকর্মীদের মতে, যদি শামীম-আইভীর দ্বন্দ নিরসণ করা সম্ভব হয় তবে নারায়ণগঞ্জের উন্নয়নে তা হবে একটি উজ্জল মাইলফলক। তবে এ দ্বন্দ যদি কোন কারণে মিটে যায় বা শামীম-আইভী যদি ঐক্যবদ্ধ হন তাহলে বেকায়দায় পড়তে পারেন জেলার অনেক রথী-মহারথী। আর এ কারণেই অনেকেই চান জিইয়ে থাকুক শামীম-আইভীর মধ্যকার এ দ্বন্দ।

সাধারণ নেতাকর্মীদের পাশাপাশি নারায়ণঞ্জবাসীর মতে, ২০১১ সালে সিটি নির্বাচনে শামীম ওসমান নৌকার প্রার্থী হওয়ার পর থেকেই শামীম-আইভীর মূল দ্বন্দ শুরু হয়। বিভিন্ন সভা-সমাবেশে একে-অপরকে উদ্দেশ্য করে বিভিন্ন ধরনের আক্রমনাত্মক ও কটুক্তিমূলক বক্তব্য, উভয় পক্ষের কর্মী-সমর্থকদের মাঝে দ্বন্দের শুরু হয়, বিভক্ত হয়ে পড়ে নারায়ণগঞ্জ আওয়ামীলীগ। নেতাকর্মীদের মতে, শামীম ওসমান নিজে থেকে কখনো আইভীকে আক্রমন করেনি। সবসময় আইভীই শামীম ওসমান ও ওসমান পরিবার নিয়ে তীর্যক ভাষায় বিভিন্ন ধরনের কটুক্তি করে থাকে। বেশির ভাগ সময় শামীমের ভুমিকা ছিল নিশ্চুপ, মাঝে মধ্যে শামীম দু’য়েকটি বক্তব্যের কাউন্টার দিয়েছে মাত্র। এমতাবস্থায় শামীম-আইভী ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করবে এমন ঘটনা আদৌ সম্ভব কিনা তা নিয়ে জনমনে যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে। এর পেছনে আরো একটি বড় কারণ হলো যারা শামীম-আইভীর দ্বন্দে সুবিধা ভোগ করছেন, তারাও নিশ্চয়ই চাইবে না এ দুই নেতার দ্বন্দের অবসান ঘটুক।

তবে, এর পূর্বে ২০১৬ সালে ২৮ ডিসেম্বর প্রধানমন্ত্রীর কল্যাণে ও সাংসদ শামীম ওসমানের প্রচেষ্টায় বিনা প্রতিদ্বন্দিতায় জেলা পরিষদের নতুন চেয়ারম্যান হওয়ার পরে মহানগর আওয়ামীলীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেন ঘোষণা দিয়েছিলেন শামীম-আইভীকে নিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করবেন। সেই সময় শহরের আনাচে-কানাচে,পাড়া-মহল্লা থেকে শুরু করে শহরের সর্বত্র আনোয়ারের এ ঘোষণা নিয়ে আলোচনা-সমালোচনার ঝড় উঠেছিল। আলোচনাকারীদের অনেকে তখন বলেছিলো, আনোয়ারের ডাকে সাড়া দিয়ে শামীম-আইভী একসাথে বসলে সেটা হবে নারায়নগঞ্জের উন্নয়নের এক নতুন মাইলফলক। কিন্তু তিনি তা পারেন নি, এবং সেই চেষ্টাও করেন নি বলে মন্তব্য ছিলো সমালোচকদের। তাদের মতে, যেখানে আনোয়ার নিজেই একটি বলয় তৈরির চেষ্টা করছেন, সেখানে তিনি শামীম ও আইভীর মাঝে ঐক্য সৃষ্টির মাধ্যমে ঐক্যবদ্ধভাবে সামনের দিকে এগিয়ে যাবে এমনটা ভাবা মানে বোকার স্বর্গে বসবাস করা। আনোয়ার হোসেনের মতো তৃতীয় শক্তির উত্থান চেষ্টাকারী নেতার দ্বারা এই দ্বন্দ নিরসন করা সম্ভব হবেনা বলে অভিমত নারায়ণগঞ্জবাসীর।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সাংসদ শামীম ওসমান ও নাসিক মেয়র ডা: সেলিনা হায়াত আইভী যদি জেলার উন্নয়ণে ঐক্যবদ্ধ ভাবে রাজনীতি করেন, তবে নারায়ণগঞ্জের সব সমস্যা সমাধান করা এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র। তারা এক সাথে জনতার কল্যানে কাজ করলে নারায়ণগঞ্জের উন্নয়নের গতি আরো বেশী তরান্বিত হবার পাশাপাশি নতুন এক নারায়নগঞ্জ প্রতিষ্ঠিত হবে বলে মনে করেন পর্যবেক্ষক মহল।
তবে রাজণৈতিক পর্যবেক্ষক মহলের প্রশ্ন, দীর্ঘ ৪৪ বছর পূর্বে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের অন্যতম প্রাচীন দুই পরিবার ওসমান পরিবার ও চুনকার পরিবারের মাঝে সৃষ্ট দ্বন্দ বা বিবাদের অবসান ঘটাতে পারবে কি কেউ?

উল্লেখ্য, দুই পরিবারের রাজনৈতিক দ্বন্দের শুরুটা স্বাধীনতার পর ১৯৭৩ সালে নারায়ণগঞ্জ পৌর নির্বাচনের প্রার্থী মনোনয়নকে কেন্দ্র করে। সে সময় পৌর চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করার জন্য আলী আহাম্মদ চুনকা নিজের দল আওয়ামী লীগের সমর্থন চেয়েও পাননি, সমর্থন পান মহিউদ্দিন আহম্মেদ খোকা। খোকার এই সমর্থন পাওয়ার পেছনে প্রত্যক্ষ শক্তি ছিল ওসমান পরিবারের তৎকালীণ কর্ণধার এ কে এম শামসুজ্জোহার। চুনকা মনোনয়নের জন্য বঙ্গবন্ধুর ধারস্থ হওয়ার পরও সমর্থন না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসাবে নির্বাচন করেন। এর পর থেকে চুনকা পরিবার ও ওসমান পরিবারের মধ্যে শীতল দ্বন্দ শুরু হয়। এরপর ৮০ সালে জেলা আওয়ামী লীগ সম্মেলনে শামসুজ্জোহা ও চুনকা সভাপতি পদে প্রতিদ্বন্দীতা করে চুনকা জয়ী হন। এই দুই পরিবারের দ্বন্দ চরমে পৌঁছায় ২০১১ সালে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের মেয়র নির্বাচনের মধ্য দিয়ে। সে সময় শামীম-আইভি একে অপরকে দোষারোপ ও বাক বিত-ায় জড়িয়েছিলেন প্রকাশ্যেই। এরপর থেকে আরও নানান ঘটনায় দুই পরিবারের দু’জনেরই পরস্পরকে দোষাদুষি করতে দেখেছে দেশের মানুষ। টেলিভিশনে সরাসরি সম্প্রচারিত টক শোতেও শামীম ওসমান ও আইভীর মারমুখী বাক্য বিনিময় ও শক্তি প্রদর্শনের চ্যালেঞ্জ করতে দেখা গেছে।

আরও সংবাদ
© ২০২৩ | সকল স্বত্ব সকাল নারায়ণগঞ্জ কর্তৃক সংরক্ষিত
DEVELOPED BY RIAZUL