নারায়ণগঞ্জ শহরের খানপুরে অবস্থিত নারায়ণগঞ্জ ৩০০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতাল ঘিরে অন্তত ডজন খানেক দালাল চক্র সক্রিয় আছে। দীর্ঘদিন ধরেই এসব দালালের হাতে জিম্মি রোগী ও তাদের স্বজনরা। এসব দালালের উৎপাতে চিকিৎসা সেবা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের ফুসলিয়ে বেসরকারি হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নিয়ে যাচ্ছে দালাল চক্র।
স্থানীয় মাধ্যম ও প্রত্যক্ষ সূত্রে জানা গেছে, ৩০০ শয্যা হাসপাতালের আসপাশে গড়ে ওঠা বেশ কয়েকটি বেসরাকরি হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের অন্তত ডজন খানেক দালাল হাসপাতালের বহির্বিভাগে ঘুরাফেরা করতে দেখা যায়। এসব দালাল চক্রের মধ্যে শিক্ষিত নারীও রয়েছে। যাদের দেখে বোঝার উপায় নেই এরা দালাল চক্রের সদস্য।
দালাল চক্রের এসব সদস্য ডাক্তারের চেম্বারের সামনে এমন ভাবে দাঁড়িয়ে থাকে দেখে মনে হয় তারা ডাক্তারের সহযোগী। ভেতর থেকে কোন রোগী বাইরে বের হওয়া মাত্রই তাদের প্রেসক্রিপশন নিয়ে নেন এরা। এরপর রোগীদের বিভিন্ন বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে যেতে বাধ্য করেন। একদল আবার বেশি অসুস্থ রোগী দেখলেই চিকিৎসা পেতে দেরি হবে বলে বাইরের ক্লিনিকে নিয়ে যাওয়ার পায়তারা করেন।
সংঘবদ্ধ দালাল চক্রটি দুটি অংশে কাজ করে। এক অংশ হাসপাতালের বহির্বিভাগে কাজ করে। আরেকটি অংশ কাজ করে হাসপাতালের বাইরে। ডাক্তারের কাছ থেকে যখন রোগী চিকিৎসা নিয়ে বের হয় তখন ভেতরের দালাল চক্রটি রোগীদের বিভিন্ন ডায়াগনস্টিক সেন্টারে যাওয়ার জন্য বলে। আরেক দল থাকে বাইরে। যারা বাইরে খুব বেশি অসুস্থ রোগী হাসপাতালে ঢুকতে দেখলে হাসপাতালে দ্রুত চিকিৎসা পাওয়া যাবে না বলে বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যান।
সাংবাদিক পরিচয় গোপন করে দালাল চক্রের এক নারী সদস্যের সাথে কথা হয়। তিনি পরিচয় দেন তার নাম লিপি এবং তিনি বন্দরে থাকেন। রবি, বাদল,ইকবাল,সাহেব আলী,রীমন,রবিন,মনির, রমজান,রাসেল,দ্বীন ইসলাম,চিনু,তসলিমা, রাজিয়া,সুমি,মতা,শিউলী,পারবিন, ফয়েজ মুস্তাফিজসহ বেশ কয়েকজন দালালের নাম তার মুখ থেকে বেরিয়ে আসে।
প্রথমে অস্বীকার করলেও একপর্যায়ে স্বীকার করেন তিনি গ্রীণ লাইফ ডায়াগনস্টিক অ্যান্ড কনসালটেশন সেন্টারের হয়ে দালালি করেন। তিনি বলেন, এই হাসপাতালের ডাক্তার আছেন যারা গ্রীণ লাইফ ডায়াগনস্টিক অ্যান্ড কনসালটেশন সেন্টারে বসেন। রোগীরা যাতে বাইরে তাদের কাছে চিকিৎসার জন্য যায় সেজন্য আমরা এখানে কাজ করি। তবে এসব ডাক্তারের নাম বলতে চাননি তিনি। লিপি আরো বলেন, প্রতিটি রোগী নিয়ে যাওয়ার জন্য আমরা ডায়াগনস্টিক সেন্টার থেকে কমিশন পাই। রোগীর খরচ যত বেশি হয় আমাদের কমিশন তত বেশি হয়।