আহবায়ক কমিটি অনুমোদন দেয়ার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত

সকাল নারায়ণগঞ্জঃ

নারায়ণগঞ্জ জেলা শ্রমিক লীগ এর নেতৃবৃন্দকে অবহিত না করে গত ১লা অক্টোবর-২০২১ আহবায়ক কমিটি অনুমোদন দেয়ার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা প্রেস রিলিজ এর মাধ্যমে গণমাধ্যমকে  জানান , ২০১৭ সনে আলহাজ্ব শুক্কুর মাহামুদ ভাই (তৎকালীন কেন্দ্রীয় শ্রমিক লীগের সভাপতি) এর স্বাক্ষরিত কমিটি এবং পরবর্তীতে সালাম-আখতার নেতৃত্বে কেন্দ্রীয় কমিটির নিকট জমাকৃত কমিটি নিয়ে আপনারা সাংবাদিক ভাই-বোনেরা বিভিন্ন সময় বহুবার বিভিন্ন স্থানীয় পত্রিকায় লেখা-লেখি করেছেন। তাই আজ আমরা উভয় কমিটির নেতৃবৃন্দ ও জেলার অন্যান্য শ্রমিক নেতৃবৃন্দ ঐক্যবদ্ধ হয়ে এই সংবাদ সম্মেলন করতে যাচ্ছি। এই সংবাদ সম্মেলন থেকে আমরা সকল নেতৃবৃন্দ আশা করি আপনারা আমাদের ক্ষুদ্ধ ও ব্যথিত মনের সঠিক ও সময়োপযোগী বক্তব্য সঠিকভাবে আপনাদের লিখনীর মাধ্যমে বিভিন্ন প্রিন্ট মিডিয়া ও ইলেকট্রনিক্স মিডিয়ায় তুলে ধরবেন।
নারায়ণগঞ্জ জেলা শ্রমিক লীগের উদ্যোগে ২০১৮ সালে মহান স্বাধীনতা দিবস ও নির্বাচিত কমিটির অভিষেক অনুষ্ঠান উপলক্ষে “উন্নয়নের মহাসড়কে বাংলাদেশ” শিরোনামে একটি মনোজ্ঞ স্মরণিকা প্রকাশ করেছি। স্মরণিকায় মহামান্য রাষ্ট্রপতি মোঃ আবদুল হামিদ, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনা, জনাব আমির হোসেন আমু এমপি, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জনাব ওবায়দুল কাদির এমপি, জনাব এ কে এম শামীম ওসমান এমপি, জাতীয় শ্রমিক লীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক যথাক্রমে আলহাজ্ব শুক্কুর মাহামুদ এবং আলহাজ্ব মোঃ সিরাজুল ইসলামসহ অন্যান্য অনেকেই বাণী প্রদান করেছেন।
আপনারা সবাই অবগত আছেন আলহাজ্ব শুক্কুর মাহামুদ এর জীবদ্দশা থেকে অদ্যবধি আমরা জেলা কমিটির নেতৃবৃন্দ, নারায়ণগঞ্জ মহানগর শ্রমিক লীগ, জেলা মহিলা শ্রমিক লীগ, জেলা যুব শ্রমিক লীগসহ সকল সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দকে সাথে নিয়ে উভয় কমিটি বর্ণাঢ্যভাবে জাতীয় শ্রমিক লীগের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীসহ সকল অনুষ্ঠান সফলতার সাথে পালন করে আসছি। এছাড়াও ১৫ আগষ্ট জাতীয় শোক দিবস সহ আওয়ামীলীগের কর্মসূচিতে অংশ গ্রহণ করে আসছি।
আলহাজ্ব শুকুর মাহামুদ এর মৃত্যুর পর থেকে ২০ বছর আগে নারায়ণগঞ্জ জেলা শ্রমিক লীগ থেকে বহিষ্কৃত আবদুল কাদিরসহ কতিপয় স্বার্থন্বেষী মহলের প্ররোচনায় নারায়ণগঞ্জ জেলা শ্রমিক লীগের সুনাম ও ঐক্যের ঐতিহ্য নষ্ট করা সহ দলের অভ্যন্তরে বিভাজণের চেষ্টা করে আসছে। এ বিষয়টি একাধিকবার কেন্দ্রীয় সভাপতি/সাধারণ সম্পাদককে অবহিত করেছি।
এছাড়াও করোনা মহামারীর কারণে পরবর্তী সম্মেলন করার জন্য সময় চেয়েও কেন্দ্রীয় কমিটিতে পত্র প্রেরণ করেছি। এ ব্যাপারে কেন্দ্র কোন দিক নির্দেশনা দিতে পারেননি। আমরা যখন জাতীয় শ্রমিক লীগের ঐতিহ্য ও গৌরবের ৫২ বছর প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালনের প্রস্তুতি নিচ্ছি, ঠিক সে সময় ১ অক্টোবর একটি ফেসবুক আইডিতে দেখলাম কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক জনাব কে এম আযম খশরু স্বাক্ষরিত একটি আহবায়ক কমিটি অনুমোদন দেয়া হয়েছে। যা কেন্দ্রীয় কার্যকরী কমিটির বিভিন্ন সময়ে অনুষ্ঠিত সভায় অনুমোদিত কার্যবিবরণী অনুযায়ী আহবায়ক কমিটি অবৈধ, আমরা এর তীব্র প্রতিবাদ জানাই ।
ফিরে যেতে যাই পেছনে, জাতীয় শ্রমিক লীগের সভাপতি ফজলুল হক মন্টু ও সাধারণ সম্পাদক কে এম আযম খশরু নির্বাচিত হওয়ার পর জাতীয় শ্রমিক লীগ ফেসবুক আইডি থেকে দুই নেতার পেপার কাটিং প্রকাশ করেছিল। তাতে লেখাছিল আমার কোন বিতর্কিতদের এবং কোন পকেট কমিটিকে অনুমোদন দেব না। ফজলুল হক মন্টু প্রয়াত হলেও আজকে কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক কে এম আযম খসরু বক্তব্য অনুযায়ীও এই কমিটি অবৈধ।
এখানেই শেষ নয়, গত ১৬/০৬/২২০১ইং তারিখ কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক এটিএম ফজলুল হক স্বাক্ষরিত প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখিত ০২/০১/২০২১ইং ও ২৫/০২/২০২১ইং তারিখের জাতীয় শ্রমিক লীগ কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী পরিষদের সভার প্রেক্ষিতে কেন্দ্রীয় ভারপ্রাপ্ত সভাপতি বীরমুক্তিযোদ্ধা নূর কুতুব আলম মান্নান এক বিবৃতিতে বলেন পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সম্মেলন ব্যতিত জাতীয় শ্রমিক লীগের সকল জেলা, মহানগর আঞ্চলিক শাখা এবং এর আওতাধীন উপজেলা/থানা, পৌরসভা/ইউনিয়ন শাখা সমূহে কোন প্রকার আহবায়ক কমিটি অনুমোদন করা হবে না বলে কার্যকরী কমিটিতে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। এ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা পরও কেন্দ্রীয় কমিটি নারায়ণগঞ্জ জেলা শ্রমিক লীগের নেতৃবৃন্দের সাথে নূন্যতম আলোচনা না করে নারায়ণগঞ্জে যে পকেট কমিটিকে অনুমোদন দিয়েছেন; তাদের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী তা সম্পূর্ণ অবৈধ। যারা দীর্ঘ ২০ বছর শ্রমিক লীগের কোন কর্মকান্ডের সাথে জড়িত ছিল না এবং সংগঠনের ত্যাগীদের বাদ দিয়ে যে কমিটি অনুমোদন দিয়েছেন তা আমরা প্রত্যাক্ষান করছি।
আমরা নারায়ণগঞ্জ জেলার শ্রমিক লীগের নেতৃবৃন্দ সকল বিভাজন ও ভেদাভেদ ভুলে জননেত্রী শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালী করার লক্ষে ঐক্যবদ্ধ। তাই জাতীয় শ্রমিক লীগের শ্রদ্ধেয় ভারপ্রাপ্ত সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ও কেন্দ্রীয় সকল নেতৃবৃন্দের প্রতি এই নবগঠিত অবৈধ আহবায়ক কমিটি বিলুপ্ত করে নারায়ণগঞ্জ জেলার কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দসহ জেলার প্রকৃত শ্রমিক লীগের নেতৃবৃন্দের সমন্বয়ে সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটি গঠনের জন্য বিনীত অনুরোধ করছি।
একই সাথে ১ অক্টোবর’২১ তারিখে অনুমোদিত আহবায়ক কমিটি বিলুপ্ত করে নতুন সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটি গঠনের জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনা এবং বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক জননেতা ওবায়দুল কাদের এমপি, আওয়ামী লীগের শ্রম বিষয়ক সম্পাদক জনাব হাবিবুর রহমান সিরাজ, মাননীয় মন্ত্রী জনাব গাজী গোলাম দস্তগীর এমপি, মাননীয় মেয়র, জাতীয় শ্রমিক লীগের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দসহ নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগ, মহানগর আওয়ামী লীগ ও এমপি মহোদয়দের দৃষ্টি আকর্ষন করছি।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর কমিটির বিভিন্ন নেতা কর্মীবৃন্দরা।