রিকশা, ব্যাটারি রিকশা-ভ্যান, ইজিবাইক চালক সংগ্রাম পরিষদের নারায়ণগঞ্জে মানববন্ধন ও মিছিল

সকাল নারায়ণগঞ্জঃ

ব্যাটারিচালিত যানবাহন উচ্ছেদ নয় আধুকায়ন এবং ব্যাটারিচালিত যানবহনের লাইসেন্স প্রদানের দাবিতে রিকশা, ব্যাটারি রিকশা-ভ্যান, ইজিবাইক চালক সংগ্রাম পরিষদের নারায়ণগঞ্জে মানববন্ধন ও মিছিল

ব্যাটারিচালিত যানবাহন উচ্ছেদ নয় আধুনিকায়ন, ব্যাটারিচালিত যানবাহনের লাইসেন্স প্রদান, সড়ক মহাসড়কে স্বল্প গতির যানবাহনের জন্য আলাদা লেন করা, রিকশা চালকদের হয়রানি, নির্যাতন বন্ধের দাবিতে রিকশা, ব্যাটারি রিকশা, ইজিবাইক চালক সংগ্রাম পরিষদ নারায়ণগঞ্জ জেলার উদ্যোগে আজ সকাল ১১ টায় নারায়ণগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সামনে মানববন্ধন ও শহওে বিক্ষোভ মিছিল অনু্িষ্ঠত হয়।

রিকশা, ব্যাটারি রিকশা, ইজিবাইক চালক সংগ্রাম পরিষদ নারায়ণগঞ্জ জেলার সমন্বয়ক মেহেদী হাসানের সভাপতিত্বে মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্ট নারায়ণগঞ্জ জেলার সভাপতি আবু নাঈম খান বিপ্লব, গার্মেন্টস শ্রমিক ফ্রন্ট নারায়ণগঞ্জ জেলার সভাপতি সেলিম মাহমুদ, সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম শরীফ, সহ-সাধারণ সম্পাদক রুহুল আমিন সোহাগ, রিকশা, ব্যাটারি রিকশা, ইজিবাইক চালক সংগ্রাম পরিষদের গাবতলী-পুলিশ লাইন-তাগারপাড় শাখার যুগ্ম আহŸায়ক খোরশেদ আলম, তাজুল ইসলাম, সাদ্দাম হোসেন, ফতুল্লা আঞ্চলিক শাখার আহŸায়ক মিজানুর রহমান মিজান, তল্লা আঞ্চলিক শাখার সদস্য সচিব মিজানুর রহমান।

নেতৃবৃন্দ বলেন, ২০ জুন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ে সড়কে পরিবহণ টাস্কফোর্স এর সভায় সারাদেশে ব্যাটারিচালিত রিকশা ও ভ্যান চলাচল বন্ধের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। সারাদেশে প্রায় ৫০ লাখ শ্রমিক ব্যাটারিচালিত রিকশা, ইজিবাইক, রিকশা ও ভ্যান চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করে। এটা সাধারণ মানুষের একমাত্র বাহন। রিকশা, ভ্যান ও ইজিবাইক যাত্রী পরিবহণ, পণ্য পরিবহণ এমনকি রোগী পরিবহনের ক্ষেত্রে দেশের সর্বত্র ব্যবহৃত হয়। বিদ্যুৎচালিত বলে এই সব বাহন শব্দ দূষণ কিংবা পরিবেশ দূষণ করে না।

 

ছোট ছোট গলিপথে চলাচল করতে পারে এবং ভাড়া কম বলে এই সব বাহন দ্রæত সারা দেশে প্রয়োজনীয় ও জনপ্রিয় বাহনে পরিণত হয়েছে।

নেতৃবৃন্দ বলেন, বাংলাদেশে বৈধভাবে ব্যাটারি ও মটর আমদানি এবং তৈরি হয়। ব্যবসায়ীরা তা বিক্রি করেন। মেকানিক বা মিস্ত্রিরা এই ব্যাটারি ও মটর লাগিয়ে রিকশা তৈরি করেন। রিকশা চালানোর মত কষ্টকর ও অমানবিক শ্রমের কাজ আর নেই। ব্যাটারি লাগানোর কারণে চালকদের কিছুটা শারীরিক শ্রম লাঘব হয়, ফলে এই রিকশা সারাদেশে ছড়িয়ে পড়ছে। অনেকে তার শেষ সম্বল বিক্রি করে বা ঋণ নিয়ে রিকশা কিনে জীবিকা নির্বাহের ব্যবস্থা করছে।

নেতৃবৃন্দ বলেন, বর্তমান সময়ে বাংলাদেশসহ সারা বিশ্ব করোনা মহামারিতে বিপর্যস্ত। করোনায় অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের কারনে মানুষ কাজ হারিয়ে বেকার হচ্ছে। করোনার প্রথম ধাক্কায় নতুন করে ২ কোটি ৪৫ লাখ মানুষ দরিদ্র হয়েছে। এই সময়কালে রিকশা বন্ধ করে দিলে আরও ৫০ লাখ রিকশা, ব্যাটারি রিকশা ও ভ্যান, ইজিবাইক চালক বেকার ও কর্মহীন হয়ে পড়বে।

নেতৃবৃন্দ লক্ষ লক্ষ রিকশা শ্রমিক, ক্ষুদ্র মালিক ও এর সাথে যুক্ত অসংখ্য মানুষের জীবন ও জীবিকার স্বার্থে ব্যাটারিচালিত যানবাহনের চলাচলের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং জনগনের সস্তা, সহজলভ্য বাহন হিসেবে এর নকশা আধুনিকায়ন এবং ব্রেক ও গতি নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা করা, সুষ্ঠু নীতিমালা প্রণয়ন করা এবং ব্যাটারি রিকশা, ইজিবাইকসহ এসমস্ত যান্ত্রিক যানবাহনের জন্য সুষ্ঠু নীতিমালা ও দ্রæত লাইসেন্স প্রদান করার জোর দাবি জানান। নেতৃবৃন্দ আগামী ২৫ সেপ্টেম্বর ঢাকায় ৪ দফা দাবিতে রিকশা শ্রমিক সমাবেশ সফল করার দাবি জানান।

বার্তা প্রেরক-
খোরশেদ আলম