মহান শিক্ষা দিবস উপলক্ষে নারায়ণগঞ্জে সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের মিছিল ও সমাবেশ

সকাল নারায়ণগঞ্জঃ 

মহান শিক্ষা দিবস উপলক্ষে শিক্ষার বাণিজ্যিকীকরণ- সাম্প্রদায়িকীকরণ বন্ধ, করোনাকালীন সময়ে ছাত্রদের মেস ভাড়া, ভাসা ভাড়া ও স্কুল কলেজের বেতন ফি মওকুফ, সকল ছাত্রদের ভ্যাকসিনের আওতায় আনা ও নারায়ণগঞ্জে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার দাবিতে সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট নারায়ণগঞ্জ জেলার উদ্যোগে আজ বিকাল ৩ টায় নারায়ণগঞ্জ কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে ছাত্র সমাবেশ ও শহরে মিছিল অনুষ্ঠিত হয়।

সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট নারায়ণগঞ্জ জেলার সভাপতি সুলতানা আক্তারের সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য রাখেন সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট নারায়ণগঞ্জ জেলার সাধারণ সম্পাদক বেলাল হোসাইন, অর্থ সম্পাদক মুন্নি সরদার, নারায়ণগঞ্জ জেলার সংগঠক ফয়সাল আহম্মেদ রাতুল, নারায়ণগঞ্জ শহর শাখার সভাপতি রিনা আক্তার, বন্দর উপজেলার আহŸায়ক রাকিবুল হাসান রবিন প্রমূখ ।

নেতৃবৃন্দ বলেন, পাকিস্তান শাসকগোষ্ঠীর শিক্ষার সংকোচন নীতির বিরুদ্ধে আন্দোলন করতে গিয়ে পুলিশের গুলিতে জীবন দিয়েছিলো মোস্তফা, বাবুল, ওয়াজিউল্লাসহ নাম না জানা আরো অনেকে। সেই থেকে বাংলাদেশের ছাত্র সমাজ এই দিনটাকে শিক্ষা দিবস হিসেবে শ্রদ্ধার সাথে পালন করে আসছে। ১৯৬২ে থকে ২০২১ সাল। সময় গড়িয়েছে ৪৯ বছর। কিন্তু স্বাধীনদেশের শাসকগোষ্ঠীর শিক্ষাসংক্রান্ত দৃষ্টিভঙ্গি একই থেকে যায়। স্বাধীনদেশের শিক্ষানীতি পর্যালোচনা করলে এ চিত্র দেখা যাবে।

১৯৭২ সালে কুদরত-ই খুদার নেতৃত্বে স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম শিক্ষানীতি প্রণীত হয়। শিক্ষানীতির শুরুতে কিছু ভালো কথা থাকলেও শিক্ষা সম্পর্কিত দৃষ্টিভঙ্গি একই থেকে যায়। সেখানেও শিক্ষা সর্ম্পকিত বক্তব্য ছিলো শিল্পে মূলধন বিনিয়োগকে আমরা যে নজরে দেখি অনেকটা সেই নজরে শিক্ষা বাবদ অর্থ ব্যয়কে দেখার যৌক্তিকতা প্রতীয়মান হয়। অর্থাৎ শিক্ষাকে ক্রমাগত ব্যয়বহুল ও সংকুচিত করার উদ্দেশ্য নিয়েই এই শিক্ষানীতি তৈরি করা হয়। পরবর্তীতে শিক্ষা সংকোচনের এই দৃষ্টিভঙ্গিতেই শিক্ষাব্যবস্থা পরিচালিত হয়, যার ধারাবহিকতা এখনও বিদ্যমান। এর সাথে প্রতিনিয়ত যুক্ত হচ্ছে শিক্ষা বাণিজ্যের নতুন নতুন নমুনা।

আরেকদিকে করোনা মহামারির কারনে শিক্ষার্থীদের শিক্ষা জীবন ধ্বংসের মুখে। দেশের সকল ধরনের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান দীর্ঘ ১৮ মাস বন্ধ হয়ে থাকার পর গত ১২ সেপ্টেম্বর খোলা হয়েছে স্কুল কলেজ । কিন্তু বন্ধ থাকা সময়ের শিক্ষা ঘাটতি কিভাবে পূরণ করা হবে সেটা নিয়ে সরকারের কোন ধরনের রোড ম্যাপ তৈরি করা হয়নি। এর মধ্যে করোনাকালীন আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবন চালু রাখতে পারবে কিনা তা নিয়ে এক চরম অনিশ্চয়তা ও হতাশা বিরাজ করছে। প্রাথমিক স্তর থেকে উচ্চশিক্ষা পর্যায়ের প্রায় সাড়ে পাঁচ কোটি শিক্ষার্থী ও ৫০ লাখ শিক্ষক। এর প্রায় অর্ধেক শিক্ষার্থীর শিক্ষাজীবনই আজ বির্পযস্ত ও অনিশ্চিত।

আজকে এই অনিশ্চিত জীবন থেকে রক্ষা পেতে আত্মহত্যার মতো পথ বেছে নিচ্ছে শির্ক্ষাথীরা। করোনার প্রভাবে ব্যাপক শিক্ষার্থী ঝড়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে, বেড়েছে বাল্যবিয়েও। বিআইডিজি এর এক গবেষনায় এসেছে ১৫ শতাংশ শিক্ষার্থী প্রচন্ড মানসিকচাপের মধ্য দিয়ে দিনযাপন করছে। অন্যদিকে শিক্ষাকে পণ্যে পরিনত করেছে, টাকা যার শিক্ষা তার এই নীতিতে চলছে শিক্ষাব্যবস্থা। এই নীতিতে যদি চলতে থাকে তাহলে অসংখ্য শিক্ষার্থী শিক্ষাজীবন থেকে ঝড়ে পড়বে।

 

নেতৃবৃন্দ বলেন, এই সংকটে ছাত্রদের বাসা ভাড়া, মেস ভাড়া ও স্কুল কলেজের বেতন ফি মওকুফ করতে হবে। নারায়ণগঞ্জ হলো বাংলাদেশের মধ্যে অর্থনৈতিক দিক দিয়ে সবচেয়ে ধনী জেল্ াঅথচ সেখানে শিক্ষার্থীদের জন্য দেহ মনে বিকশিত হওয়ার জন্য শিক্ষা নিয়ে কোন ধরনের আয়োজন নেই। এখানে লক্ষ লক্ষ শিক্ষার্থী পড়াশোনা করে। কিন্তু এখানে কোন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা হয়নি। নেতৃবৃন্দ নারায়ণগঞ্জে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের দাবি জানান।

বার্তা প্রেরক
বেলাল হোসাইন