না’গঞ্জে শ্লীতহানিতা ও হামলার শিকার কাউন্সিলর দিনা,দায়িত্ব নিলেন এমপি শামীম ওসমান

সকাল নারায়ণগঞ্জঃ

সিদ্ধিরগঞ্জে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে কিছু নামধারী ছাত্রলীগ নাসিক ৭,৮,৯ নং ওর্য়াডের কাউন্সিলর দিনাকে হামলা চালিয়েছে এমন একটি অভিযোগ উঠেছে।সর্বত্র মহলে আলোচনা ও সমালোচনা হচ্ছে বিষয়টি।এই ঘটনায় মিমাংশার দায়িত্ব নিয়েছেন নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সাংসদ শামিম ওসমান।

সোমবার (১৬ জুন) দুপুরে মুঠোফোনে কাউন্সিলর দিনাকে এ আশ্বাস দেন এই সাংসদ। কাউন্সিলর দিনা জানান, করোনার প্রাদূর্ভাব শুরু হওয়ার পর থেকে সবাইকে সাহায্য করার চেষ্টা করেছি। গতকাল রাত সাড়ে ১০ টায় ছাত্রলীগের কিছু ছেলে আমাকে, আমার স্বামী ও ভাইকে মারধোর করে। ৮ নং ওয়ার্ডে আমার খালার বাড়ি, তারা এই বাড়ি ভাড়া দিয়েছে। লকডাউনের পর থেকে ভাড়াটিয়ার কাজ নেই, ভাড়া দিতে পারছে না।

কিছু নামধারী ছাত্রলীগের ছেলেরা কয়েকদিন পর পর ওই মহিলাকে হুমকি দেয়। এলাকার মানুষ আমাকে জানায় বিষয়টা। আমার মামা আমাকে বলেন বিষয়টা সমাধান করতে। আমি মামাকে বললাম সাহায্য করতে। দিনা জানান,আমার মামা ফোন দিয়ে ওই ছেলেদের বললো তিন মাসের ভাড়া ১৫ হাজার টাকা মওকুফ করতে, ভাড়াটিয়া আগামী এক মাসের মধ্যে বাসা ছেড়ে দিবে। গত কাল সারা দিন পরিশ্রম করার পর যখন অফিসে এসে বসি, আমার খালাতো ভাই রুবেল আবার ছাত্রলীগের ছেলেদের নিয়ে অসহায় মহিলাকে হুমকি দেয়।

খবর পেয়ে আবার সেখানে যাই। আমি তাদের জানাই আমার মামার কথা। দুই পক্ষই বিশ্বহয়টা মেনে নেয়। নাসিকের এই কাউন্সিলর আরও জানান,আমি রাত ১১টার পর মধ্যবিত্ত পরিবারদের খাবার দেই, যারা লজ্জায় চাইতে পারে না। আমি আমার স্বেচ্ছাসেবক টীম নিয়ে সেই প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম। এর মধ্যে আমার খালাসহ তারা এসে আমাকে গালাগালি শুরু করে। ছাত্রলীগের রাকিব, তামিম, আরিফসহ অনেকে এসে আমাকে আমার স্বামী ও ভাইসহ মারধোর করে।

আমার আংটি, চুড়ি, মোবাইল ছিনিয়ে নিয়ে যায়। আজকে যাওয়ার সময় হুমকি দিয়ে গেছে, আমাদের গুম করে ফেলবে। আমার স্বেচ্ছাসেবক টিম ও আমার অফিসের মালিককেও হুমকি দিয়ে গেছে স্বপরিবারে হত্যা করবে। এলাকার শত শত লোক সাক্ষী। আমি রাতে শামীম ওসমান সাহেবকে ফোন দেই। তিনি টকশোতে থাকায় ধরতে পারেননি। এদিকে আজ দুপুরে আমি অয়ন ওসমানকে কল দেই, কারণ ছাত্রলীগ নামধারীরা অয়ন ওসমানের পরিচয় দিয়ে এলাকায় বেড়াচ্ছিল। অয়ন ওসমান আমাকে বলে ফুপু আপনি বাবার সাথে কথা বলেন।

এরপর, শামীম ওসমান আমাকে বললেন, তুমি কি চাও? মামলা বা আইনি প্রক্রিয়ায় কিছু করতে চাইলে সেখানেও আমি তোমাকে সাহায্য করবো আর তুমি মিমাংসা করতে চাইলে সেখানেও। তোমার পারিবারিক বিষয়ে কারো হস্তক্ষেপ উচিত না। এখন এব্যাপারে কি করতে চাও? জবাবে আমি বললাম ভাই আপনি যা ভালো মনে করেন। অতঃপর তিনি আমাকে সিদ্ধিরগঞ্জ থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি মজিবুর রহমান ভাইয়ের দ্বারা মিমাংশার আশ্বাস প্রদান করেন।