জনার্দন দত্ত নান্টুসহ নেতৃবৃন্দের মিথ্যা মামলা অবিলম্বে প্রত্যাহার করতে হবে

সকাল নারায়ণগঞ্জঃ

পাটকল রক্ষা আন্দোলনের নেতা জনার্দন দত্ত নান্টুসহ নেতৃবৃন্দের মিথ্যা মামলা অবিলম্বে প্রত্যাহার করতে হবে। মামলা-গ্রেফতার-নির্যাতন চালিয়ে আন্দোলন স্তব্ধ করা যাবে না

রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল রক্ষা আন্দোলনের নেতা সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্ট কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সম্পাদক বাসদ-এর খুলনা জেলার সমন্বয়ক জনার্দন দত্ত নান্টুসহ নেতৃবৃন্দের উপর দায়েরকৃত মিথ্যা মামলা অবিলম্বে প্রত্যাহার করার দাবিতে সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্ট নারায়ণগঞ্জ নারায়ণগঞ্জ জেলার উদ্যোগে বিকাল ৩ টায় নারায়ণগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সামনে মানববন্ধন ও শহরে বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়।

সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্টের নারায়ণগঞ্জ জেলার সভাপতি আবু নাঈম খান বিপ্লবের সভাপতিত্বে মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন গার্মেন্টস শ্রমিক ফ্রন্টের নারায়ণগঞ্জ জেলার সভাপতি সেলিম মাহমুদ, রি-রোলিং স্টিল মিলস শ্রমিক ফ্রন্ট নারায়ণগঞ্জ জেলার সাধারণ সম্পাদক এস এম কাদির, গার্মেন্টস শ্রমিক ফ্রন্ট নারায়ণগঞ্জ জেলার সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম শরীফ, সহ-সভাপতি হাসনাত কবীর, সহ-সাধারণ সম্পাদক রুহুল আমিন সোহাগ।নেতৃবৃন্দ বলেন, বন্ধ রাষ্ট্রায়ত্ত ২৫টি পাটকল চালুর দাবিতে ধারাবাহিক আন্দোলনের অংশ হিসাবে ১৯ অক্টোবর দেশব্যাপী কর্মসূচির অংশ হিসাবে খুলনায় পাটকল শ্রমিকরা রাজপথ অবরোধ কর্মসূচি পালন করে।

শান্তিপূর্ণ রাজপথে অবস্থান কর্মসূচিতে খুলনায় পুলিশ অতর্কিতে বর্বরোচিত হামলা চালায়। রাজপথে বসে থাকা শ্রমিকদের উপর কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করে এবং বেধরক লাঠিপেটা করে। এতে শতাধিক শ্রমিক।

গ্রেফতার করা হয় সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্ট কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সম্পাদক, বাসদ খুলনা জেলার সমন্বয়ক জনার্দন দত্ত নান্টুসহ পাটকল রক্ষায় সম্মিলিত নাগরিক আন্দোলনের ১৪ জন নেতা-কর্মীকে। মিথ্যা মামলা দিয়ে তাদের ১০ দিন কারাগারে আটক রাখার পর তারা জামিনে মুক্ত হন।

এভাবে দমন পীড়ন চালিয়ে শ্রমিকের ন্যায় সঙ্গত আন্দোলন স্তব্ধ করতে চাচ্ছে।নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, পাট এবং পাটকল আমাদের জাতীয় ঐতিহ্য এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনার সাথে সম্পর্কিত। ফলে পাটকল বন্ধ করা মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও অঙ্গীকারের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করা।

সরকার লোকসানের অজুহাত দেখিয়ে রাষ্ট্রায়ত্ত ২৫ টি পাটকল বন্ধ ঘোষণা করেছে। লোকসানের মূল কারণ যে পুরোনো যন্ত্রপাতি, অদক্ষ ও মাথাভারী প্রশাসন, দুর্নীতি, লুটপাট সেটা উদঘাটন করে ব্যবস্থা না নিয়ে কর্মরত ৫০ হাজার শ্রমিককে করোনাকালে বেকার করেছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে ১২শ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়ে পাটকলগুলো আধুনিকায়ন করলে লাভজনক করা সম্ভব। অথচ সরকার সেটা না দিয়ে ৫ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে পাটকল বন্ধ করার উদ্দেশ্যে। বাস্তবে সরকার পিপিপি বা লিজের নামে জনগণের সম্পদ ব্যক্তি মালিকদের হাতে তুলে দিতে চাচ্ছে।নেতৃবৃন্দ বন্ধকৃত ২৫টি পাটকল আধুনিকায়ন করে রাষ্ট্রীয় মালিকানায় চালু এবং পাটকল রক্ষা আন্দোলনে খুলনায় নেতাবৃন্দের নামে দায়েরকৃত মিথ্যা মামলা অবিলম্বে অবিলম্বে প্রত্যাহারের দাবি করেন।