করোনা হাসপাতালে পাপ্পা গাজীর ভেন্টিলেটর উপহার

সকাল নারায়ণগঞ্জঃ

নারায়ণগঞ্জ করোনা হাসপাতালে ভেন্টিলেটর এবং হাই ফ্লু নজল ক্যানুলাসহ আইসিইউ সরঞ্জাম সামগ্রী উপহার দিয়েছেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড ও যমুনা ব্যাংকের পরিচালক এবং গাজী গ্রæপের উপ-পরিচালক গাজী গোলাম মর্তুজা পাপ্পা।

মঙ্গলবার দুপুরে জেলা প্রশাসক মো. জসিম উদ্দিনের মাধ্যমে ৩০০ শয্যা হাসপাতালের তত্বাবধায়ক ডা: গৌতম রায় এর হাতে এ সরঞ্জাম সামগ্রী তুলে দেন তিনি। ভেন্টিলেটর এবং হাই ফ্লু নজল ক্যানুলা উপহার প্রদানের এ অনুষ্ঠানে দৈনিক সংবাদচর্চা পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক মুন্না খানের সঞ্চালনায় উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক মোঃ জসিম উদ্দিন, ৩০০ শয্যা হাসপাতালের তত্বাবধায়ক ডা: গৌতম রায়, ডা: সামসুদ্দোহা সঞ্জয়, পাট ও বস্ত্র মন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজীর (বীর প্রতীক) একান্ত সচিব এমদাদুল হক, রূপগঞ্জ উপজেলার মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান ফেরদৌসী আলম।

পাপ্পা গাজী বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানাই। উনি আমাদের নারায়ণগঞ্জবাসীকে এতো স্নেহ করেন যে আমাদের জেলার মধ্যে দুটি পিসিআর ল্যাব আছে যা দেশের অনেক জেলায়ই নেই। যা আমাদের কাছে খুবই গৌরবের ব্যাপার। যুবসমাজের এ আইকন বলেন, আপনারা জানেন দেশে প্রথম আমরা প্রাইভেটভাবে কোনো পিসিআর ল্যাব স্থাপন করতে সক্ষম হয়েছি। যখন নারায়ণগঞ্জকে করোনা হটস্পট ঘোষণা করা হয়েছিল তখনই আমরা বলেছিলাম নারায়ণগঞ্জবাসীর কোভিড টেষ্টের রেজাল্টই নয়, যদি তাদের চিকিৎসা সেবা লাগে, আইসিইউ সেবা লাগে, আমরা সেই সেবা দিবো। তারই ধারাবাহিকতায় আমরা আজ ৩০০ শয্যা হাসপাতালে কিছু আইসিইউ ইকুইপমেন্ট (সরঞ্জাম) দিচ্ছি, সামনে আরো দেয়ার চেষ্টা করবো।

তিনি আরও বলেন, আপনারা জানেন একজন আইসিইউ রোগীর সেবা নিতে হলে আগে ঢাকা যেতে হতো তাহলে অনেক সময় লাগে এবং সে সময় একজন রোগীর জন্য অনেক কষ্টদায়ক। আপনারা জানেন বর্তমান আন্তর্জাতিক বাজারে আইসিইউ ইকুইপমেন্ট বলেন বা পিসিআর ল্যাবের ইকুইমেন্ট বলেন পাওয়া এখন খুবই দু:সহ ব্যাপার। তারপরও আমরা আনতে সক্ষম হয়েছি। আজকে আমরা এখানে একটা ভেন্টিলেটর এবং হাই ফ্লু নজল ক্যানুলা যা বর্তমানে কোভিড-১৯ এ আক্রান্ত একজন আইসিইউ রোগীর জন্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ, এগুলো উপহার দেয়ার জন্য আজ আমরা এখানে এসেছি।

জেলা প্রশাসক মো: জসিম উদ্দিন বলেন, মাননীয় পাট ও বস্ত্র মন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজীর সুযোগ্য পুত্র পাপ্পা গাজীর অনেকগুলো পরিচয় আছে। তবে সবচেয়ে বড় বিষয় হলো উনি এবার কোভিডকে নিয়ে সে গবেষণা করে ফেলেছেন। প্লাজমা ব্যাংক থেকে শুরু করে অনেকগুলো কাজ করে ফেলেছেন। তিনি বলেন, অনেকেরই টাকা আছে, অনেকে আমাদের মাঝ থেকে চলেও গেছেন করোনার আগেই। কিন্তু কেউ এগিয়ে আসে নি। এটা অবশ্যই অনেক বড় একটা বিষয় যখন সারা বাংলাদেশ তথা আমাদের নারায়ণগঞ্জের অবস্থা এলোমেলো তখন কিন্তু আমাদের এ গাজী পিসিআর ল্যাবটা বিরাট সাপোর্ট দিয়েছে। ব্যক্তিগত উদ্যোগে নিজেদের পকেটের টাকায় বিনা পয়সায় সরকারের অনুমোতি নিয়ে সরকারের তত্ত¡াবধানে তারাই প্রথম এগিয়ে এসেছে।

এছাড়াও ব্যক্তিগতভাবে আমাকে বহুবার বলছে যে কোনো প্রয়োজনে যত রাতই হোক যোগাযোগ করার জন্য। রাত ১২টা, ১টা-২টার সময়ও আমাদের সাপোর্ট দিয়েছেন। তিনি আরও বলেন, এখন আমরা তুলনামুলক অন্য যে কোনো জেলার চেয়ে ভালো আছি এবং আমরা বলতে পারি অন্য জেলার লোকদের আমাদের জেলায় ঢুকতে দেবো না। যে অবস্থানে আমরা বর্তমানে আছি, সে অবস্থানটা আমাদের ধরে রাখতে হবে।

গত আইনশৃঙ্খলা কমিটির মিটিংয়ে আমাদের মাননীয় পাট ও বস্ত্র মন্ত্রী মহোদয় আমাদের সাথে একাত্ম হয়ে ঘোষণা দিলেন ৩০০ শয্যা হাসপাতালে ভেন্টিলেটর ও হাই ফ্লু নজল ক্যানুলা দেয়ার। তারই ধারাবাহিকতায় আজ আমরা যা পেলাম, এই পাওয়া আমাদের আরো সমৃদ্ধ করবে।

ভবিষ্যতে যদি আরো কিছু লাগে তখন আমরা গোলাম মর্তুজা পাপ্পা গাজীর কাছে আবার চাইবো, তিনিও আমাদের দিবেন সেই প্রত্যাশায় আমাদের জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পাপ্পা গাজী, গাজী গ্রæপ ও যমুনা ব্যাংককে ধন্যবাদ জানাই। সবশেষে জসিম উদ্দিন বলেন, নারায়ণগঞ্জবাসীকে অনুরোধ করবো আপনারা ধৈর্য্য ধরে আমাদের ডাক্তারদের প্রতি শ্রদ্ধা রাখবেন। ডাক্তারসহ আমরা সবাই আপনাদের সেবাই নিয়োজিত আছি। হঠাত করে কেউ উত্তেজিত হবেন না। আমরা যেন ভবিষ্যতে কাধে কাধ মিলিয়ে এই নারায়ণগঞ্জকে উন্নত করতে পারি এটাই আমাদের প্রত্যাশা।