সাম্প্রদায়িক রাজনিতি বন্ধের দাবীতে সমাবেশ করেছে সিপিবি।

সকাল নারায়ণগঞ্জঃ

সরকারের আশ্রয় ও প্রশ্রয়ে বেড়ে ওঠা সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠী শিল্প সাহিত্য ও সংস্কৃতির উপর আঘাত হানতে শুরু করেছে। এই অপতৎপরতার প্রতিবাদে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি – সিপিবি ১২ ডিসেম্বর শনিবার দেশব্যাপী মৌলবাদ ও সাম্প্রদায়িকতা বিরোধী দিবস পালন করেছে।

কেন্দ্র ঘোষিত এই কর্মসূচীর অংশ হিসেবে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি – সিপিবি নারায়ণগঞ্জ জেলা কমিটির উদ্যোগে ১২ ডিসেম্বর শনিবার বিকাল ৩টায় নারায়ণগঞ্জ কেন্দ্রীয় শহিদ মিনার প্রাঙ্গনে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন নারায়ণগঞ্জ জেলা কমিটির সভাপতি কমরেড হাফিজুল ইসলাম ও সঞ্চালনা করেন জেলা সম্পাদক মন্ডলীর সদস্য বিমল কান্তি দাস।

বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য এড. মন্টু ঘোষ, নারায়ণগঞ্জ জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক শিবনাথ চক্রবর্তী, নারায়ণগঞ্জ শহর কমিটির সভাপতি আব্দুল হাই শরীফ, নারায়ণগঞ্জ জেলা সম্পাদক মন্ডলীর সদস্য আব্দুস সালাম বাবুল, জেলা কমিটির সদস্য সুজয় রায় চৌধুরী বিকু ও ইকবাল হোসেন প্রমুখ।


সমাবেশে নেতৃবৃন্দ বলেন, দেশে যখন মানুষের বেঁচে থাকার লড়াই, করোনা মহামারী, কর্মসংস্থানের সংকোচন, নারী ধর্ষণ ও নির্যাতনসহ নানাবিধ সমস্যায় মানুষ আন্দোলনের প্রস্তুতি নিচ্ছে তখন মানুষের সকল সমস্যা চাপা দেওয়ার উদ্দেশ্যে অপ্রয়োজনীয় কিছু বিষয়কে ইস্যু করে ষড়যন্ত্রের রাজনীতি সাধারণ মানুষের উপর চাপিয়ে দেয়া হচ্ছে।

যে মৌলবাদী গোষ্ঠীরা একদিন ভাষা আন্দোলনের বিরোধীতা করেছিল, ৭১ এ মুক্তিযুদ্ধের বিরুদ্ধে ইসলাম রক্ষার ধুয়া তুলে রাজাকার আলবদরকে সহযোগিতা করেছিল, মুক্তিযুদ্ধের পরবর্তী সময়ও বারে বারে শহীদ মিনার ভেঙ্গেছে, রবীন্দ্রনাথের ভাস্কর্য ভেঙ্গেছে, লালনের ভাস্কর্য ভেঙ্গেছে, হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের মন্দির ও মুর্তি ভেঙ্গেছে তারাই আজ বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য ভাঙ্গারও সাহস দেখিয়েছে।

গত কয়েক বছর ধরে এদের সুপারিশে সরকার পাঠ্যপুস্তক সংশোধন করেছে। এখন এরা সরকারকেই চ্যালেঞ্জ করছে। আমরা মনে করি সরকারের সহযোগিতা ও আপোষকামিতার কারনেই এই অন্ধকারের শক্তি এত ঔদ্ধত্য দেখাতে পারছে। ইসলামের নাম করে এরা পাকিস্তানের মুসলিমলীগের চাইতেও সমাজ সভ্যতাকে পিছনে নিয়ে যাচ্ছে।


নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, মূর্তি হোক বা ভাস্কর্য হোক এগুলো আমাদের সভ্যতা ও সংস্কৃতির ঐতিহ্য। প্রাচীনকাল থেকেই মানব সভ্যতা শিল্প-সংস্কৃতির এ ঐতিহ্যগুলো রক্ষা করে আসছে। এর কোনটা ধর্মীয় সংস্কৃতিতে, কোনটা দেশপ্রেমে, কোনটা জীবন ও সংগ্রামের প্রেরণা হিসেবে মানুষের মণজগতে প্রবহমান। মূর্তি ও ভাস্কর্যের ওপর আঘাত মানে মানুষের জীবন-সংগ্রাম, শিল্প-সংস্কৃতি ও সভ্যতার ওপর আঘাত।

মন্দিরের মূর্তি ভাঙ্গলে যেমন হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের ওপর আঘাত করা হয় তেমন বঙ্গবন্ধু, লালন, রবীন্দ্রনাথের ভাস্কর্য ভাঙলে দেশের স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনার ওপর আঘাত করা হয়। এটা আমাদের সংস্কৃতির প্রশ্ন, ঐতিহ্যের প্রশ্ন। সম্প্রতিকালে একটি গোষ্ঠী পরিকল্পিতভাবে সাম্প্রদায়িকতা, গনতন্ত্র হত্যা ও ফ্যাসিবাদী সংস্কৃতিকে সামনে আনার চেষ্টা করছে। এতে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, গণতন্ত্র ও শিল্প-সংস্কৃতি হুমকির সম্মুখীন হতে যাচ্ছে।

মৌলবাদী শক্তির সাথে সরকারের আপোষকামিতার ফলাফল হচ্ছে এগুলো। সরকার গণতন্ত্রহীনতার পথে হাঁটছেন বলে অন্ধকারের এই শক্তিগুলো বিকশিত হচ্ছে। ঘুষ, দূর্নীতি, লুটপাট ও ক্ষমতা রক্ষার জন্য এ মৌলবাদী গোষ্ঠীর সঙ্গে সরকার আঁতাত করে চলেছে। এভাবে চললে সরকার তার নিজের পায়ে নিজে কুড়াল মারবে।


এ পরিস্থিতে সকল প্রগতিশীল শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে গণতন্ত্র রক্ষায় এগিয়ে আসতে হবে। মুক্তিযুদ্ধের সময়কার মত সাম্প্রদায়িক ও মৌলবাদী গোষ্ঠীকে আন্দোলনের মাধ্যমে প্রতিহত করতে হবে।