যারা ইন্ধন দিয়েছে তারাই এখন বঙ্গবন্ধু প্রেমীর লেবাস লাগিয়েছে : সেলিম ওসমান

সকাল নারায়নগঞ্জঃ

নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য সেলিম ওসমান বলেন, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে সহ পরিবারে হত্যার পর দেখা গেছে উনার জানাজায় অংশ নেওয়ার লোক পাওয়া যায়নি। আমরা যারা বঙ্গবন্ধুর আহবানে সাড়া দিয়ে মুক্তিযুদ্ধে গিয়ে ছিলাম বিগত ২১টি বছর আমাদের ধাবিয়ে রাখা হয়েছে। জয়বাংলা পর্যন্ত বলতে দেওয়া হয়েনি। ইতিহাস থেকে বঙ্গবন্ধুকে মুছে ফেলার চেষ্টা করা হয়েছে। আজকে দেখা যায় ওই সময় যারা এসব কাজে লিপ্ত ছিল বিভিন্ন দলে ছুটে গিয়ে যারা বঙ্গবন্ধুর পরিবারকে হত্যা করতে পেছন থেকে ইন্ধন জুগিয়েছে তারাই এখন বঙ্গবন্ধু প্রেমী লেবাস লাগিয়েছেন। এসব সুযোগ সন্ধানী লোকদের প্রতিহত করতে হবে। বঙ্গবন্ধুকে আমাদের বুকে ধারন করতে হবে। বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে বুকে লালন করতে হবে। আমরা বঙ্গবন্ধুর ডাকে সাড়া দিয়ে মুক্তিযুদ্ধে গিয়েছি দেশ স্বাধীন করেছি, বাংলাদেশের পতাকা এনেছি কিন্তু সোনার বাংলা গড়তে পারিনি। যারা আমাদের সাথে মুক্তিযুদ্ধে যায়নি তারাই এখন মুক্তিযোদ্ধা সেজে আমাদের পাশে বসে। আমরা মুক্তিযোদ্ধারা মৃত্যুকে ভয় পাইনা। আমরা যে কোন সময় ইতিহাস টানবো। এর আগেও আমি বলেছি যার মুক্তিযোদ্ধা না হয়েও মুক্তিযোদ্ধার সার্টিফিকেট নিয়ে ঘুরছেন তারা সেই সনদ সেলেন্ডার করেন। আমি আবারও একই কথা বলছি কোন ছাড় দেওয়া হবেনা।

শনিবার ১৫ আগস্ট বাদ আসর বন্দর খেয়াঘাট সংলগ্ন জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সে মুক্তিযোদ্ধা সংসদ জেলা ইউনিট কমান্ডের উদ্যোগে বঙ্গবন্ধুর ৪৫তম শাহাদাৎ বার্ষিকী উপলক্ষ্যে দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

অনুষ্ঠানের শুরুতে বঙ্গবন্ধু ও তাঁর পরিবারের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করে মুক্তিযোদ্ধারা দাড়িয়ে ১ মিনিট দাড়িয়ে নীরবতা পালন করেন।

বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ নারায়ণগঞ্জ জেলা ইউনিট কমান্ডের ভারপ্রাপ্ত কমান্ডার ও নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক জসিম উদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন, বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ নারায়ণগঞ্জ জেলা ইউনিট কমান্ডের সাবেক কমান্ডার মোহাম্মদ আলী, জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোস্তাফিজুর রহমান, নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার নির্বার্হী কর্মকর্তা নাহিদা বারীক, সাবেক কমান্ডার সামিউল্লাহ মিলন, সদর উপজেলার কমান্ডার শাহজাহান ভূইয়া জুলহাস, বিকেএমইএ এর পরিচালক মনসুর আহম্মেদ, নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্টিজ এর সভাপতি খালেদ হায়দার খান কাজল সহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ। দোয়া অনুষ্ঠানে শতাধিক মুক্তিযোদ্ধা অংশ গ্রহন করেন।

এসময় এমপি সেলিম ওসমান আরো বলেন, আমাদের মুক্তিযোদ্ধাদের সুস্থ্য থাকতে হবে, বেঁচে থাকতে হবে। ইতোমধ্যে করোনা শুরু হওয়ার পর থেকে আমাদের সদর উপজেলা থেকেই প্রায় ১৪জন মুক্তিযোদ্ধা করোনা আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরন করেছেন। যিনি কিনা এই মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সটি নির্মাণে অক্লান্ত পরিশ্রম করেছেন, মুক্তিযোদ্ধাদের সকল কার্যক্রমে অগ্রনী ভূমিকা পালন করতেন সে আমাদের মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আমিনুর রহমান ভাই। উনিও করোনা আক্রান্ত হয়ে আমাদের মাঝ থেকে বিদায় নিয়েছেন। তাই আমি চাই আগামী ১ সপ্তাহের মধ্যে আমাদের সকল মুক্তিযোদ্ধাদের করোনা টেষ্ট করা উচিত। আমি জেলা প্রশাসকের কাছে সকল মুক্তিযোদ্ধাদের করোনা টেষ্ট করানোর ব্যবস্থা করার জন্য বিশেষ ভাবে অনুরোধ রাখছি। যেহেতু উনি এখন ভারপ্রাপ্ত কমান্ডার। সেই সাথে মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি অনুরোধ করবো যদি আপনাদের পরিবারের সদস্যদেরও টেষ্ট করানোর প্রয়োজন মনে করেন আপনারা জানাবেন। তাদেরকেও টেষ্ট করার ব্যবস্থা করা হবে। আর যেহেতু কমপ্লেক্সের দ্বিতীয় তলাটি আমি ভাড়া নিয়েছি সেখানে আমার অফিস করার কথা ছিল। কিন্তু বর্তমানে সেটি খালি রয়েছে প্রয়োজনে আমরা সেখানে মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য জরুরি চিকিৎসা সেবা দিতে সেখানে একটি ছোট্ট পরিসরে ক্লিনিক করার ব্যবস্থার করবো। এ ব্যাপারেও আমি জেলা প্রশাসকের সহযোগীতা কামনা করছি।

সভাপতির বক্তব্যে নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক জসিম উদ্দিন বলেন, এমপি মহোদয় যে যে প্রস্তাবনা রেখেছেন সেগুলো বাস্তবায়ন করা হবে। আর মুক্তিযোদ্ধাদের করোনা টেস্ট করার জন্য কোন টাকা লাগবে না। আপনাদের মধ্যে যারাই করোনা টেস্ট করতে চাইবেন তাদের সবার করোনা টেস্ট করার ব্যবস্থা করা হবে।