ভুয়া চাকরিদাতা প্রতিষ্ঠানের ০৩ প্রতারককে গ্রেফতার করেছে র‍্যাব-৪

সকাল নারায়ণগঞ্জ:

স্টাফ রিপোর্টার (আশিক)

অভিযান চালিয়ে গাজীপুরের কালিয়াকৈর এলাকা হতে ভুয়া চাকরিদাতা চাকরিপ্রার্থী ১৮ ভুক্তভোগী উদ্ধার প্রতিষ্ঠানের ০৩ প্রতারককে গ্রেফতার করেছে র‍্যাব-৪।

মঙ্গলবার (২৪ নভেম্বর) গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারা যায় যে, গাজীপুর জেলার কালিয়াকৈর থানা এলাকায় “প্রাইড সিকিউরিটি সার্ভিস ” নামক একটি ভুয়া কোম্পানি সাধারণ জনগণের কাছ থেকে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে চাকুরী দেওয়ার নামে প্রতারণার ফাঁদে ফেলে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। উক্ত সংবাদের ভিত্তিতে র‌্যাব-৪ এর একটি বিশেষ আভিযানিক দল ২৪/১১/২০২০ তারিখ ১৫.২৫ ঘটিকায় উক্ত এলাকায় “প্রাইড সিকিউরিটি সার্ভিস” শাখায় অভিযান পরিচালনা করে ভুক্তভোগী ১৮ জন’কে উদ্বারপূর্বক বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে ভুয়া চাকুরীদাতা প্রতারক চক্রের ৩ সক্রিয় সদস্য- মাসুদুর রহমান (৪৮), মাসুদ রানা অপূর্ব (৩২) ও মো: আবুল কালাম আজাদ মিঠু (৩৯)’দেরকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।

এছাড়াও উক্ত গ্রেফতারকৃত ব্যক্তিদের কাছ থেকে ১২টি রেজিস্টার খাতা, ৫০টি ভুক্তভোগীদের সিভি, ১১টি পরিচয়পত্র, ৮৮৮০ টাকা, ১৫টি ভর্তি ফরম বহি, ৩ সেট ইউনিফর্ম, ২ জোড়া বুট এবং ৩টি অফিস সিলছাড়াও বেল্ট, সিকিউরিটি ক্যাপ, রিফ্লেক্ট জ্যাকেট ইত্যাদি জব্দ করা হয় ।

জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায় যে, এই তিন প্রতারক “প্রাইড সিকিউরিটি সার্ভিস কোম্পানি” নামে একটি ভুয়া অফিস খুলে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন বয়সের বেকার লোকদের থেকে ব্যাংক, অফিস, এটিএম বুথ, হাসপাতাল, এসি মার্কেট, চাইনিজ রেস্টুরেন্ট, শো-রুম, এ্যাপার্টমেন্ট হাউজ, গার্মেন্টস ইত্যাদি প্রতিষ্ঠানে সিকিউরিটি গার্ড এর চাকরি দেবার নাম করে টাকা নিয়ে প্রতারণা করে আসছিলো। এছাড়াও তারা অফিস সুপারভাইজার, সহ: সুপারভাইজার, শো-রুমের গার্ড, চেকার মেয়ে, সাধারণ গার্ড, কেয়ারটেকার, স্পেশাল নিরাপত্তাকর্মী, রিক্রুটিং মেয়ে, পিয়ন ইত্যাদি বিভিন্ন পদে চাকরি দেবার প্রলোভন দেখিয়ে সহজ- সরল, অসহায়, বেকার , স্বল্প শিক্ষিত নারী – পুরুষ এবং চাকরি থেকে অবসরপ্রাপ্ত ব্যক্তিদেরকে প্রতারিত করে আসছিলো।

জিজ্ঞাসাবাদে আরো জানা যায় যে, ভুক্তভোগীদের মধ্যে চাকরি প্রার্থী গৃহপরিচারিকা, ছাত্র, শ্রমিক, দিন মজুর সহ বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষেরা আছেন, যারা চাকরির জন্যে তাদেরকে টাকা দিয়েছেন এবং ভুক্তভোগীদের থেকে টাকা নেবার পর বিভিন্ন অফিসের ঠিকানা দিয়ে পাঠিয়ে দিতো, সেই সকল অফিসে গিয়ে ভুক্তভোগীরা কোনো কাজের সন্ধান না পেয়ে প্রতারকদের কাছে এসে টাকা ফেরত চাইলে তাদেরকে ভয়-ভীতি দেখিয়ে এবং অশ্রাব্য ভাষায় গালাগালি করে তাড়িয়ে দিতো।

গ্রেফতারকৃত আসামীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন । অদূর ভবিষ্যতেও এইরুপ অসাধু চক্রের বিরুদ্ধে র‌্যাব-৪ এর জোড়ালো সাঁড়াশি অভিযান অব্যাহত থাকবে।