বৃদ্ধাশ্রম যেন আমাদের শেষ ঠিকানা না হয়- আনন্দধামে লেফটেন্যান্ট জেনারেল হারুন

সকাল নারায়ণগঞ্জঃ

প্রবীনদের নাগরিক অধিকার সুনিশ্চিত করতে সমাজ দায়বদ্ধ – আনন্দধামে ব্যারিস্টার আমিরুল ইসলাম।


নাগরিক নিরাপত্তা প্রাপ্তি প্রবীনদের রাস্ট্রীয় অধিকার- আনন্দধামে বিচারপতি মীর হাসমত আলী।

আনন্দধামের উদ্যোগে ১ লা অক্টোবর  আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবস ২০২০ উপলক্ষে  স্থানীয় ইডেন থাই এন্ড চাইনিজ রেস্টুরেন্টে  “ প্রবীণদের নাগরিক অধিকার সংরক্ষণে সমাজের দায়বদ্ধতা “ – শীর্ষক এক আলোচনা সভার আয়োজন করা হয় ও আনন্দধাম সিনিয়র সিটিজেন এওয়ার্ড ২০২০ প্রদান করা হয়।

আনন্দধামের নির্বাহী চেয়ারম্যান হাসিনা রহমান সিমুর সভাপতিত্বে এই অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের মাননীয় বিচারপতি মীর হাসমত আলী। সম্মানিত অতিথি হিসেবে ভার্চুয়ালি উপস্থিত ছিলেন প্রাক্তন মন্ত্রী ও বাংলাদেশের অন্যতম সংবিধান প্রনেতা ব্যারিস্টার আমিরুল ইসলাম  ও বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সাবেক প্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল হারুন অর রশিদ বীর প্রতিক। 

অনুষ্ঠানে  বিকেএমইএ এর পরিচালক শাহাদাত হোসেন ভূইয়া সাজনু বিশেষ অতিথির আসন অলংকৃত করেন।

অনুষ্ঠানে ৭ জন প্রবীন নাগরিককে আনন্দধাম সিনিয়র সিটিজেন এওয়ার্ড-২০২০ তে ভূষিত করা হয়। প্রবীন নাগরিক বৃন্দ হলেন অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জনাব মজিবুর রহমান মজনু, , প্রাক্তন মুক্তিযোদ্ধা জেলা কমান্ডার জনাব সামিউল্লাহ মিলন, প্রখ্যাত মুক্তিযোদ্ধা  ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব মাসুদুর রাহমান খসরু, প্রবীণ সাংবাদিক মুক্তিযোদ্ধা সৈয়দ লুৎফর রহমান, বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ কৃষনা রানী দেব, ধর্মীয় গুরু পন্ডিত সুধীর চক্রবর্তী, বিশিষ্ট সমাজসেবক মোঃ আবদুল হক।

আনন্দধামের যুগ্ম মহাসচিব বাবু রিপন ভাওয়ালের পরিচালনায় মহাসচিব আজিজুল ইসলাম বাবুর সার্বিক তত্ত্বাবধানে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন আনন্দধামের কর্মকর্তাবৃন্দ সর্ব জনাব তাজিমুল ইসলাম , মতিউর রহমান মুক্তি, শ্যামল দত্ত, এনামুল হক প্রিন্স, আবদুল মান্নান মেম্বার, মোজাম্মেল লিটন, সৈয়দ মোক্তার হোসেন,  হরী শীল, রতন পোদ্দার,  সাধিন,অমল মন্ডল,সজল চকবতি, হাজী হাসান ইমাম, গোলাম মোস্তাফা, রনজীদ,খোকন গাজি, নারায়ন, মনজুর আহমেদ, আবুল খায়ের প্রমুখ। 

প্রধান অতিথি বিচারপতি মীর হাসমত আলী বলেন, জীবন চক্রের সর্বশেষ ধাপ বা পরিণতি হলো বার্ধক্য বা প্রবীণ। বার্ধক্য হচ্ছে জীবনের সবচেয়ে নাজুক ও স্পর্শকাতর অবস্থা। শুধু বয়সের বার্ধ্যকের কারণে প্রবীণরা গুরুত্বহীন অবস্থায় অবমূল্যায়নের জীবন ধারণ করবেন, তা এই সচেতন ও সভ্যসমাজে হতে পারে না। যেহেতু নাগরিক নিরাপত্তা প্রাপ্তি প্রবীনদের রাস্ট্রীয় অধিকার, সেহেতু আমাদের সবাই মিলিত ভাবে কাজ করে প্রবীন নাগরিকদের অধিকার সুনিশ্চিত করতে হবে। 

সম্মানিত অতিথি ব্যারিস্টার আমিরুল ইসলাম তার বক্তব্যে বলেন, আমাদের সমাজ, সংসার, রাষ্ট্র এমনকি পৃথিবীটা বাসযোগ্য হয়েছে যুগে যুগে এই প্রবীণ মানুষগুলোর পরিশ্রমে, তাদের প্রজ্ঞা, বুদ্ধিমত্তায়।আজ যখন বার্ধক্যের কারনে তারা তাদের কর্মক্ষমতা ও উপার্জন ক্ষমতা হারিয়ে ফেলে তখন আমাদের সমাজের দায়বদ্ধতা থাকে প্রবীন নাগরিকদের সমস্থ নাগরিক অধিকার সুনিশ্চিত করতে। 

বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সাবেক প্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল হারুন অর রশিদ বীর প্রতিক তার বক্তব্যে বলেন কারো জীবনের শেষ সময়টা যেন পরিবারহীন বৃদ্ধাশ্রমে না কাটে। আজ যাদের প্রবীণ বলা  হচ্ছে, তাদের জীবনে আমরাও একদিন প্রবেশ করবো। আজকের সন্তান আগামী দিনের পিতা বা মাতা হবে । তাদের জগত আমাদের দেখানো পথেই চলবে। বৃদ্ধাশ্রম যেন কোন বাবা মায়ের ও আমাদের শেষ বয়সের  ঠিকানা না হয়।আমাদের আবহমান বাংলার সংস্কৃতির সাথে এটা মানানসই নয়।

সভার সভাপতি হাসিনা রহমান সিমুর বক্তব্যের পর আনন্দধামের পক্ষ থেকে প্রবীনদের সম্মানে রাতের খাবারে উপস্থিত সাবাকে আমন্ত্রণ জানানো হয়।