আজকাল সবার ছেলেই মাদক খায়, তারাই কিশোর গ্যাং এ পরিনত হচ্ছে- এসপি

সকাল নারায়ণগঞ্জঃ

স্টাফ রিপোর্টার (আশিক)

নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানায় পুলিশের ওপেন হাউজ ডে অনুষ্ঠিত হয়েছে । 

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) বিকালে থানা প্রাঙ্গণে এ অনুষ্ঠান হয়।

এসপি জায়েদুল আলম বলেন, আমাদের সময় দেখতাম স্কুল কলেজের আশেপাশে বখাটে ঘুরতো। হাতে লোহার শিকলসহ নানা কিছু থাকতো তাদের বখাটে বলতাম। এখন এমন যুগে সব ছেলের চুল ডুপ্লেক্স কাটিং।

স্টাইলিশ দাড়িসহ নানা স্টাইল, আর ডিজিটাল ডিভাইস মোবাইল নিয়ে সারাদিন কি যে দেখে বুঝি না।

সকলের চালচলন এক, সমাজের যে ভাল লোক তার ছেলেও এমন। আজকাল সবার ছেলেই মাদক খায়, তারাই কিশোর গ্যাং এ পরিনত হচ্ছে। আমার পুলিশ সদস্যর চুল নিয়ে আমি কমান্ড করি, কেটে আমার কাছে রিপোর্ট করে। বাবা-মা, সমাজ, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সুশীল সমাজকে এগুলো দেখতে হবে। অনেকে আন্দ্রো রাসেলের মুরগী কাটিংয়ের মত চুল কাটে, আরে বাবা তুমি তো আন্দ্রো রাসেল না, মাসরাফির মত দাড়ি কাটিং করে, তুমি তো মাসরাফির মত এমপি ক্রিকেটার না। 

ধর্ষণ সম্পর্কে তিনি বলেন, গত ১০ মাসে ১০টা ধর্ষণ মামলা রেকর্ড করছি৷ এর ৪০ জনই অবিবাহিত নারী যাদের আরেকজনের সঙ্গে সম্পর্ক ছিল কেউ দেখে ফেলায় ধর্ষণ মামলা দেয়া হয়েছে। এরকমই প্রায় ৮৪টা।

বাকি ১৮-২০ টা আছে যেগুলো ধর্ষণ হয়েছে, সেগুলোর মধ্যে এমন একটাও নেই যাদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় দেই নাই। কোন ধর্মে আছে বিয়ের আগে শারীরিক সম্পর্ক করার কথা? ১৮ বছরের নিছে যারা আছে প্রেম করে শারীরিক সম্পর্ক করে পরে সব দোষ পুলিশের হয়। পুলিশ যদি জানতো গিয়ে বলতো কে কে প্রেম করো শারীরিক সম্পর্ক কইরো না।

পরিবার ও সমাজকে আরও দায়িত্বশীল হতে হবে, নয়তো আমার মত ১’শ এসপি দিলেও কিশোর গ্যাং কমবে না। যে ছেলে একাধিক মেয়ের সাথে সম্পর্ক করে যখন কাউকে পায়না জোড় করে তখনই সে ধর্ষণ করে। আমরা যদি ধর্ষণ ও কিশোর গ্যাং মুক্ত করতে না পারি, এটা মহামারী আকার ধারণ করবে।


সমাপনী বক্তব্যে তিনি বলেন, বাংলাদেশ শেখ হাসিনার নেতৃত্বে অনেকাংশে এগিয়ে গেছে। জাতির পিতার আদর্শ যিনি লালন করেন তিনি ধর্ষকদের রক্ষক হতে পারেন না, মাদক ব্যবসায়ী ও কিশোর গ্যাংদের রক্ষক হতে পারেন না। এলাকার মেয়র, এমপি, ডিসিসহ সকলকে নিয়ে আসুন আমরা হকার মুক্ত, কিশোর গ্যাং মুক্ত সমাজ গড়ে তুলি। 


নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ আসাদুজ্জামানের সভাপতিত্বে সভায় বক্তব্য রাখেন নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জায়েদুল আলম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক সার্কেল) মোঃ মেহেদী ইমরান সিদ্দিকী, সিটি কর্পোরেশন ১৫নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর অসিত বরণ বিশ্বাস সহ গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, থানার অন্যান্য অফিসার ও ফোর্সসহ বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।


সভায় হকার, মাদক, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, বাল্যবিবাহসহ আইনশৃঙ্খলা বিষয়ে জনসচেতনতা তৈরি ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে পুলিশের ভূমিকা তুলে ধরা হয়।